খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জনবলসংকটে ৫ বছরেও চালু হয়নি ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জনবলসংকটে ৫ বছরেও চালু হয়নি ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ

জনবলসংকটে ৫ বছরেও চালু হয়নি ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ

স্বাস্থ্য ডেস্ক: ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়নি। মুমূর্ষু রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় ছয় শয্যার আইসিইউ ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাগার থেকে ভেন্টিলেটর ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ কোটি টাকার মূল্যবান চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ করা হলেও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে তা তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বছরের পর বছর এই সেবা বন্ধ থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো অব্যবহৃত থেকে অকেজো হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং সাধারণ রোগীরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই ইউনিটে নিয়মিত সেবা পরিচালনার জন্য ন্যূনতম যে ধরনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং সহায়ক জনবল প্রয়োজন, তার তীব্র সংকট রয়েছে। ফলে ২০২১ সালের জুলাই মাসে সরঞ্জাম এসে পৌঁছানোর পরও এখন পর্যন্ত ইউনিটটি চালু করা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, হাসপাতালে আইসিইউ সেবা না থাকায় ভোলা জেলার মুমূর্ষু রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাধ্য হয়ে ঢাকা কিংবা বরিশালের হাসপাতালে ছুটতে হয়। প্রায়ই বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসকষ্ট ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের সঠিক সময়ে আইসিইউ সেবা না পেয়ে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হয়, যা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি হাসপাতালের এই দুর্দশার প্রতিবাদে এবং দ্রুত আইসিইউ ও সিসিইউ চালুর দাবিতে সাধারণ মানুষ ও রোগীর স্বজনেরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। স্থানীয় এক ভুক্তভোগী জানান, সময়মতো আইসিইউ সেবা না পাওয়ার কারণে তাঁর অসুস্থ বাবাকে হারাতে হয়েছে এবং এমন মর্মান্তিক পরিস্থিতির শিকার যেন আর কাউকে হতে না হয়। আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে অন্য এক স্বজন জানান, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত তাঁর এক আত্মীয়কে ভোলা থেকে বরিশালে নেওয়ার পথেই অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু হয়েছিল। সাধারণ মানুষের এমন অসংখ্য অভিযোগ ও আকুতি সত্ত্বেও জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আইসিইউ ইউনিটের প্রধান কাচের দরজায় বড় দুটি তালা ঝুলছে এবং ভেতরে থাকা আধুনিক শয্যাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে ধুলাবালুর আস্তরণ জমেছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোড় আরাফাতুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আইসিইউ সেবা না থাকায় প্রায়ই গুরুতর রোগীদের অন্য জেলায় রেফার করতে হচ্ছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান জানিয়েছেন, জনবল সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে আইসিইউ ইউনিটটি চালু করা না হলে সরকারের কোটি টাকার এই চিকিৎসাসামগ্রী পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

advertisement
advertisement

যকৃৎ প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা: জীবন বাঁচাতে আর্থিক সহায়তা চান শিক্ষক সাধন চক্রবর্তী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যকৃৎ প্রতিস্থাপনে প্রয়োজন ৫০ লাখ টাকা: জীবন বাঁচাতে আর্থিক সহায়তা চান শিক্ষক সাধন চক্রবর্তী

সাধন চক্রবর্তী

মারাত্মক লিভার সিরোসিস ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন নোয়াখালীর মাইজদী বালিকা বিদ্যানিকেতনের ৪৩ বছর বয়সী শিক্ষক সাধন চক্রবর্তী। ভারতের দিল্লির চিকিৎসকেরা তাঁকে অনতিবিলম্বে যকৃৎ প্রতিস্থাপনের তাগিদ দিয়েছেন। এই জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁর স্ত্রী সম্ভাব্য অঙ্গদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই চিকিৎসার পেছনে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। দীর্ঘদিন ধরে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

এমতাবস্থায় নিজের জীবন রক্ষার্থে সমাজের সর্বস্তরের হৃদয়বান ও বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রতি জরুরি আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন সাধন চক্রবর্তী। তাঁকে সহযোগিতা করার বিস্তারিত তথ্য—হিসাবের নাম: সাধন চক্রবর্তী, হিসাব নম্বর: ৪৯০৮১০১০০২৫৪০, রাউটিং নম্বর: ১৭৫৭৫১৫৪৭, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, মাইজদী বাজার শাখা। এ ছাড়া বিকাশ ও নগদ সেবার মাধ্যমে অর্থ পাঠানো যাবে এই নম্বরে: 01717589193।

লোকসংগীতের গ্রাম সিংহীমারী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লোকসংগীতের গ্রাম সিংহীমারী

লোকসংগীতের গ্রাম সিংহীমারী

ফিচার ডেস্ক: কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়কের ছিনাই বাজার থেকে একটু ভেতরে প্রবেশ করলেই সবুজে ঘেরা বৈদ্যেরবাজার সিংহীমারী গ্রামে কান পাতলে ভেসে আসে শিশুদের কণ্ঠে লালনগীতির সুর। স্থানীয় সংগীতজ্ঞ নারায়ণ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে নিয়মিত বসে এই লোকসংগীতের আসর, যা স্থানীয়ভাবে সেবালয় গুরুগৃহ হিসেবে পরিচিত। এখানে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকবাদ্যযন্ত্রের তালে তালে কচিকাঁচাদের গান শেখানোর এক অনন্য কর্মযজ্ঞ চলছে। হারিয়ে যেতে বসা লোকসংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বাঁচিয়ে রাখতে দীর্ঘ এক দশক ধরে এই উদ্যোগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সেবালয় গুরুগৃহ ছাড়াও মায়ের তরী নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে বর্তমানে মোট নয়টি গুরুগৃহ পরিচালিত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে প্রতি ছুটির দিনে শিশু-কিশোরদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দোতারা, একতারা, বাঁশিসহ বিভিন্ন লোকবাদ্যযন্ত্র ও লোকসংগীতের তালিম দেওয়া হয়। নরওয়ের লোকগবেষক উয়েরা সেথেরের অনুপ্রেরণায় এবং স্থানীয় সংস্কৃতিসেবীদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সংগঠনটি গড়ে উঠেছে। মূলত গ্রামীণ সংস্কৃতির গভীর জীবনদর্শন ও মানবিক শিক্ষা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এই গুরুগৃহগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

স্বেচ্ছাশ্রম ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে এই কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অর্থসংকট ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব এর বড় চ্যালেঞ্জ। বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ, মেরামত এবং প্রশিক্ষকদের সম্মানী দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায়ই নানামুখী অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় আয়োজকদের। তা সত্ত্বেও গুরুদের আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের প্রবল আগ্রহের কারণে এই লোকসংগীতের চর্চা থেমে থাকেনি। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছেন।

মায়ের তরী সংগঠনের পক্ষ থেকে লোকসংস্কৃতি রক্ষায় বেশ কিছু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রান্তিক ও অবহেলিত প্রবীণ শিল্পীদের জন্য একটি আনন্দ আশ্রম প্রতিষ্ঠা, উত্তরাঞ্চলের লোকসংগীত ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ লোকসংগীত ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে। সংগঠকদের মতে, লোকসংস্কৃতি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি জাতির ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই এই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের পেছনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইন্ধন দেখছে সরকার

রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের পোশাক শিল্প খাতে চলমান সংকট নিরসনে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলেও রাজধানী ঢাকা ও তার আশপাশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক বিক্ষোভ এবং ভাংচুরের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। এমন এক অস্থির ও থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে গত রোববার রাতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের শীর্ষস্থানীয় নীতিনির্ধারকদের এই বৈঠকে সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের পেছনের কারণ এবং এর নেপথ্য চক্রান্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মন্ত্রী অংশ নেন, যার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে মূলত শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির আড়ালে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মহল পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে গভীর পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহল থেকে জানানো হয় যে, সাধারণ শ্রমিকদের অসন্তোষকে পুঁজি করে এবং তাদের কাঁধে ভর দিয়ে দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে এই সহিংসতা ও ভাংচুরের ইন্ধন জুগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মতে, পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে দেশে একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র চলছে এবং এর পেছনে ওই রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মন্ত্রীরা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে মত দেন।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ করার এবং যেকোনো সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানানো হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সহজে শান্ত হচ্ছে না। সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার আন্তরিক থাকলেও স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি এই খাতটি বর্তমানে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার এখন একদিকে যেমন শ্রমিকদের দাবি দাওয়া পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি এই নাশকতার পেছনে জড়িত কুশীলবদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও জোরদার করেছে।