চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে তারেক হোসেন (২৬) নামের এক যুবদল কর্মী প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাফসির আলম (২২) নামের অপর এক কর্মী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয়ের সামনে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. জাবেদ নামের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
নিহত তারেক হোসেন সীতাকুণ্ডের মধ্যম মাহমুদাবাদ এলাকার কুরবান আলীর বাড়ির বাসিন্দা এবং আহত তাফসির আলম একই ইউনিয়নের অলিনগর এলাকার ইউসুফের ছেলে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, হতাহত দুজনই যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেনের রাজনৈতিক অনুসারী। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে তারেক ও তাফসির একটি মোটরসাইকেলে করে সাদ্দাম হোসেনের কার্যালয়ে এসে পৌঁছান। সে সময় কার্যালয়ের সম্মুখে অন্তত ১৩ জন মানুষ অবস্থান করছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়, যদিও ভিডিওতে গুলির দৃশ্যটি সরাসরি দেখা যায়নি।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার প্রথম আলোকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাতে তারেক হোসেনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয় এবং তাঁর মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে; অপর আহত তাফসির আলম চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, যুবদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পূর্বশত্রুতার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী ওই দুজনকে অতি কাছ থেকে গুলি করা হয়। তিনি আরও জানান, হামলার পর দুর্বৃত্তরা হতাহতদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা চালালে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে সেটি উদ্ধার করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতেও অভিযান চলছে।