ঘটনাটি গত বছরের শেষভাগের। স্কুল থেকে ফিরে গোসল সেরে বের হতেই মনে পড়ল, সোমার একটি জরুরি বার্তা পাঠানোর কথা ছিল। সেটি পড়তে মোবাইল ফোনের খোঁজে চার্জ দেওয়ার জায়গায় গিয়ে দেখি সেটি উধাও। ফোনটি নিজে থেকে কোথাও চলে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই ঘরের কেউ একজন এটি সরিয়েছেন তা বুঝতে দেরি হয়নি।
সোজা মায়ের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করলাম, ‘আম্মু, তুমি কি আমার ফোনটা দেখেছ, নাকি নিয়েছ?’ মা সরাসরি তা অস্বীকার করলেও আমি নিশ্চিত ছিলাম কাজটি তিনিই করেছেন। মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের বাজে অভ্যাস শুধরে দিতেই মায়ের এমন পদক্ষেপ, যা ছাড়ার চেষ্টা আমিও করে যাচ্ছি। এরপরই চোখে পড়ে বাবার বাটন ফোনটি। তৎক্ষণাৎ বুদ্ধি খাটিয়ে বাবার ফোন থেকে নিজের নম্বরে কল দিতেই বেজে উঠল রিংটোন। শব্দের উৎস ধরে গিয়ে স্কুলব্যাগের ভেতর থেকে উদ্ধার করলাম ফোনটি; গোসলে থাকার সময় মা সেখানেই লুকিয়ে রেখেছিলেন।
মেসেজ দেখতে পেয়ে প্রাথমিক স্বস্তি মিললেও সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি। কারণ পরেরবার থেকে মা ফোন লুকানোর সময় তা বন্ধ কিংবা সাইলেন্ট করে রাখা শুরু করেন।
—লেখক: শিক্ষার্থী, অষ্টম শ্রেণি, সিটি সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, চট্টগ্রাম