পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারির পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার। সংবিধানের নিরাপত্তাবিষয়ক দুটি ধারার (অনুচ্ছেদ ২৩২ ও ২৩৪) ওপর ভিত্তি করে রোববার এই ঘোষণা কার্যকর করা হয়। এর ফলে কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নিয়ন্ত্রিত প্রাদেশিক প্রশাসনের কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং সেখানে গভর্নরের শাসন কার্যকর হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি নিশ্চিত করেন যে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকের সুপারিশে তিনি স্বাক্ষর ও অনুমোদন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মন্ত্রিসভা দেখতে পেয়েছে যে প্রাদেশিক প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে।
কারাগারে থাকা নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআই নেতাকর্মীরা গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেছিলেন। গতকাল শনিবার ছিল এই কর্মসূচির সপ্তম দিন এবং লংমার্চটি তখনো প্রদেশটির সীমানার ভেতরেই অবস্থান করছিল। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছিলেন যে জরুরি অবস্থা এড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
এর আগে ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে আইওয়ান-ই-সদরে (প্রেসিডেন্ট ভবন) প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সাথে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফেডারেল মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিবেদন এবং সরকারি প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় অবশেষে প্রেসিডেন্ট এই নথিতে অনুমোদন দেন। অন্যদিকে, পিটিআই কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে যে, খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা কিংবা গভর্নরের শাসন জারি করে কোনো সংকটেরই সুরাহা করা যাবে না।