খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: সাভারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: সাভারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাভার সেনানিবাসে আজ রোববার সকালে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদার সুরক্ষাই হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রধান অঙ্গীকার। রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে চায় বাংলাদেশ। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, পেশাদার এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার সর্বাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বর্তমান সরকার।

আধুনিক সামরিক বাহিনীর মানদণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাহিনীর প্রকৃত পরাক্রম কেবল অস্ত্রসম্ভার বা লোকবলের ওপর নির্ভর করে না; এর আসল শক্তি হলো শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এর অপরিহার্য শর্ত। বিভিন্ন ইউনিটের বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি কেবল কোনো সাধারণ নিশান নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ত্যাগ, ঐতিহ্য এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক। এই পতাকার সম্মান সমুন্নত রাখাকে তিনি প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার নানামুখী অপতৎপরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই এই বাহিনীর জন্ম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ–অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর ২৬ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাসদস্যদের সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দেশপ্রেমিক সেনাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ, ২৬ মার্চের নির্দেশ এবং পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’ এ সময় তিনি সৈনিক ও কর্মকর্তাদের আইন, সংবিধান এবং সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বর্তমান ভূরাজনীতি ও পরিবর্তিত নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, আকাশ ও নৌসীমার পাশাপাশি এখন মহাকাশ, সাইবার জগৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধ জাতীয় প্রতিরক্ষার মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের জন্য নিজস্ব প্রতিরক্ষাশিল্প গড়ে তোলায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে প্রযুক্তি কখনই মানুষের বিকল্প নয় উল্লেখ করে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। এছাড়া জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সামরিক বাহিনীর সার্বিক সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সদস্যদের আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও অবসরকালীন সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে নতুন পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেওয়া হয়। আয়োজনে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মন্ত্রী, সেনাপ্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
advertisement

জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণ: আহত চালককে নিয়ে নিজেই হাসপাতালে ছোটেন তারকা, তদন্তে ১৫ দল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণ: আহত চালককে নিয়ে নিজেই হাসপাতালে ছোটেন তারকা, তদন্তে ১৫ দল

অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলাকারীদের পাকড়াও করতে গঠন করা হয়েছে ১৫টি বিশেষ দল। পালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত সন্দেহে আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। এদিকে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দায় স্বীকারের একটি বার্তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা, যদিও এই গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পুলিশ এখনও নিশ্চিত করেনি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় ফুটবল ম্যাচ শেষে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন টাইগার। সে সময় তাঁর গাড়ি নিশানা করে পাঁচটি গুলি চালানো হয়। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর চালক ফেরদৌসের বাঁ হাতে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত উমেশ চবন নামের আরেক ব্যক্তির শরীরে গুলি লাগে। তবে বর্তমানে তাঁরা দুজনই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, ফুটবল খেলে বের হওয়ার পর ভক্তদের অভিবাদন জানিয়ে গাড়িতে উঠছিলেন টাইগার। হঠাৎই দুই হামলাকারী গাড়ির কাছে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে এবং তাদের আরেক সহযোগী পালানোর জন্য মোটরসাইকেল প্রস্তুত রাখে। গুলির একপর্যায়ে এক হামলাকারীর অস্ত্র অকেজো হয়ে গেলে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে চম্পট দেয়। চালক ফেরদৌস রক্তাক্ত হলে পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে ওঠে। সে সময় এক নারীর ‘তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, টাইগার’ চিৎকারের মধ্যে অভিনেতা কালবিলম্ব না করে নিজেই বিএমডব্লিউর স্টিয়ারিং ধরে চালককে নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে যান। গাড়িটি চলে যাওয়ার পর রাস্তায় রক্তের চিহ্ন দেখা যায়।

ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের চেসিস নম্বর ও নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পালানোর পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। আহত চালকের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ। হত্যাচেষ্টাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়েছে মামলা। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম ব্যবহার করে বিষ্ণোই চক্রের তরফে এক পোস্টে দাবি করা হয়, টাইগারকে আগেই টেলিফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তিনি তা শোনেননি। এমনকি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও সেখানে নিশানা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়িয়ে পড়া এক অডিও বার্তায় ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানকে বিষ্ণোই সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়া লরেন্স বিষ্ণোইয়ের চক্রের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলিবর্ষণ এবং একই বছরের অক্টোবরে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা বাবা সিদ্দিকিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর ইন্ডিয়া টুডেকে টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফের দল জানিয়েছে যে অভিনেতা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন, যা শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মা আয়েশা শ্রফও। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ টেলিফোনে টাইগারের সঙ্গে কথা বলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার রাতে সশরীরে অভিনেতার বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সাক্ষাৎকালে টাইগারের হাতে ব্যান্ডেজ ও শরীরে ড্রেসিং দেখা যায়। পরে সাংবাদিকদের শিন্ডে জানান, সরাসরি গুলি না লাগলেও বারুদ এবং ভাঙা কাচের টুকরোয় সামান্য জখম হয়েছেন টাইগার এবং মা-ছেলে উভয়েই মানসিক ধাক্কায় আছেন। মুম্বাইয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসের আধিপত্য বিস্তার বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়ে পরিবারটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও সংস্কারকৃত ওসমানী উদ্যানের দ্বার উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও সংস্কারকৃত ওসমানী উদ্যানের দ্বার উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন

শহীদ পরিবারের স্বজনদের সাথে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ওসমানী উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো আবু সাঈদের পিতা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের পিতা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খান আনাসের মাতা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের পিতা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উন্মোচন করেন। এরপর তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং নবসজ্জিত উদ্যান ও তৎসংলগ্ন পাঠাগার ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক যথাক্রমে আবদুস সালাম ও শফিকুল ইসলাম খান। জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের অবদান স্মরণীয় করে রাখা এবং নগরবাসীর জন্য আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াসে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।

স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে প্রায় এক একর ভূমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। স্থাপনাটিতে লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে এবং এর সম্মুখভাগে রাখা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক। স্মৃতিস্তম্ভের বহির্ভাগে ১৬৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৪ ফুট উচ্চতার এবং অভ্যন্তরে ১৭১ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ ফুট উচ্চতার রিলিফ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট প্রতিফলিত হয়েছে।

অন্যদিকে, পুরান ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানকে একটি সবুজ ও নিরাপদ নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দেওয়া হয়েছে। এই আধুনিকায়নে পুরোনো জলাধার সংস্কারের পাশাপাশি নতুন পাঁচটি জলাশয় তৈরি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান বৃক্ষরাজি অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন গাছ রোপণ ও সবুজ চত্বর সাজানো হয়েছে। পার্কে নাগরিকদের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটারের পদচারণ পথ, শরীরচর্চাকেন্দ্র, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, গাড়ি পার্কিং ও ঘাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্যানটিতে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার রয়েছে এবং সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে তৈরি করা হয়েছে দ্রুত চলাচলের দোতলা বিশিষ্ট হাঁটার পথ।

বুটেক্সে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু ২৫ অক্টোবর, পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বুটেক্সে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু ২৫ অক্টোবর, পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর

বুটেক্সে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর ভর্তি ২৫ অক্টোবর শুরু এবং ৪ ডিসেম্বর ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর (এমএসসি) শ্রেণিতে ভর্তির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন খাতের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ফুলটাইম ও পার্টটাইম এই প্রোগ্রামগুলোতে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি অনুষদের অধীন বিভিন্ন বিভাগে উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ রাখা হয়েছে। এমএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের আওতায় ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স—এই সাতটি বিভাগের প্রতিটিতে আসন রয়েছে ১৫টি করে। এ ছাড়া এমএসসি ইন সাসটেইনেবিলিটি ইন টেক্সটাইলস প্রোগ্রামের আওতায় এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৫টি এবং এমএসসি ইন ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড রিটেইলিং কোর্সের অধীনে টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের জন্য ১৫টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুটেক্স কিংবা যেকোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় হতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা টেকনোলজিতে বিএসসি ডিগ্রিধারীরা ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর ৪.০০ স্কেলের সিজিপিএ পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৩.০০ বা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। আগ্রহীদের বুটেক্সের ভর্তিসংক্রান্ত পোর্টালে প্রবেশ করে ‘এমএসসি অ্যাডমিশন’ অপশনের মাধ্যমে পছন্দসই কোর্স নির্ধারণ করে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

নির্ধারিত দুই হাজার টাকা ফি পরিশোধ সাপেক্ষে প্রার্থীরা ২৫ অক্টোবর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর আগামী ৪ ডিসেম্বর ১০০ নম্বরের দেড় ঘণ্টার লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার সিলেবাসে ডিপার্টমেন্টাল বিষয়ের জন্য ৪০, জেনারেল টেক্সটাইল বিষয়ে ৪০ এবং ইংরেজির ওপর ২০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে এবং এর প্রাপ্ত মেধার আলোকেই চূড়ান্ত শিক্ষার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে। এ সংক্রান্ত অতিরিক্ত প্রয়োজনে রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখার ০১৫৫৪-৯২৬২২০ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।