এলাকার মোড়ে চায়ের দোকানে বসে এক কাপ লিকার-চা সামনে নিয়ে উদ্বেগের সঙ্গে পা নাচাচ্ছিলেন পল্টুদা। স্থানীয় আবদুল্লাহপুরের কাউন্সিলর কাশেম ব্যাপারীর যাবতীয় বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই পল্টুদা। তবে সম্প্রতি তাঁদের দুজনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হওয়ার গুঞ্জন চলছিল। সকালে নাশতার সুবিধা নেওয়ার আশায় সেখানে উপস্থিত হয়ে পল্টুদার উদ্বেগের কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, তাঁর জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে। পারিবারিক অশান্তি নয়, বরং কাউন্সিলরের সঙ্গে জটিলতাই তাঁর এই দুশ্চিন্তার মূল কারণ। ব্যাপারীর বহু গোপন নথিপত্র পল্টুদার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে কয়েক দিন আগে স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রাচীর ঘেঁষে ব্যাপারীর মূত্রত্যাগের দৃশ্যটি প্রয়োজনে কাজে লাগানোর উদ্দেশে ক্যামেরাবন্দী করে রেখেছিলেন তিনি।
বিপত্তি ঘটে আগের রাতে জসিমের বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার-দাবারের অনিয়মজনিত অসতর্কতায়। পল্টুদা অসচেতনভাবেই সেই আপত্তিকর ছবিটি ফেসবুকে আপলোড করে ক্যাপশন জুড়ে দেন, ‘কাশেম ব্যাপারীর উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে আবদুল্লাহপুর!’ সকালে সম্বিৎ ফিরে পেয়ে তিনি দ্রুত পোস্টটি মুছে ফেললেও ততক্ষণে চরম বিপর্যয় ঘটে গেছে। মাঝরাতে ওই পোস্ট দেখার পরপরই স্ট্রোক করেন ব্যাপারী এবং তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। ব্যাপারীর মৃত্যু হলে কারাদণ্ড নিশ্চিত জেনে পল্টুদা মুক্তির উপায় হিসেবে মফিজের পরামর্শ চান। পরিস্থিতি সামাল দিতে মফিজ তাঁকে ফেসবুকে লাইভে এসে আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি তোলার বুদ্ধি দেন। বিরোধীদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ব্যাপারীর ভূয়সী প্রশংসা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উপায়ান্তর না দেখে পল্টুদা ফেসবুক লাইভে এসে বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করার পাশাপাশি ষাট বছর বয়সী কাউন্সিলরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। লাইভ চলাকালেই নোটিফিকেশন ভেসে ওঠে, ‘কাশেম ব্যাপারী (কাউন্সিলর আবদুল্লাহপুর) ইজ ওয়াচিং ইয়োর লাইভ’। লাইভ সম্পন্ন করে স্বস্তি নিয়ে দুজনে ডিম ছাড়া জনপ্রতি ৩০ টাকার স্থানীয় বিরিয়ানি খেতে বসেন (যেখানে ডিমসহ মূল্য ছিল ৪০ টাকা)। খাওয়ার মধ্যেই বন্ধু বুলবুলের একটি সংক্ষিপ্ত ফোনকল আসে। বুলবুল জানায়, কাউন্সিলর কাশেম ব্যাপারী শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। জীবন থেকেই তাঁর স্থায়ী বিচ্ছেদ ঘটার খবর শুনে মফিজ পল্টুদাকে সতর্ক করে দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে যাওয়ার তাগিদ দেন।