কেবলমাত্র লিখিত বিবরণের মাধ্যমেই ছবি, ভিডিও বা সংগীত তৈরির আধুনিক প্রযুক্তিকে জেনারেটিভ এআই (জেন এআই) বা তৈরিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলা হয়ে থাকে। আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদার চিত্রশিল্পী কিংবা দামি সফটওয়্যার ও উপকরণের দরকার পড়ত, এখন তা এ প্রযুক্তির মাধ্যমেই সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এই প্রযুক্তির সুযোগ গ্রহণ করেছিলেন রোহান নামের এক ক্ষুদ্র দোকানি। কোনো এক বিকেলে নতুন পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য দক্ষ আলোকচিত্রী নেওয়ার মতো বাড়তি অর্থ তাঁর কাছে ছিল না। অথচ ঈদের প্রাক্কালে মানসম্মত ছবি ছাড়া প্রচারণা চালানো মানেই ছিল অর্থের অপচয়। বন্ধুর পরামর্শ মেনে তিনি একটি জেনারেটিভ এআই টুলের সাহায্যে নামমাত্র বা প্রায় শূন্য ব্যয়ে চোখধাঁধানো পণ্যের ছবি প্রস্তুত করেন। এর ফলে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর ব্যবসায়ের বিক্রি অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যায়।
তবে এই সহজলভ্য প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। অনেকেই এখন প্রকৃত শিল্পীদের নিজস্ব সৃজনশীল শৈলী হুবহু অনুকরণ করে নিজেদের নামে প্রচার করছেন, যা বিশ্বব্যাপী স্বত্বাধিকার বা কপিরাইট লঙ্ঘনের বড় সংকট তৈরি করেছে। বিশ্বের বহু দেশে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি বিরোধও শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, বাস্তব শিল্পীদের ভবিষ্যৎ কি তবে সংকটাপন্ন? বিষয়টি আসলে এতটা সহজ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত একটি কার্যোপযোগী মাধ্যম বা হাতিয়ার মাত্র, তা কখনোই শিল্পীর বিকল্প বা প্রতিস্থাপন হতে পারে না।
লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর