সরকারের পক্ষ থেকে বিধবা কার্ড বা এর আর্থিক সুবিধা দেওয়া হলেও সংসদ সদস্যের স্ত্রীই তা সবার আগে চেয়ে বসবেন বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছিল জাতীয় ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা।
দেশের চলমান বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে সংবর্ধনা সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, সম্প্রতি চাকরির মতো প্রক্রিয়ায় সারের ডিলারশিপ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যেখানে এমপির ছেলে, মেয়ে এবং শ্যালিকাও ডিলার হয়েছেন। এমনকি বিধবা কার্ডের ভাতা প্রদান করা হলেও পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে এমপির স্ত্রী সবার আগে এসে নিজের জন্য একটি কার্ড দাবি করবেন।
বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যে উপাচার্যকে কোনো শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা সহকর্মী মেনে নিচ্ছেন না, তিনি ছাত্রদলের কতিপয় সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নির্লজ্জভাবে নিজ আসন দখল করেছেন। সরকার তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পাঠদান ও ক্লাসে অংশ নেওয়া বর্জন করেছেন এবং তিনি প্রায় এক মাস ধরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অবস্থান করে অনলাইনে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেছেন। এ ধরনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির ন্যূনতম আত্মমর্যাদাবোধ থাকা উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির এই সংগঠক বলেন, সমাজে এ জাতীয় মানসিক অবক্ষয় ঘটছে। যাঁরা শিক্ষা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চেয়ে ব্যক্তিগত পদ-পদবিকে বড় করে দেখেন, তাঁদের বিষয়ে নতুন প্রজন্মকে সজাগ থাকতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক জোবায়ের সরদার এবং নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন।