খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ২:২৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

২০২৭ সালের নভেম্বরে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: তিস্তা নদী অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করা এবং উত্তরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সম্প্রতি লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২০২৭ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মেগা প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে নানা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন। নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি প্রকল্পটি নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং এর সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজও প্রায় শেষের পথে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন পেলে এই উদ্যোগটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে দেশি ও বিদেশি একদল খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ যুক্ত রয়েছেন বলে জানান ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন যে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা সিইজিআইএস, নদী কমিশন এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে এই সব পরামর্শ একত্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরির কাজ চলমান রয়েছে, যার জন্য আরও কিছু সময় প্রয়োজন।

প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন। এর মাধ্যমে তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের অভিশাপ নদীভাঙন, প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান মিলবে এবং উত্তরাঞ্চলের আর্থসামাজিক অবস্থার অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটবে। পরিদর্শনকালে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
advertisement

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নিষিদ্ধ দলের ষড়যন্ত্র সফল হবে না: মাহদী আমিন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নিষিদ্ধ দলের ষড়যন্ত্র সফল হবে না: মাহদী আমিন

শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নিষিদ্ধ দলের ষড়যন্ত্র সফল হবে না: মাহদী আমিন

জাতীয় ডেস্ক: তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল কিংবা অপশক্তিকে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, একটি মহল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প খাতে নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। অথচ দেশের অর্থনীতি এবং লাখ লাখ শ্রমিকের জীবন-জীবিকা এই খাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই শ্রমিকের স্বার্থ রক্ষায় এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বদ্ধপরিকর।

পোশাকশিল্পের পটভূমি তুলে ধরে মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই মূলত বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পের যুগান্তকারী যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও নারীর ক্ষমতায়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তী সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারও এই খাতের টেকসই বিকাশ এবং শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্রমিকবান্ধব সরকার বর্তমানে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন উৎসবের সময়ে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করে আসছে।

শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে বর্তমান সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে বলে জানান এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্পের সার্বিক সক্ষমতা, উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের বিষয়গুলো মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিল্প খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, পতিত স্বৈরাচারের দোসর ও সহযোগীরা বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিয়ে এবং নাশকতার পথ বেছে নিয়ে শ্রমিকদের যৌক্তিক বেতনের দাবিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত করছে। বিশেষ করে কারখানায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা পুলিশের গাড়ি ও সরকারি স্থাপনায় আক্রমণের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই শ্রমিকদের প্রকৃত কল্যাণের সঙ্গে যায় না, বরং এটি সম্পূর্ণ শ্রমিক স্বার্থবিরোধী।

এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে থাকা পলাতক অপশক্তির নানা অপতৎপরতার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সরকারের হাতে রয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে গেলে দিনশেষে সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে পড়বেন সাধারণ শ্রমিকরাই। এর ফলে দেশে বেকারত্ব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিও মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সন্ত্রাস, ভাঙচুর ও শিল্প ধ্বংসের সব অপচেষ্টা শক্ত হাতে দমন করা হবে। নাশকতার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করা হবে।

সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তি কিংবা উসকানিতে কান না দিয়ে সংযত থাকতে হবে। তৈরি পোশাকশিল্পের সামগ্রিক বাস্তবতা এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে যেকোনো যৌক্তিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার সবসময় শ্রমিকদের পাশে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। শ্রমিকদের ঘামে গড়া এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে ‘পলাতক অপশক্তির’ অস্থিরতা সৃষ্টির প্রমাণ এসেছে: মাহদী আমিন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে ‘পলাতক অপশক্তির’ অস্থিরতা সৃষ্টির প্রমাণ এসেছে: মাহদী আমিন

শ্রমিক আন্দোলনে ঢুকে ‘পলাতক অপশক্তির’ অস্থিরতা সৃষ্টির প্রমাণ এসেছে: মাহদী আমিন

জাতীয় ডেস্ক: দেশের চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহদী আমিন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের দাবিদাওয়ার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ মহল দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করা হয়।

মাহদী আমিন সম্প্রতি এক বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন যে শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে লুকিয়ে থাকা পলাতক রাজনৈতিক অপশক্তি দেশে নতুন করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের ক্ষোভের সুযোগ নিয়ে অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে এসেছে। অতীতে যেসব রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে, তারা এখনো নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জাতীয় অর্থনীতিকে দুর্বল করতে এবং দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করতেই এই ধরনের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ধরনের কোনো অপত্পরতা সফল হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মাহদী আমিন। দেশের জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সব ধরনের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছে এবং যেকোনো মূল্যেই এ ধরনের চক্রান্ত প্রতিহত করা হবে। সাধারণ শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবিগুলোর দ্রুত সমাধান করার পাশাপাশি তাদের ভুল পথে পরিচালিত করার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। শ্রমিক ভাইবোনদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন তারা কোনো ধরনের প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই অব্যাহত রাখেন।

দেশের চলমান সংকট উত্তরণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কলকারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে মালিক পক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা চলছে। কোনো কুচক্রী মহল যাতে বহিরাগত উসকানি দিয়ে শ্রম বাজার অস্থিতিশীল করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি সচল রাখতে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

সনদ অর্জনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে: জবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সনদ অর্জনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে: জবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সনদ অর্জনের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে গবেষণায় মনোযোগ দিতে হবে: জবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সনদ সর্বস্ব মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল চাকরি পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং এগুলোকে মুক্তচিন্তা ও গবেষণার আসল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জ্ঞানভিত্তিক জনশক্তি তৈরির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশের বিশাল একটি জনগোষ্ঠী বর্তমানে শিক্ষিত বেকারত্বের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। শুধু প্রথাগত সনদ অর্জনের মাধ্যমে একটি জাতির সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাই শিক্ষার গুণগত মানে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর পাস করা সব শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার পেছনে না ছুটে কারিগরি ও দক্ষতানির্ভর শিক্ষায় মনোনিবেশ করার তাগিদ দেন তিনি।

বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো আধুনিক প্রযুক্তিগুলো ভবিষ্যৎ বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসব সমসাময়িক প্রযুক্তি নিয়ে কতটা গবেষণা ও জ্ঞানচর্চা করছে, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে দেশের জনশক্তিকে আরও বেশি প্রশিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের পর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা লাভ করে। কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটসহ অন্যান্য দাবিগুলোর বিষয়ে সরকার ইতিবাচক রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তবে যৌক্তিক দাবির পক্ষে কথা বললেও অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে জাতির জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্র যত বেশি বিস্তৃত, সে জাতির অগ্রগতির সম্ভাবনাও তত বেশি প্রখর। আগামী একশ বছরের লক্ষ্য সামনে রেখে তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে এবং দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে।