দিল্লিতে স্বাভাবিক রাখতে হবে মেট্রো ও ইন্টারনেট, কেন্দ্রকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ
পুলিশের ব্যারিকেড ও চেক পয়েন্ট দিয়ে যানবাহন ও হেঁটে মানুষ পার হচ্ছেন। দিল্লির সড়কে আজ রোববারও মানুষের আনাগোনা কম। ১১ অক্টোবর ২০২৬, নয়াদিল্লি
ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ চলাকালে দিল্লির মেট্রো পরিষেবা পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনে সচল রাখা এবং ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা। আজ রোববার দেওয়া এই নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানান, যেকোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ অবশ্যই সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বিধানের আওতায় হতে হবে।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ অবস্থিত ভগবান দাস মার্গে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার দাবিতে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে এই পর্যবেক্ষণ দেন সর্বোচ্চ আদালত। শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেন, দিল্লির এই প্রতিবাদ সম্পর্কিত সকল পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে এবং যাতে কারও কোনো ধরনের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হবে। এর আগে আজ রোববার শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা আদালতকে জানান, গতকাল শনিবার রাজধানীতে কর্মসূচি চলাকালে আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষ পুলিশি বলপ্রয়োগ ও মাত্রাতিরিক্ত বাধানিষেধের মুখে পড়েছেন, যার ফলে তাঁদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এদিকে আটক সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে আজ রোববার দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট থানার এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করার পর জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দলের আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং জানান, আগামী এক বছর ‘শান্তি বজায় রাখবেন’—এমন মুচলেকায় তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। শনিবার সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরের কর্মসূচিতে অংশ নিতে ব্যাঙ্গালুরু থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লি বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তাঁদের তিনজনকে আটক করেছিল পুলিশ।
রোববার ফের যন্তর মন্তরের অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সিজেপি। গতকাল শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় ঘোষণা করা হয়, ‘আমরা পিছু হটছি না। আমরা আগামীকাল (রোববার) আবার যন্তর মন্তরের দিকে পদযাত্রা করব এবং আমাদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করব।’
এর আগে শনিবার জ্ঞানেশ কুমারবিরোধী এই গণবিক্ষোভ রুখতে গোটা দিল্লি কার্যত স্তব্ধ করে দেয় কেন্দ্রীয় প্রশাসন। ওই দিন সাবেক চার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারসহ তরুণ বাম নেত্রী নেহা বোরা, বিশিষ্ট নাগরিক যোগেন্দ্র যাদব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রায় ৭ হাজার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় আজ রোববার সকাল ৬টা থেকে নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির অন্তত ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ও পথ পরিবর্তন কার্যকর করেছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। সংশ্লিষ্ট রুটে রেলস্টেশন, বিমানবন্দর ও আন্তরাজ্য বাস টার্মিনালগামী (আইএসবিটি) যাত্রীদের বাড়তি সময় নিয়ে বের হতে ও অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত সিজেপির অভিযোগ, সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে জালিয়াতি করা হচ্ছে; তবে প্রয়োজনীয় পূর্বঘোষণা না থাকা ও নিরাপত্তার অজুহাতে সংগঠনটিকে প্রতিবাদের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ।





আপনার মতামত লিখুন