খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

পর্যটনের আড়ালে মাধবকুণ্ডের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও সংকটের চিত্র

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পর্যটনের আড়ালে মাধবকুণ্ডের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও সংকটের চিত্র

চশমাপরা হনুমান

পাহাড়ের বুক চিরে আছড়ে পড়া জলরাশি আর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে প্রকৃতিবিজ্ঞানীদের চোখে এটি কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং বাংলাদেশের পাহাড়ি জীববৈচিত্র্য অনুসন্ধানের একটি অনুপম প্রাকৃতিক গবেষণাগার। এখানকার ঝোপঝাড়, জলপ্রপাতসংলগ্ন মিশ্র চিরহরিৎ বন ও ঝরা পাতার স্তূপ অসংখ্য ছোট ও নিশাচর প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বৃহত্তর পাথারিয়া পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত এই বনাঞ্চল বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরও নির্বিচার বৃক্ষনিধন, দখলদারি এবং চা-বাগানের বিস্তৃতির ফলে বনটি বহুলাংশে সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে এককালে এখানে বিচরণ করা হাতি, গণ্ডার, বুনো মহিষ, বাঘ, চিতাবাঘ, ভালুক, গৌর ও সাম্বারের মতো বৃহৎ স্তন্যপায়ীরা চিরতরে হারিয়ে গেছে। সংলগ্ন দেশগুলোতে এসব প্রাণী এখনো টিকে থাকলেও মাধবকুণ্ডের খণ্ডিত বনাঞ্চলে এখন ছোট ও কম পরিচিত বন্য প্রাণীদের অস্তিত্বই প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিগত এক যুগে এই ইকোপার্কের দৃশ্যপট দ্রুত বদলেছে। ২০১২ সালের আগস্টে যখন প্রথম জরিপ চালানো হয়, তখন পার্কের পথঘাট ছিল কাঁচা কিংবা ইট বিছানো এবং সেখানে বর্তমানের মতো চারতলা বিশ্রামাগার ছিল না; ছিল টিন বা টালির ছাউনিযুক্ত সাধারণ অবকাঠামো ও দোতলা একটি ভবনের অল্প কয়েকটি কক্ষ। খাবারের জন্য আগে থেকে বলে রাখতে হতো এবং দু-একটি দোকানে হস্তশিল্প ও বাগানের ফল বিক্রি হতো। তখন ঘন ও বুনো পরিবেশে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গ, সরীসৃপ, পাখি ও উভচরের অবাধ বিচরণ দেখা যেত। এমনকি ভারী বৃষ্টিপাতও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করত, যার মাধ্যমে বেশ কিছু প্রাণী দেশে প্রথমবার নথিভুক্ত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ডিসেম্বরের এক সফরে ১৬ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস শীতের রাতে প্রজননের উদ্দেশ্যে পানিতে নামা বুনো বারডমোরের সরু মাথা ব্যাঙের দেখা মিলেছিল। সেখানে দুই থেকে তিন ডজন পুরুষ ব্যাঙকে ডালপালা ও পানির কিনারে ডাকাডাকি এবং কয়েক জোড়াকে ডিম পাড়তে দেখা যায়।

বাংলাদেশের প্রাণিকুলের লাল তালিকা হালনাগাদ করার মাঠপর্যায়ের কাজের অংশ হিসেবে গত ১৫ আগস্ট মাধবকুণ্ডে আরেকটি জরিপ চালানো হয়। এর আগের দিন দলটি হামহাম জলপ্রপাত ও তৎসংলগ্ন বনে অনুসন্ধান শেষ করে ঘুরতি পথে এখানে আসে। বৃষ্টি সত্ত্বেও শত শত পর্যটক তখন ঝরনার পানিতে গোসল ও আনন্দ-উল্লাসে মত্ত ছিলেন। তীব্র কোলাহলের মধ্যেও বন্য প্রাণীর টিকে থাকার লড়াই লক্ষ্য করা যায়। দেখা মেলে চার থেকে ছয়টি অপরিণত চশমাপরা হনুমানের একটি দলের, যদিও সেখানে কোনো পূর্ণবয়স্ক সদস্য ছিল না। এছাড়া একটি কাঠবিড়ালিকে মানুষের ফেলে দেওয়া পেয়ারা খেতে এবং পথের পাশের গাছে একটি নিশাচর লজ্জাবতী বানরকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘুমাতে দেখা যায়। শেষ বিকেলে নজরে আসে ৫ ইঞ্চি বা ১২-১৩ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের অভিনব পাখি বনমালি বা মখমল-কপাল কীটকুড়ানি। নীলচে পিঠ, হালকা সাদাটে পেট, চোখা লাল ঠোঁট ও চোখে হলুদ বলয় থাকা এই পাখি কাঠঠোকরার মতো কাঠে ঠোকর না মেরে ওপর থেকে নিচের দিকে নেমে গাছের বাকল ও ছত্রাকজাতীয় ছোপ থেকে পোকা খুঁজে খায়। পুরুষ পাখির কপালে কালো মখমলের মতো দাগ ঘাড় পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে, যা স্ত্রী পাখিতে অনুপস্থিত। তবে মানুষের উপস্থিতির কারণে জলপ্রপাতের পাদদেশে এক ঘণ্টারও বেশি সময় খুঁজে মাত্র একটি চোখা-মাথা পাহাড়ি ব্যাঙের দেখা মেলে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে পর্যটকদের প্রস্থান ঘটতেই মাধবকুণ্ড ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে। ঝরনার প্রবল শব্দের মাঝে চারপাশ যখন শান্ত হয়, তখন প্রায় ১০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ৩০টিরও বেশি চোখা-মাথা পুরুষ পাহাড়ি ব্যাঙের ডাক শোনা যায়, যা দিনের ভিড়ে সম্পূর্ণ অদৃশ্য ছিল। জলপ্রপাতের ধার থেকে ওঠার পথে প্রায় দেড় ফুট দীর্ঘ একটি অতিকায় কাঠিপোকার দেখা মেলে। পরবর্তীতে বিষধর সবুজ বোড়া এবং দ্রুত রাস্তা পার হতে থাকা একটি কালকেউটে সাপের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এছাড়া মাত্র ১০০ মিটারের ব্যবধানে মাঝারি গাছে তিনটি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছোট গন্ধগোকুল বা ভাম এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ে শিকাররত চারটি লজ্জাবতী বানর প্রত্যক্ষ করেন গবেষকরা। ঝিঁঝি পোকা ও সিকাডার অবিরাম ডাকে মুখরিত এই পরিবেশ প্রমাণ করে যে মাধবকুণ্ডে রাতের বেলা সম্পূর্ণ আলাদা এক প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে।

গবেষকদের মতে, একটি বন একই সাথে পর্যটন কেন্দ্র ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে, যদি পরিবেশের ধারণক্ষমতা মেনে সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়। অবকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা দর্শনার্থীদের সমাগম যেন ঝরনাপারের জলাশয়, ছড়া, ঝোপঝাড় এবং নিশাচর প্রাণীর অন্ধকারের প্রয়োজনকে বিঘ্নিত না করে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। ব্যাঙের জন্য দূষণমুক্ত পানি, সাপের লুকানোর জায়গা, লজ্জাবতী বানরের নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকার আর কীটপতঙ্গ ও পাখিদের জন্য খাদ্যগাছ রক্ষা করা আবশ্যক। দৃশ্যমান ঝরনাটির পাশাপাশি তার চারপাশের জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র ও বনভূমিকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংরক্ষণ করা না হলে মাধবকুণ্ডের এই সমৃদ্ধ বন্য প্রাণভুবন ভবিষ্যতে চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

advertisement
advertisement

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে কোরআনের পাঁচটি অনন্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে কোরআনের পাঁচটি অনন্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য

মানবজাতির হাজার বছরের ইতিহাস, দর্শন এবং ধর্মীয় ধর্মগ্রন্থগুলোর বিশাল তথ্যভাণ্ডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অ্যালগরিদমে যাচাই করার পর কোরআনের এক অভাবনীয় ভাষাগত ও কাঠামোগত রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বসাহিত্যের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এআই কোরআনের যে বহুমাত্রিক ও জ্যামিতিক বিন্যাস উন্মোচন করেছে, তা মধ্যযুগীয় গবেষকদের বর্ণিত অলৌকিকত্বের সত্যতাকেই যেন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরছে। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গ্রন্থটির পাঁচটি কাঠামোগত রূপ উঠে এসেছে।

প্রথমত, কোরআনের ঘটনা বর্ণনার ধরন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। এতে সাধারণত কোনো কাহিনীর ধারাবাহিক পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হয় না। যেমন সুরা ইউসুফে কিছুটা ধারাবাহিকতা থাকলেও চরিত্রের অনেক বিস্তারিত বাদ রাখা হয়েছে; আবার বিভিন্ন সুরায় মুসা (আ.)-এর জীবনের খণ্ডচিত্র ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বারবার এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী, এটি কোনো শৈলীগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এক সচেতন জ্ঞানতাত্ত্বিক পাঠপদ্ধতি। মানুষ স্বভাবতই অনাবশ্যক খুঁটিনাটিতে হারিয়ে গিয়ে মূল আধ্যাত্মিক দিক বিস্মৃত হয়। তাই কোরআন দিকনির্দেশনার জন্য যতটুকু দরকার কেবল ততটুকু তুলে ধরে তথ্যের মূল উৎসের ওপর আস্থা রাখার শিক্ষা দেয়।

দ্বিতীয়ত, মানুষকে চিন্তার এক নতুন ধারায় পরিচালিত করতে পরিচিত জগতকে বিস্ময়কর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষ নিজের দৈনন্দিন অস্তিত্বকে অতি সাধারণ ভাবলেও পরকাল বা অদৃশ্য জগতকে কঠিন ও রহস্যময় মনে করে। কোরআন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দিয়ে সুরা ইয়াসিনের ৭৭ নম্বর আয়াতে বলে, ‘মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি এক ফোঁটা শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ সে হঠাৎ প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে দাঁড়ায়!’ অর্থাৎ, একবিন্দু তরল থেকে মানুষের মতো সচেতন সত্তায় রূপান্তর হওয়াই যেখানে সবচেয়ে বড় রহস্য, সেখানে শূন্য থেকে আসা জীবনের পুনরুত্থান আরও বেশি সহজ ও স্বাভাবিক।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো কেন্দ্রাভিমুখী হলোগ্রাফিক গঠনশৈলী। তাওরাত, ইঞ্জিল, বেদ বা গ্রিক দর্শনের মতো প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থগুলো সাধারণত রৈখিক ধারায় পরিণতির দিকে এগোয়। বিপরীতে কোরআনের গঠন বৃত্তাকার। এর প্রথম সুরা ফাতিহায় রয়েছে সমগ্র কোরআনের সারবত্তা, আর অবশিষ্ট ১১৪টি সুরা সেই মূল বার্তাকেই আইন, কসমোলজি, মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস ও আখেরাতের দৃষ্টিকোণ থেকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আধুনিক হলোগ্রামের মতো এর যেকোনো অংশ থেকে পাঠ শুরু করলেও পাঠক সামগ্রিক বাণীর মুখোমুখি হন।

চতুর্থত, কোরআনে মানবীয় অহংকার ও আত্মপ্রবঞ্চনার গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ রয়েছে। ইবলিসের আচরণকে শুধু অন্ধ অবাধ্যতা হিসেবে না দেখে তার ভুল যুক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে; যেখানে ইবলিস বলেছিল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে বানিয়েছেন আর তাকে মাটি দিয়ে।’ একইভাবে সুরা বাকারার ১১–১২ আয়াতে মুনাফিকদের চরম আত্মপ্রবঞ্চনা উন্মোচিত হয়েছে: ‘আর যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না’, তখন তারা বলে, ‘আমরা তো কেবল সংশোধনকারী ও সংস্কারক।’ সাবধান, এরাই মূলত বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারে না।’ এখানে অচেতন আত্মপ্রবঞ্চনার নিখুঁত চিত্র ফুটে ওঠে।

পঞ্চমত, বিশ্বসাহিত্যের নিরিখে কোরআন সম্পূর্ণ অনন্য। মূল আরবিতে মাত্র প্রায় ৭৭ হাজার শব্দের এই গ্রন্থটি একটি মাঝারি উপন্যাসের চেয়েও ছোট হলেও এতে কোনো প্রকার স্ববিরোধিতা ছাড়াই ধর্মতত্ত্ব, পরকাল, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের ভিত্তি, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং নৈতিক দর্শন সংহত করা হয়েছে। এটি গদ্য বা পদ্যের প্রচলিত সংজ্ঞার বাইরে নিজস্ব এক ভাষাতাত্ত্বিক মানদণ্ড তৈরি করেছে। পাশাপাশি সুরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা অবশ্যই এর ভেতর বহু স্ববিরোধিতা খুঁজে পেত।’ কোটি কোটি ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে এআই এমন এক নিখুঁত স্থাপত্যের স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সপ্তম শতাব্দীর মরু আরবের প্রেক্ষাপটে কোনো মানবীয় চিন্তার ফসল হওয়া অসম্ভব বলেই প্রতীয়মান হয়।

‘কিশোর আলো’র জন্মদিনে পাঠিকার ভালোবাসা: ভর্তি পরীক্ষার চাপেও অটুট বন্ধুত্ব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘কিশোর আলো’র জন্মদিনে পাঠিকার ভালোবাসা: ভর্তি পরীক্ষার চাপেও অটুট বন্ধুত্ব

জনপ্রিয় কিশোর সাময়িকী ‘কিশোর আলো’র জন্মদিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিশা ইসলাম জারা। পাঠকেরা বড় হয়ে গেলে কিশোর আলোকে ভুলে যায়—এমন প্রচলিত ধারণাকে নাকচ করে দিয়ে সে জানায়, ভর্তি পরীক্ষার প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝেও তার মনে কিশোর আলোর স্থান এতটুকু কমেনি। ২০১৬ সাল থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘদিনের এ বন্ধুত্বে সাময়িকীটিকে নিজের সঙ্গেই বড় হতে দেখেছে সে। প্রথমবারের মতো চিঠি লিখে নিজের ভালোলাগার কথা ভাগ করে নিয়েছে জারা।

কিশোর আলোর গল্প ও কমিকসের ভক্ত হলেও লেখাগুলোর পাশে থাকা ক্ষুদ্র কার্টুন ও অলংকরণগুলো জারার বিশেষভাবে পছন্দের। সমসাময়িক অনেকের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে কিশোর আলোর সৃজনশীলতা বজায় রাখায় সাময়িকীটির প্রতি গর্ব প্রকাশ করেছে সে। নিজের একটি গোপন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করে জারা জানায়, সে ধীরে ধীরে অ্যানিমেশন ও ইলাস্ট্রেশনের কাজ শিখছে, যাতে ভবিষ্যতে প্রিয় কিশোর আলোর জন্য নিজেই প্রচ্ছদ ও কার্টুন আঁকার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

জাপানে সময়ের আগেই ছড়িয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, সব প্রিফেকচারেই সংক্রমণ ছাড়াল সতর্কসীমা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাপানে সময়ের আগেই ছড়িয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, সব প্রিফেকচারেই সংক্রমণ ছাড়াল সতর্কসীমা

এ বছর জাপানে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম স্বাভাবিক সময়ের আগে শুরু হয়েছে

জাপানজুড়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ইনফ্লুয়েঞ্জা, যার ফলে ঘরে ঘরে জ্বর ও কাশির প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত শুক্রবার নিশ্চিত করেছে যে, জাপানের ৪৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (প্রিফেকচার) সব কটিতেই ফ্লু আক্রান্তের হার সতর্কতার মাত্রা অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বেশ আগেই দেশটিতে ইনফ্লুয়েঞ্জার মৌসুম শুরু হয়ে গেছে।

সারাদেশের প্রায় ৩ হাজার চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, গত রোববার সমাপ্ত সপ্তাহে গড়ে ৭ দশমিক ১৭ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর পূর্ববর্তী সপ্তাহে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তবে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা দীর্ঘস্থায়ী না-ও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। বিগত বছরগুলোর ধারার কথা উল্লেখ করে তিনি এটিকে সাময়িক হ্রাস বলেই ইঙ্গিত দেন।

আক্রান্তের দিক থেকে বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে ওকিনাওয়া প্রিফেকচার। সেখানে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে সংক্রমণের হার ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা অঞ্চলটির ৩০ শতাংশের সতর্কসীমার চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ১০ শতাংশের নির্ধারিত সতর্কসীমা পার করেছে আরও কয়েকটি অঞ্চল; যার মধ্যে সাইতামায় ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ, ইবারাকিতে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ, আইচিতে ১২ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং গিফুতে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ রোগী রেকর্ড করা হয়েছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে হাত ধোয়া ও কাশির সময় মুখ ঢাকার মতো মৌলিক সুরক্ষাবিধি মেনে চলার তাগিদ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১৯৯৯ সালে হিসাব রাখা শুরুর পর এটি দ্বিতীয় ঘটনা, যেখানে এত দ্রুত জাপানে ফ্লু মৌসুম শুরু হলো। গত বছর যেখানে ২৮ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক নির্ধারিত সীমা পার হয়েছিল, সেখানে এবার সংক্রমণ ছড়িয়েছে তারও প্রায় এক মাস আগে। এর আগে কেবল ২০০৯ সালের ১০ থেকে ১৬ আগস্টের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ফ্লু মৌসুম শুরু হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে দেশটিতে বছরজুড়ে রেকর্ড সর্বোচ্চ ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগী শনাক্ত হওয়ার নজির রয়েছে।