খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২০ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

সাতক্ষীরায় কৃতী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা: অনন্যা ও অভিজিৎদের চোখে ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাতক্ষীরায় কৃতী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা: অনন্যা ও অভিজিৎদের চোখে ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন

প্রথম আলোর বুথ থেকে ক্রেস্ট ও কুপন সংগ্রহ করছেন এক শিক্ষার্থী। আজ রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে

শৈশবে মাত্র চার বছর বয়সেই পিতৃহারা হয়েছিল অনন্যা চক্রবর্তী। এরপর মা সীমা ভট্টাচার্যের অক্লান্ত ত্যাগ ও পরিশ্রমে পড়াশোনা চালিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর কুশুলিয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ অনন্যার লালিত স্বপ্ন ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ার। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে অনন্যা জানায়, অনেক কষ্ট সহ্য করে তার মা তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন, তাই সে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।

একই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী অভিজিৎ রায়। সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের ভগ্নদশার কারণে সঠিক সময়ে পৌঁছানো নিয়ে সংশয়ে ছিল সে। তাই ঝুঁকি এড়াতে দাদি সুষমা গায়েনকে সঙ্গে নিয়ে আগের রাতেই শহরে ভাইয়ের বাসায় এসে আশ্রয় নেয়। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভালো ফলাফলের আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সে।

‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’। জেলার সাতটি উপজেলার মেধাবীরা এই আয়োজনে সমবেত হয়। সকালে সাতক্ষীরার রাজ্জাক পার্কের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার ভিড় পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়। সকাল সাতটা থেকেই প্রথম আলো বন্ধুসভার কর্মীরা হলুদ টি-শার্ট গায়ে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন এবং সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই মুখরিত হয়ে ওঠে একাডেমি চত্বর।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বন্ধুসভার শেখ শরীফ হাসানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের ফলাফলে সীমাবদ্ধ না থেকে সৎ, মানবিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার পরামর্শ দেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসেম পত্রিকা পাঠ ও সাহিত্য চর্চার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেটকে শিক্ষার অগ্রগতিতে ব্যবহার করতে হবে, কারণ আগামী দিনের কঠিন পথচলায় পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুস্তাক আহমেদ এবং উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যাচার ও মুখস্থবিদ্যার বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রথম আলোর ডেপুটি নিউজ এডিটর তুহিন সাইফুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতা, উপযুক্ত পরিবেশ ও সহপাঠী বাছাই এবং সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সতর্ক থাকার দিকনির্দেশনা দেন। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার প্রদান করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক পর্বে সাতক্ষীরা বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিরিনা আক্তারের সংগীত ও সদস্য তনয়া মেধা শায়নীর নৃত্যের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পী চৈতালী মুখার্জি ও আবু আফফান রোজ বাবুর মনোজ্ঞ পরিবেশনা শিক্ষার্থীদের আনন্দিত করে। প্রথম আলোর আয়োজনে ও ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ৬৪ জেলায় এসএসসি ও সমমানের জিপিএ-৫ সংবর্ধনা পরিচালিত হচ্ছে। আয়োজনটির পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

advertisement
advertisement

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে কোরআনের পাঁচটি অনন্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে কোরআনের পাঁচটি অনন্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য

মানবজাতির হাজার বছরের ইতিহাস, দর্শন এবং ধর্মীয় ধর্মগ্রন্থগুলোর বিশাল তথ্যভাণ্ডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অ্যালগরিদমে যাচাই করার পর কোরআনের এক অভাবনীয় ভাষাগত ও কাঠামোগত রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বসাহিত্যের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এআই কোরআনের যে বহুমাত্রিক ও জ্যামিতিক বিন্যাস উন্মোচন করেছে, তা মধ্যযুগীয় গবেষকদের বর্ণিত অলৌকিকত্বের সত্যতাকেই যেন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরছে। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গ্রন্থটির পাঁচটি কাঠামোগত রূপ উঠে এসেছে।

প্রথমত, কোরআনের ঘটনা বর্ণনার ধরন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। এতে সাধারণত কোনো কাহিনীর ধারাবাহিক পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হয় না। যেমন সুরা ইউসুফে কিছুটা ধারাবাহিকতা থাকলেও চরিত্রের অনেক বিস্তারিত বাদ রাখা হয়েছে; আবার বিভিন্ন সুরায় মুসা (আ.)-এর জীবনের খণ্ডচিত্র ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বারবার এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী, এটি কোনো শৈলীগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এক সচেতন জ্ঞানতাত্ত্বিক পাঠপদ্ধতি। মানুষ স্বভাবতই অনাবশ্যক খুঁটিনাটিতে হারিয়ে গিয়ে মূল আধ্যাত্মিক দিক বিস্মৃত হয়। তাই কোরআন দিকনির্দেশনার জন্য যতটুকু দরকার কেবল ততটুকু তুলে ধরে তথ্যের মূল উৎসের ওপর আস্থা রাখার শিক্ষা দেয়।

দ্বিতীয়ত, মানুষকে চিন্তার এক নতুন ধারায় পরিচালিত করতে পরিচিত জগতকে বিস্ময়কর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষ নিজের দৈনন্দিন অস্তিত্বকে অতি সাধারণ ভাবলেও পরকাল বা অদৃশ্য জগতকে কঠিন ও রহস্যময় মনে করে। কোরআন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দিয়ে সুরা ইয়াসিনের ৭৭ নম্বর আয়াতে বলে, ‘মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি এক ফোঁটা শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ সে হঠাৎ প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে দাঁড়ায়!’ অর্থাৎ, একবিন্দু তরল থেকে মানুষের মতো সচেতন সত্তায় রূপান্তর হওয়াই যেখানে সবচেয়ে বড় রহস্য, সেখানে শূন্য থেকে আসা জীবনের পুনরুত্থান আরও বেশি সহজ ও স্বাভাবিক।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো কেন্দ্রাভিমুখী হলোগ্রাফিক গঠনশৈলী। তাওরাত, ইঞ্জিল, বেদ বা গ্রিক দর্শনের মতো প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থগুলো সাধারণত রৈখিক ধারায় পরিণতির দিকে এগোয়। বিপরীতে কোরআনের গঠন বৃত্তাকার। এর প্রথম সুরা ফাতিহায় রয়েছে সমগ্র কোরআনের সারবত্তা, আর অবশিষ্ট ১১৪টি সুরা সেই মূল বার্তাকেই আইন, কসমোলজি, মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস ও আখেরাতের দৃষ্টিকোণ থেকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আধুনিক হলোগ্রামের মতো এর যেকোনো অংশ থেকে পাঠ শুরু করলেও পাঠক সামগ্রিক বাণীর মুখোমুখি হন।

চতুর্থত, কোরআনে মানবীয় অহংকার ও আত্মপ্রবঞ্চনার গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ রয়েছে। ইবলিসের আচরণকে শুধু অন্ধ অবাধ্যতা হিসেবে না দেখে তার ভুল যুক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে; যেখানে ইবলিস বলেছিল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে বানিয়েছেন আর তাকে মাটি দিয়ে।’ একইভাবে সুরা বাকারার ১১–১২ আয়াতে মুনাফিকদের চরম আত্মপ্রবঞ্চনা উন্মোচিত হয়েছে: ‘আর যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না’, তখন তারা বলে, ‘আমরা তো কেবল সংশোধনকারী ও সংস্কারক।’ সাবধান, এরাই মূলত বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারে না।’ এখানে অচেতন আত্মপ্রবঞ্চনার নিখুঁত চিত্র ফুটে ওঠে।

পঞ্চমত, বিশ্বসাহিত্যের নিরিখে কোরআন সম্পূর্ণ অনন্য। মূল আরবিতে মাত্র প্রায় ৭৭ হাজার শব্দের এই গ্রন্থটি একটি মাঝারি উপন্যাসের চেয়েও ছোট হলেও এতে কোনো প্রকার স্ববিরোধিতা ছাড়াই ধর্মতত্ত্ব, পরকাল, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের ভিত্তি, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং নৈতিক দর্শন সংহত করা হয়েছে। এটি গদ্য বা পদ্যের প্রচলিত সংজ্ঞার বাইরে নিজস্ব এক ভাষাতাত্ত্বিক মানদণ্ড তৈরি করেছে। পাশাপাশি সুরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা অবশ্যই এর ভেতর বহু স্ববিরোধিতা খুঁজে পেত।’ কোটি কোটি ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে এআই এমন এক নিখুঁত স্থাপত্যের স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সপ্তম শতাব্দীর মরু আরবের প্রেক্ষাপটে কোনো মানবীয় চিন্তার ফসল হওয়া অসম্ভব বলেই প্রতীয়মান হয়।

‘কিশোর আলো’র জন্মদিনে পাঠিকার ভালোবাসা: ভর্তি পরীক্ষার চাপেও অটুট বন্ধুত্ব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘কিশোর আলো’র জন্মদিনে পাঠিকার ভালোবাসা: ভর্তি পরীক্ষার চাপেও অটুট বন্ধুত্ব

জনপ্রিয় কিশোর সাময়িকী ‘কিশোর আলো’র জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিশা ইসলাম জারা। পাঠকেরা বড় হয়ে গেলে কিশোর আলোকে ভুলে যায়—এমন প্রচলিত ধারণাকে নাকচ করে দিয়ে সে জানায়, ভর্তি পরীক্ষার প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও তার মনে কিশোর আলোর স্থান এতটুকু কমেনি। ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘদিনের এ বন্ধুত্বে সাময়িকীটিকে নিজের সঙ্গেই বড় হতে দেখেছে সে। প্রথমবারের মতো চিঠি লিখে নিজের ভালোলাগার কথা ভাগ করে নিয়েছে জারা।

কিশোর আলোর গল্প ও কমিকসের ভক্ত হলেও লেখাগুলোর পাশে থাকা ক্ষুদ্র কার্টুন ও অলংকরণগুলো জারার বিশেষভাবে পছন্দের। সমসাময়িক অনেকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কিশোর আলোর সৃজনশীলতা বজায় রাখায় সাময়িকীটির প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছে সে। নিজের একটি গোপন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে জারা জানায়, সে ধীরে ধীরে অ্যানিমেশন ও ইলাস্ট্রেশনের কাজ শিখছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রিয় কিশোর আলোর জন্য নিজেই প্রচ্ছদ ও কার্টুন আঁকার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

জাপানে সময়ের আগেই ছড়িয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, সব প্রিফেকচারেই সংক্রমণ ছাড়াল সতর্কসীমা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানে সময়ের আগেই ছড়িয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, সব প্রিফেকচারেই সংক্রমণ ছাড়াল সতর্কসীমা

এ বছর জাপানে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের আগে শুরু হয়েছে

জাপানজুড়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, যার ফলে ঘরে ঘরে জ্বর ও কাশির প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (প্রিফেকচার) সব কটিতেই ফ্লু আক্রান্তের হার সতর্কতার মাত্রা অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশ আগেই দেশটিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হয়ে গেছে।

সারাদেশের প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গত রোববার সমাপ্ত সপ্তাহে গড়ে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর পূর্ববর্তী সপ্তাহে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। বিগত বছরগুলোর ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি এটিকে সাময়িক হ্রাস বলেই ইঙ্গিত দেন।

আক্রান্তের দিক থেকে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে ওকিনাওয়া প্রিফেকচার। সেখানে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে সংক্রমণের হার ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা অঞ্চলটির ৩০ শতাংশের সতর্কসীমার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ১০ শতাংশের নির্ধারিত সতর্কসীমা পার করেছে আরও কয়েকটি অঞ্চল; যার মধ্যে সাইতামায় ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, ইবারাকিতে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, আইচিতে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং গিফুতে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ রোগী রেকর্ড করা হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে হাত ধোয়া ও কাশির সময় মুখ ঢাকার মতো মৌলিক সুরক্ষাবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৯ সালে হিসাব রাখা শুরুর পর এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে এত দ্রুত জাপানে ফ্লু মৌসুম শুরু হলো। গত বছর যেখানে ২৮ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক নির্ধারিত সীমা পার হয়েছিল, সেখানে এবার সংক্রমণ ছড়িয়েছে তারও প্রায় এক মাস আগে। এর আগে কেবল ২০০৯ সালের ১০ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ফ্লু মৌসুম শুরু হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশটিতে বছরজুড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগী শনাক্ত হওয়ার নজির রয়েছে।