খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

তারল্যসংকটে থাকা ছয় ব্যাংকে আটকা চট্টগ্রাম বন্দরের ১,২০০ কোটি টাকা, আদায়ে সংসদীয় কমিটির তাগিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তারল্যসংকটে থাকা ছয় ব্যাংকে আটকা চট্টগ্রাম বন্দরের ১,২০০ কোটি টাকা, আদায়ে সংসদীয় কমিটির তাগিদ

চট্টগ্রাম বন্দর

তীব্র তারল্যসংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) আটকে গেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক মানদণ্ড (আইএফআরএস) মেনে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির কোনো হিসাবভিত্তিক সংস্থান না রেখেই এ আমানত রাখা হয়েছিল, যার অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। আজ সোমবার জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরত না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে সংসদীয় কমিটি বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত উদ্ধারে জোর তাগিদ দেয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বমোট ১১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার এফডিআরের মধ্যে পদ্মা ব্যাংকে রয়েছে ১৭৯ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে রয়েছে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। চরম সংকটে থাকা এই ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংককে ইতোমধ্যে একীভূত করে গঠন করা হয়েছে সরকারি ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব আমানত রাখা হয়েছিল; বর্তমানে মূল টাকার পাশাপাশি এফডিআরের মুনাফাও পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

বৈঠকে বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম পর্যালোচনায় জানা যায়, লালদিয়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর জেটি নির্মাণের সমঝোতা স্মারক নৌবাহিনীর সঙ্গে স্বাক্ষর করা হলেও এক বছরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে চুক্তিটি বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে হওয়া চুক্তির লাভ-ক্ষতি নিয়ে সংসদীয় কমিটি জানতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পরিচালনা সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত উদ্ধার, দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তি, সরকারি অর্থের সুরক্ষা, নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পায়রা বন্দরের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০০-১০৫ মিটার প্রশস্ত চ্যানেলে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে ১০ দশমিক ৫ মিটার গভীরতা অর্জনের কথা থাকলেও ড্রেজিং শেষে প্রাক্‌-জরিপের মতোই গভীরতা ৫ মিটারে অপরিবর্তিত থাকে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়েও পুরো অর্থ ছাড় করার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। অন্যদিকে, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ৭ দশমিক ৫ মিটার গভীরতা এবং জেটিতে ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর উদ্দেশ্যে ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় ড্রেজিং করা হলেও নিজস্ব হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের রিপোর্টে গভীরতা পাওয়া যায় মাত্র সাড়ে ৫ মিটার। অতিরিক্ত পলি জমার কারণ দেখানো হলেও সঠিক সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে জড়িত কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কাজের শর্ত হিসেবে ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত গভীরতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সদস্য তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।

advertisement
advertisement

ডিপ সি গ্রিন কাফতানে মোহময়ী জয়া আহসান, ছিমছাম সাজেই নজর কাড়ল আভিজাত্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডিপ সি গ্রিন কাফতানে মোহময়ী জয়া আহসান, ছিমছাম সাজেই নজর কাড়ল আভিজাত্য

অভিনয়ের পাশাপাশি নিজস্ব ফ্যাশন ভাবনার কারণে দুই বাংলার দর্শকদের কাছে বরাবরই প্রশংসিত অভিনেত্রী জয়া আহসান। সম্প্রতি গভীর সমুদ্র-সবুজ বা ‘ডিপ সি গ্রিন’ রঙের পোশাকে ফ্রেমবন্দী হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের দৃষ্টি কেড়েছেন তিনি। কোনো ধরনের ভারী কাজ বা দৃশ্যমান প্রিন্ট ছাড়াই রঙের গভীরতা ও কাটিংয়ের ওপর ভর করে কীভাবে মার্জিত রূপ ফুটিয়ে তোলা যায়, তাঁর এই উপস্থিতি যেন তারই প্রকাশ। তাঁর পরনে থাকা ঢিলেঢালা কাফতান ধাঁচের পোশাকটির নেকলাইনে স্কার্ফের মতো বড় করে বাঁধা ফিতা বা ‘বো’ পুরো অবয়বে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।

পোশাকের এই বিশেষ নকশাকে প্রাধান্য দিতে অলংকরণেও পরিমিতিবোধ বজায় রেখেছেন জয়া। কানে পরেছেন রুপালি আভার সবুজ পাথর বসানো ফুলের নকশার স্টাড দুল এবং হাতে শোভা পেয়েছে সূক্ষ্ম ব্রেসলেট ও আংটি। রূপসজ্জায় ক্ল্যাসিক আবহ ধরে রাখতে চুলে মাঝখানে সিঁথি করে পেছনে পরিপাটি খোঁপা বেঁধেছেন অভিনেত্রী। সেই সঙ্গে মেকআপে গুরুত্ব পেয়েছে স্মোকি চোখের সাজ, নিখুঁত ভ্রু, গালে হালকা গোলাপি আভা আর ঠোঁটে ন্যুড পিংক লিপস্টিক। উৎসব কিংবা সন্ধ্যার বিশেষ কোনো আয়োজনে স্বাচ্ছন্দ্যময় অথচ আভিজাত্যপূর্ণ লুকের জন্য জয়ার এই সাজ হয়ে উঠেছে দারুণ এক অনুপ্রেরণা।

পাপের প্রকৃত অর্থ, মানবজীবনে এর কুফল ও তা নির্ধারণের ইসলামি দর্শন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাপের প্রকৃত অর্থ, মানবজীবনে এর কুফল ও তা নির্ধারণের ইসলামি দর্শন

আমাদের সমাজে প্রচলিত একটি ধারা রয়েছে, যেখানে শৈশবে শিশুদের অযৌক্তিক অপরাধবোধ ও আতঙ্কের আবহে বড় করা হয়। সামান্য ভুলের জন্যও বলা হয়ে থাকে যে আল্লাহ কষ্ট পাচ্ছেন কিংবা ফেরেশতারা লজ্জিত হচ্ছেন। এমনকি অনেক বক্তার কণ্ঠেও শোনা যায়, কোনো মানুষ অপরাধ করলে নাকি আল্লাহর আরশ কেঁপে ওঠে। পাপ থেকে মানুষকে দূরে রাখার নিয়তে এমন কথা বলা হলেও তা বড় ধরনের দার্শনিক বিভ্রান্তি তৈরি করে; কারণ মহান আল্লাহ মানুষের ভুলে কষ্ট পাওয়ার মতো কোনো দুর্বল সত্তা নন। ইসলামের মূল বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ ‘আল-সামাদ’ ও ‘আল-গনি’—তিনি সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। মানুষের আনুগত্য বা ইবাদত তাঁর কোনো অভাব মেটায় না, আবার সৃষ্টির কোনো পাপ বা অমান্যতায় তাঁর বিন্দুমাত্র ক্ষতি হয় না। সব মানুষ ধর্মপরায়ণ হলেও তাঁর সম্মান বাড়ে না, আবার সবাই অবাধ্য হলেও তাঁর ক্ষমতার কোনো হ্রাস ঘটে না। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর সংরক্ষক; তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না। আসমান ও জমিনের সবকিছুর তিনিই মালিক এবং তাঁর অনুমতি ব্যতীত কারও সুপারিশ করার ক্ষমতা নেই। তিনি সৃষ্টির অগ্র-পশ্চাত সবকিছু জানেন, অথচ তাঁর ইচ্ছার বাইরে তাঁর জ্ঞানের কিছুই মানুষ জানতে পারে না। তাঁর কুরসি আসমান-জমিন জুড়ে বিস্তৃত এবং এগুলোর সুরক্ষা তাঁর জন্য কঠিন নয়; তিনি পরম উচ্চ ও মহান। ইমাম গাজালি তাঁর ‘ইহয়াউ উলুমিদ্দিন’ গ্রন্থে (১/১৬৫, দারুল মারিফাহ, বৈরুত, ১৯৮২) উল্লেখ করেছেন, বিশ্বজগতের সমস্ত উপাসনার ঊর্ধ্বে আল্লাহর অবস্থান; মানুষের ইবাদতের কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই, বরং তা মানুষের নিজের আত্মার শান্তি ও সুস্থতার মাধ্যম।

আল্লাহ যখন আমাদের কোনো আমলের মুখাপেক্ষী নন এবং আমাদের পাপে তাঁর ক্ষতি হয় না, তখন প্রশ্ন ওঠে—পাপ মূলত কী? পাপ কোনো আবেগপ্রবণ সত্তার অসন্তুষ্টি নয়, বরং তা এমন সব কর্ম যা মানুষের নিজের, পরিবারের কিংবা সমাজজীবনের মারাত্মক ক্ষতি ও বিনাশ ডেকে আনে। পরম করুণাময় আল্লাহ মানবজাতিকে এমন সব ধ্বংসাত্মক ফাঁদ সম্পর্কেই সতর্ক করেছেন। যেমন—মদপান, জুয়া, ব্যভিচার, চুরি কিংবা অন্যায়ভাবে হত্যার মতো মহাপাপগুলো শুরুতে ক্ষণস্থায়ী তৃপ্তি বা আনন্দ দিলেও পরিণামে শারীরিক ব্যাধি, পারিবারিক বিপর্যয়, আর্থিক নিঃস্বতা ও সামাজিক বিভেদ ডেকে আনে। নিজের ক্ষতি হলে অন্যের কী সমস্যা—এমন ধারণার বিপরীতে ইসলাম শেখায়, মানুষ নিজের দেহেরও চূড়ান্ত মালিক নয়, বরং তার স্রষ্টা আল্লাহ। সুরা তুরের ৩৫ নম্বর আয়াতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, মানুষ কি কোনো কিছু ছাড়া এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে, নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টিকর্তা? এ বিষয়ে ড. তারিক রমাদান তাঁর ‘ইন দ্য ফুটস্টেপস অব দ্য প্রফেট’ বইয়ে (পৃষ্ঠা ৪৫, অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, নিউইয়র্ক, ২০০৭) লিখেছেন, নিজের সৃষ্টি ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যেহেতু মানুষকে স্রষ্টার ওপর নির্ভর করতে হয়, সেহেতু নিজের শরীর বা আত্মাকে ক্ষতিকর কাজে নিয়োজিত করে ধ্বংসের অধিকার তার নেই। একইভাবে কুফর ও শিরক সরাসরি শারীরিক ক্ষতি না করলেও তা মানুষকে জীবনের মূল লক্ষ্য—স্রষ্টাকে জানার মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি লাভ—থেকে পুরোপুরি বিচ্যুত করে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তাই পরম সত্যকে অস্বীকার করা নিজের আত্মার প্রতি করা সবচেয়ে বড় অবিচার ও পাপ।

কোনো কাজ আসলেই পাপ কি না, তা যাচাইয়ের মূল মানদণ্ড হলো ‘মাসলাহা’ বা জনকল্যাণ। ইমাম আল-গাজালি তাঁর ‘আল-মুসতসফা মিন ইলম আল-উসুল’ গ্রন্থে (১/২৮৬-২৮৭, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ, বৈরুত) উল্লেখ করেন, শরিয়তের সমস্ত নির্দেশনার উদ্দেশ্য পাঁচটি মৌলিক বিষয়ের হেফাজত নিশ্চিত করা—ধর্ম, জীবন, বংশধারা বা প্রজনন, সম্পদ এবং বিবেক বা বুদ্ধি। এই পাঁচটির যেকোনো একটির জন্য ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক প্রতিটি বিষয়ই ইসলামে পাপ হিসেবে গণ্য। বিখ্যাত ইসলামি আইনতাত্ত্বিক তাহির ইবনে আশুর তাঁর ‘মাকাসিদ আল-শরিয়াহ আল-ইসলামিয়াহ’ গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ২৫১, মিনহাজ আদ-দিরাসা, কায়রো) স্পষ্ট করেছেন, মানবজাতির ব্যক্তিগত ও যৌথ ক্ষতি রোধ করাই ইসলামি বিধানের লক্ষ্য। সুতরাং, সুস্থ বিবেক এবং কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনায় যা কিছু এই মৌলিক কল্যাণ বিনষ্ট করে, তা-ই নিশ্চিতভাবে পাপ। তবে ভুলপ্রবণ মানুষকে ইসলাম কখনো ফেরেশতাতুল্য ভাবেনি। জীবনে বিচ্যুতি ঘটলেও ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে বারণ করে তওবার পথ উন্মুক্ত রেখেছে। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ আছে, আল্লাহ তওবাকারীদের এবং যারা পবিত্র থাকে তাদের ভালোবাসেন। পাশাপাশি সহিহ বুখারির ৬৩০৮ নম্বর হাদিস অনুযায়ী, কোনো বান্দা অনুতপ্ত হয়ে তওবা করলে আল্লাহ মরুপ্রান্তরে হারিয়ে যাওয়া বাহন ও খাদ্য-রসদ ফিরে পাওয়া মুসাফিরের চেয়েও অধিক আনন্দিত হন।

ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক ছাড়াল: মশার উপদ্রব নাকি প্রশাসনিক সুশাসনের ব্যর্থতা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক ছাড়াল: মশার উপদ্রব নাকি প্রশাসনিক সুশাসনের ব্যর্থতা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিশু। ঢাকা শিশু হাসপাতাল, রাজধানী ঢাকা

একই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ভিন্ন ফলাফলের আশা করাকে উন্মাদনা আখ্যা দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। বাংলাদেশে এডিস মশা ও ডেঙ্গু মোকাবিলার বর্তমান সরকারি পদক্ষেপগুলোও যেন সেই একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যেই তিন শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীদের মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে এবং উদ্ভূত সংকট সামলাতে প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রাখার কথাও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকার, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা সিটি করপোরেশনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, যা কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা নয় বরং শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি সরাসরি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং ১৮ অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালতের একাধিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অধিকার মূলত স্বাস্থ্যকর ও সুরক্ষিত পরিবেশে বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধিতে প্রতিবছর বিপুল প্রাণহানি এই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলো বিজ্ঞানভিত্তিক নজরদারি, উৎসমূল ধ্বংস এবং জবাবদিহির মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে। এক গবেষক কীটতত্ত্ববিদের মতে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে বিগত বছরে ৬২ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হতেন না।

সরকারি জরিপেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৩টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সিমেন্টের পানির আধার ও স্যাঁতসেঁতে মেঝেকে প্রধান প্রজননস্থল বলা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি দায়িত্বগত চরম অবহেলার পরিচায়ক। এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে ভর্ৎসনা করে নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে সংকটটি জাতীয় হওয়ায় কেবল স্থানভিত্তিক হস্তক্ষেপের বদলে পরিবেশদূষণ বা সড়ক নিরাপত্তার মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধেও আদালত থেকে দেশের সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য সামগ্রিক নির্দেশনা ও জাতীয় বিচারিক রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে কীটনাশক ছিটানো হলেও ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই কিংবা ওয়ার্ডভিত্তিক ঘনত্বের কোনো স্বাধীন নিরীক্ষা নেই। অতীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার প্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ টাকার ওষুধ কেনার ঘটনা ঘটেছে এবং পটপরিবর্তনের পরও একজন উপদেষ্টার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যকারিতাহীনতার দায়ে যে কীটনাশক বাতিল করেছিল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তা ব্যবহার অব্যাহত রাখে। এমনকি সম্প্রতি দক্ষিণ সিটির কীটনাশক মজুতাগারে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালিয়ে জালিয়াতির তথ্য পায়। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহার এবং তার ফলে প্রাণহানি ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিতে অবহেলাজনিত অপরাধের শামিল, যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া আবশ্যক।

সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে প্রতিটি ওয়ার্ডকে উপ-অঞ্চলে বিভক্ত করে সমন্বিত কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। অথচ পার্শ্ববর্তী কলকাতার অভিজ্ঞতা বলছে, সাময়িক ফগিংয়ের চেয়ে বর্ষা শুরুর আগেই নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত টানা আট মাস প্রাক-মৌসুম উৎসমূল ধ্বংসের কাজ চালিয়ে তারা সাফল্য পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গুকে মৌসুমি নয় বরং বছরব্যাপী স্থায়ী জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া, সংক্রামক রোগ ও স্থানীয় সরকার আইনে জবাবদিহিমূলক কর্মদক্ষতার সূচক যুক্ত করা, কীটনাশক ক্রয়ে বাধ্যতামূলক স্বাধীন নিরীক্ষা নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সুশীল সমাজ ও আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে জনস্বার্থে মামলা পরিচালনার প্রস্তাব তুলে ধরেছেন নগর অধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর সাদাত।