খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

দ্রুত রাকসু নির্বাচন দাবি ছাত্র সংগঠনগুলোর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দ্রুত রাকসু নির্বাচন দাবি ছাত্র সংগঠনগুলোর

দ্রুত রাকসু নির্বাচন দাবি ছাত্র সংগঠনগুলোর

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে গত বছর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরও পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এমন প্রেক্ষাপটে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার জোরালো দাবি জানিয়েছেন সদ্য সাবেক ছাত্র সংসদ নেতারা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গত বছরের জুলাই মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে অক্টোবরের মাঝামা সময়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ওই নির্বাচনে বিজয়ী প্যানেলের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা এবং প্রক্রিয়াটিকে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করা। তবে বর্তমান কমিটির এক বছরের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। রাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মেয়াদ দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে এক বছর হলেও পরবর্তী ভোট আয়োজনের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান জানিয়েছেন যে নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি পুরোপুরি উপাচার্যের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। সম্প্রতি উপাচার্য তাকে পূর্ববর্তী নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছিলেন এবং তিনি সেই অনুযায়ী প্রতিবেদন প্রদান করেছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে কিছু প্রক্রিয়া শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র চাপ না থাকলে এই বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হতো না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। তবে শুধু প্রাথমিক আলোচনা বা প্রতিবেদন প্রস্তুত করাই যথেষ্ট নয়, একটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে যে ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক প্রস্তুতি প্রয়োজন তার কিছুই এখনো শুরু হয়নি।

সদ্য সাবেক রাকসু নেতারা জানিয়েছেন যে তারা নিয়মিতভাবে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত একটি অধিবেশনে উপাচার্য কোষাধ্যক্ষকে নির্বাচনী তফসিল প্রণয়ন ও গঠনতন্ত্র সংস্কারের বিষয়ে দ্রুত হালনাগাদ তথ্য জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সাবেক ছাত্র সংসদ নেতাদের একটি অংশের আশঙ্কা, প্রশাসন হয়তো কোনো বিশেষ মহলের ইঙ্গিতের অপেক্ষায় রয়েছে অথবা টালবাহানা করে নির্বাচন বিলম্বিত করার পথ খুঁজছে। তাদের মতে, শিক্ষার্থীরা যে নিয়মিত নির্বাচন চায় তা গতবারের ভোটাভুল ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তাই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা উচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন যে প্রশাসন সব সময়ই ছাত্র সংসদ সচল রাখার পক্ষে এবং নির্বাচন নিয়ে তাদের ইতিবাচক ভাবনা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র সময় পেরিয়ে গেলেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব নয়, এর জন্য ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ ও অনুকূল পরিস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলেই কেবল পরবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এদিকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারাও মনে করছেন যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে রাকসুর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার দাবি জানিয়ে বলেছেন যে ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

advertisement
advertisement

চলতি বিজ্ঞপ্তিতে চাকরি পাবেন ৬ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই পদ অনুমোদন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চলতি বিজ্ঞপ্তিতে চাকরি পাবেন ৬ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই পদ অনুমোদন

চলতি বিজ্ঞপ্তিতে চাকরি পাবেন ৬ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই পদ অনুমোদন

ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে বিশাল পরিসরে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় পুলিশের বিভিন্ন পদে বড় ধরনের নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কনস্টেবল এবং উপপরিদর্শক বা এসআই পদে মোট চৌদ্দ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের বড় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলমান ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল বা টিআরসি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রায় ছয় হাজার কনস্টেবল চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাবেন। বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে দুই হাজার কনস্টেবল পদ শূন্য রয়েছে এবং নতুন করে আরও দশ হাজার পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাবের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় বর্তমান বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই শূন্য পদ এবং নতুন প্রস্তাবিত পদ মিলে মোট ছয় হাজার প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপের এই নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ার পর বাকি ছয় হাজার কনস্টেবল পরবর্তীতে আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নেওয়া হবে।

কনস্টেবল নিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে যার মধ্যে রয়েছে প্রিলিমিনারি স্ক্রিনিং, শারীরিক মাপ ও সহনশীলতা পরীক্ষা, লিখিত এবং মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা। গত কিছুদিন আগে এই পদের অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে এবং চূড়ান্তভাবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীরা নির্বাচিত হবেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বাছাইয়ের কোনো পর্যায়ে কোনো ধরনের অসদুপায় বা ভুয়া তথ্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে।

কনস্টেবল পদের পাশাপাশি পুলিশে সরাসরি চার হাজার উপপরিদর্শক বা এসআই পদে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিব কমিটির সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে এবং সরাসরি নিয়োগের সুবিধার্থে পুলিশ প্রবিধান বা পিআরবি সংশোধন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এতদিন অর্ধেক পদ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হলেও এবারই প্রথম শতভাগ পদে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীতে এসআই ও কনস্টেবল মিলিয়ে চৌদ্দ হাজার নতুন জনবল যুক্ত করার এই প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও গোয়েন্দা যাচাই নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ঢাকায় পাসের হার ৭৯%, মানিকগঞ্জে ৩৮%, এইচএসসির ফলে শহর-গ্রামে বড় বৈষম্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢাকায় পাসের হার ৭৯%, মানিকগঞ্জে ৩৮%, এইচএসসির ফলে শহর-গ্রামে বড় বৈষম্য

ঢাকায় পাসের হার ৭৯%, মানিকগঞ্জে ৩৮%, এইচএসসির ফলে শহর-গ্রামে বড় বৈষম্য

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্থাৎ এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে শহর ও গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এক গভীর বৈষম্য প্রকট হয়ে উঠেছে। প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় পাসের হার ও ভালো ফলের প্রবণতা যতটা সন্তোষজনক, মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলে তা বেশ হতাশাঞ্জক। বিশেষ করে দেশের কিছু জেলার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এই ব্যবধান আরও স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে, যা নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যেও নতুন করে চিন্তার উদ্রেক হয়েছে।

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এর সঙ্গে মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল যুক্ত করলে শীর্ষ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে এই সাফল্যের বড় একটি অংশই এসেছে শহরাঞ্চলের বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যেখানে পাসের হার এবং জিপিএ অর্জনের হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকে।

রাজধানী ঢাকায় এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৭৯ শতাংশের কাছাকাছি, যা দেশের সামগ্রিক গড়ের তুলনায় বেশ উঁচুতে অবস্থান করছে। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগেরই একটি জেলা মানিকগঞ্জে এই পাসের হার নাটকীয়ভাবে নেমে মাত্র ৩৮ শতাংশে ঠেকেছে। একই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে শহর ও গ্রামের এই বিশাল পাসের হারের ব্যবধান প্রমাণ করে যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট এবং সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এখনও বিরাট ফারাক রয়ে গেছে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণের অভাব, দক্ষ শিক্ষকের স্বল্পতা এবং গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক অবস্থা এই বৈষম্য তৈরির প্রধান কারণ। কেবল পাসের হারের এই ব্যবধান দূর করতে না পারলে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত উন্নতি অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে তারা সতর্ক করেছেন। তাই শিক্ষা প্রশাসনকে এখন মফস্বল ও গ্রাম অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

ইসরাইলের রাজনীতিতে নয়া আতঙ্ক ‘আরব ভোট’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৮:০১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইসরাইলের রাজনীতিতে নয়া আতঙ্ক ‘আরব ভোট’

ইসরাইলের রাজনীতিতে নয়া আতঙ্ক ‘আরব ভোট’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত সাধারণ নির্বাচনে আরব ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর অভাবনীয় সাফল্য দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম নামের দল দুটি মিলে নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে জয়লাভ করেছে। ইসরাইলের পার্লামেন্টের ইতিহাসে এটি ফিলিস্তিনি আরবদের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন অর্জনের রেকর্ড। এর আগের নির্বাচনে তারা তুলনামূলক কম আসন পেলেও এবারের নির্বাচনে তারা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরগুলোকে পেছনে ফেলে রাজনৈতিক ময়দানে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এই ঘটনাকে নির্বাচনি রাজনীতিতে একপ্রকার ভূকম্পনের সঙ্গে তুলনা করেছে এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর এই উত্থান পুরো রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলি নির্বাচনে আরব ভোটারদের উপস্থিতি কমতির দিকে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অতীতে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও সর্বশেষ নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপস্থিতি জাতীয় গড়ের হারকেও ছাড়িয়ে গেছে। মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক হওয়ায় তাদের এই বিপুল ভোটদান ইসরাইলের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলছে। কট্টর ডানপন্থি সরকারের বর্ণবাদী নীতি এবং আরববিদ্বেষী মনোভাবের তীব্র ক্ষোভ থেকেই মূলত ভোটাররা দলে দলে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছেন। নেতানিয়াহু প্রশাসনের বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং অপরাধমূলক নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি নাগরিকরা এবার ব্যালটের মাধ্যমেই জোরালো জবাব দিয়েছেন।

নির্বাচনে আরব ভোটারদের এই উচ্চ উপস্থিতির কারণে প্রধান দুই ইহুদি জোটের কেউই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি, যা সরকার গঠনের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। নেতানিয়াহুর জোট কিংবা বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট—কারো পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘কিংমেকার’ বা নির্ণায়ক ভূমিক অবতীর্ণ হয়েছে। আইজেনকোটের সামনে কয়েকটি বিকল্প পথ খোলা থাকলেও আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়া কিংবা স্বাধীন কোনো তদন্ত কমিটি গঠনের মতো বিষয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ও তার কট্টর ডানপন্থি মিত্ররা আরব দলগুলোর এই রাজনৈতিক সাফল্যকে মেনে নিতে পারছে না এবং একে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। লিকুদ পার্টি আরব অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে কারচুপির ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে এবং ফিলিস্তিনি দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারকে প্রথম দিন থেকেই অবৈধ ঘোষণা করার হুমকি দিয়ে আসছে। তা সত্ত্বেও ইসরাইলি রাজনীতিতে আরব দলগুলোর এই ঐতিহাসিক সাফল্য প্রমাণ করে যে, দেশের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপেক্ষা করার দিন শেষ হয়ে এসেছে। আগামী দিনে নতুন সরকার গঠন কিংবা রাজনৈতিক দরকষাকষিতে এই আরব ভোটই ইসরাইলের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।