খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: সাভারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদাই আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার: সাভারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সাভার সেনানিবাসে আজ রোববার সকালে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদার সুরক্ষাই হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের প্রধান অঙ্গীকার। রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে কয়েকটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড (জাতীয় পতাকা) প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে বিশ্বের সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক সুদৃঢ় রাখতে চায় বাংলাদেশ। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, পেশাদার এবং শৃঙ্খলাপরায়ণ আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার সর্বাত্মক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বর্তমান সরকার।

আধুনিক সামরিক বাহিনীর মানদণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাহিনীর প্রকৃত পরাক্রম কেবল অস্ত্রসম্ভার বা লোকবলের ওপর নির্ভর করে না; এর আসল শক্তি হলো শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিকতা, নেতৃত্ব, পেশাগত দক্ষতা, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা। সর্বোপরি চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এর অপরিহার্য শর্ত। বিভিন্ন ইউনিটের বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এটি কেবল কোনো সাধারণ নিশান নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ইউনিটের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, ত্যাগ, ঐতিহ্য এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতীক। এই পতাকার সম্মান সমুন্নত রাখাকে তিনি প্রতিটি সৈনিকের পবিত্র দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন।

সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার নানামুখী অপতৎপরতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত অধ্যায়ের মধ্য দিয়েই এই বাহিনীর জন্ম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা শুরু হলে চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের তৎকালীন উপ–অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা করেন। এরপর ২৬ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি রেজিমেন্টের বাঙালি সেনাসদস্যদের সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দেশপ্রেমিক সেনাদের সশস্ত্র প্রতিরোধ, ২৬ মার্চের নির্দেশ এবং পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য মাইলফলক। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে একজন সেনাকর্মকর্তার এমন ঐতিহাসিক ভূমিকা সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার উৎস। এ কারণেই স্বাধীনতাপ্রিয় দেশপ্রেমিক জনগণ সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যকে বাংলাদেশের সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করে।’ এ সময় তিনি সৈনিক ও কর্মকর্তাদের আইন, সংবিধান এবং সামরিক শৃঙ্খলার প্রতি দায়বদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

বর্তমান ভূরাজনীতি ও পরিবর্তিত নিরাপত্তা প্রেক্ষাপট সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্থল, আকাশ ও নৌসীমার পাশাপাশি এখন মহাকাশ, সাইবার জগৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধ জাতীয় প্রতিরক্ষার মূল নিয়ামক হয়ে উঠেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের জন্য নিজস্ব প্রতিরক্ষাশিল্প গড়ে তোলায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে প্রযুক্তি কখনই মানুষের বিকল্প নয় উল্লেখ করে তিনি তিন বাহিনীর সমন্বিত সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। এছাড়া জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসনীয় ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

সামরিক বাহিনীর সার্বিক সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, সদস্যদের আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও অবসরকালীন সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে সরকার। ইতোমধ্যে নতুন পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড দেওয়া হয়। আয়োজনে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, মন্ত্রী, সেনাপ্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
advertisement

নানা প্রান্তের খণ্ডচিত্র: প্রকৃতি ও উৎসবের আবহে প্রাত্যহিক জীবনের কোলাজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নানা প্রান্তের খণ্ডচিত্র: প্রকৃতি ও উৎসবের আবহে প্রাত্যহিক জীবনের কোলাজ

সূর্যোদয়ের সময় আকাশজুড়ে সোনালি আভা। মাউন্টেনিয়ারিং ভ্যালি, রাঙামাটি, ১৮ অক্টোবর

গত ১৮ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন জনপদে ধরা পড়েছে ঋতুবৈচিত্র্য, উৎসব এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত। এদিন সকালে রাঙামাটির মাউন্টেনিয়ারিং ভ্যালিতে সূর্যোদয়ের সময় সোনালি আভায় রঙিন হয়ে ওঠে আকাশ। তবে একই দিনে রাঙামাটির আরেকটি এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বাঁশ ও কাঠের তৈরি নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে বিপজ্জনকভাবে পারাপার করতে দেখা গেছে। এদিকে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কৃষ্ণনগরে পূজামণ্ডপের কাছে নির্মিত ঘোড়ার গাড়ির আদলে গড়া কাঠামোতে বসে সময় কাটান দুই তরুণ। সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই ফকিরপাড়ায় এদিন শোভা পায় সদ্য ফোটা কাঠগোলাপ ফুল।

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীর সকালে রংপুরের করুণাময়ী কালীবাড়ি মন্দিরে দেখা যায় ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ওই দিনই রংপুরের দমদমা এলাকায় হেমন্তের হালকা কুয়াশা ভেদ করে মহাসড়কে যান চলাচল করতে দেখা যায়। রংপুরের ছিলিমপুরে কৃষকদের খেত থেকে সরাসরি করলা তুলে সেখানেই বিক্রি করতে দেখা গেছে। খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসা এলাকায় ধানখেতের পাশের জলাশয়ে জমে থাকা পানিতে দেখা মেলে বকের বিচরণ। এ ছাড়া ফরিদপুরের রামকান্তপুরে কৃষকেরা জমিতে ব্যস্ত সময় কাটান ভুট্টার বীজ বপনে এবং কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার নোয়াদ্দায় বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করে এক ব্যক্তিকে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ সফরের টেস্ট দল থেকে ছিটকে গেলেন কিমো পল, ডাক পেলেন স্প্রিঙ্গার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাংলাদেশ সফরের টেস্ট দল থেকে ছিটকে গেলেন কিমো পল, ডাক পেলেন স্প্রিঙ্গার

শামার স্প্রিঙ্গার

ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করে আজই ঢাকায় পা রাখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট দল। তবে বাংলাদেশে আসার আগমুহূর্তে স্কোয়াডে একটি পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ভারত থেকেই দেশে ফিরে যাচ্ছেন কিমো পল। তাঁর জায়গায় প্রথমবারের মতো টেস্ট স্কোয়াডে সুযোগ পেয়েছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার শামার স্প্রিঙ্গার। এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্যারিবীয় ক্রিকেট বোর্ড।

জাতীয় দলের হয়ে ৩টি ওয়ানডে ও ১২টি টি-টোয়েন্টি খেলা ২৮ বছর বয়সী স্প্রিঙ্গারের এখনো টেস্ট অভিষেক হয়নি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৩ ম্যাচে ৩২.৫৯ গড়ে ১ হাজার ৪৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৫৮টি উইকেট শিকার করেছেন তিনি। বার্বাডোজের হয়ে ২০২৬ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যাট হাতে তিনি দুর্দান্ত সময় পার করেন; যেখানে চার ম্যাচে ৫০.২০ গড়ে আসে ২৫১ রান। তবে বোলিংয়ে তুলনামূলক নিষ্প্রভ থেকে ৮ ইনিংসে ৪২ গড়ে নেন ৭ উইকেট। সিডব্লিউআই জানায়, পলের বদলি হিসেবে ওজে শিল্ডস ও নিয়াল স্মিথের নামও তালিকায় ছিল, কিন্তু চোটের কারণে তাঁদের দলে নেওয়া যায়নি। এর আগে ওয়ার্কলোড বিবেচনায় পেসার আলজারি জোসেফকে বাদ দেওয়া হয় এবং সাদা বলের অধিনায়ক শাই হোপকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। শুরুতে জোসেফের বিকল্প হিসেবেই দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন পল। এদিকে অন্য এক প্রসঙ্গে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী উল্লেখ করেছিলেন যে ভারত দুই থেকে তিন কোটি ডলার পেলেও তাঁদের প্রাপ্তি শূন্য।

ভারতের বিপক্ষে সীমিত ওভারের স্কোয়াডে পল ও স্প্রিঙ্গার উভয়েই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। শনিবার বেঙ্গালুরুতে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হওয়ায় পাঁচ ম্যাচের সিরিজটি ২–২ সমতায় শেষ হয়। এর আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটিতে ২–১ ব্যবধানে হেরেছিল সফরকারীরা। ঘোষিত সূচি অনুসারে, বাংলাদেশে এসে ২২ থেকে ২৪ অক্টোবর একটি তিন দিনের প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে ক্যারিবীয়রা। পরবর্তীতে মিরপুরে ২৮ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রথম টেস্ট। এরপর ৫ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে।

বাংলাদেশ সফরের ওয়েস্ট ইন্ডিজ স্কোয়াড: রোস্টন চেজ (অধিনায়ক), জোমেল ওয়ারিকান (সহ-অধিনায়ক), জশুয়া বিশপ, জন ক্যাম্পবেল, তেজনারায়ণ চন্দরপল, জশুয়া দা সিলভা (উইকেটকিপার), জাস্টিন গ্রিভস, কাভেম হজ, আমির জাঙ্গু (উইকেটকিপার), শামার জোসেফ, ব্রেন্ডন কিং, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস, শামার স্প্রিঙ্গার ও কেভিন উইকহাম।

২০২৭ সালের এসএসসির ফরম পূরণের সূচি প্রকাশ, পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের ৬ জরুরি নির্দেশনা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২০২৭ সালের এসএসসির ফরম পূরণের সূচি প্রকাশ, পরীক্ষার্থীদের জন্য বোর্ডের ৬ জরুরি নির্দেশনা

এসএসসি পরীক্ষার্থী

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার অনলাইনে ফরম পূরণ ও ফি জমা দেওয়ার সময়সূচি প্রকাশ করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়ে বিলম্ব ফি ছাড়া অনলাইনে ফরম পূরণ চলবে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এই প্রক্রিয়ার পাশাপাশি জিপিএ মানোন্নয়ন, বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থী ও অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয়ে বেশ কিছু নিয়মাবলি তুলে ধরে ৬টি জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও যারা জিপিএ-৫ পায়নি, তারা রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ সাপেক্ষে ২০২৭ সালে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এজন্য তাদের ২০২৬ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুযায়ী সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হবে। মানোন্নয়ন হলে নতুন ফল কার্যকর হবে, নতুবা আগের জিপিএ বহাল থাকবে। আবেদনকারীদের পূর্বের প্রবেশপত্র ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্টের সত্যায়িত ফটোকপি প্রিন্ট কপির সঙ্গে জমা দিতে হবে। এছাড়া যেসব বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর শাস্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে এবং নিবন্ধনের মেয়াদ রয়েছে, তারা অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে সব বিষয়ে অংশ নিতে পারবে।

চতুর্থ বিষয়ের সুবিধার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ সালের রেজিস্ট্রেশনধারী যারা ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পরীক্ষায় বসেনি, তারা অনিয়মিত হিসেবে ২০২৭ সালে চতুর্থ বিষয়সহ সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। একই সেশনের যেসব শিক্ষার্থী বিগত দুই বছরের পরীক্ষায় সব বিষয়ে অংশ নিয়ে চতুর্থ বিষয়ে পাস করলেও এক থেকে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তারা অনুত্তীর্ণ বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাস করলে চতুর্থ বিষয়ের সুবিধা লাভ করবে। নির্বাচনী পরীক্ষার বিষয়ে জানানো হয়েছে, জিপিএ উন্নয়ন ও পূর্বে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য সবার জন্য নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক।

পাঠ্যসূচির নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ ও ২০২৬ সালের এবং নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা এবং ক্যারিয়ার এডুকেশন বিষয়ের ক্ষেত্রে এনসিটিবির নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধারাবাহিক মূল্যায়নের নম্বর সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে পাঠাবে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ব্যবহারিক নম্বরের সাথে এই নম্বর বোর্ডের ওয়েবসাইটে অনলাইনে পাঠাবে এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের হাতে লেখা মূল নম্বর ফর্দ মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখায় সশরীরে জমা দেবে।

অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের নিয়মে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ সেশনের পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া শিক্ষার্থীদের কোনোভাবেই নিয়মিত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। ২০২৬ সালে চতুর্থ বিষয় ছাড়া এক থেকে চারটি বিষয়ে অকৃতকার্যরা চাইলে শুধু অকৃতকার্য বিষয়ে কিংবা সব বিষয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। ২০২৫ সালে এক থেকে তিনটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়ে ২০২৬ সালে অংশ না নেওয়া বা পুনরায় ফেল করা শিক্ষার্থীরাও একই সুযোগ পাবে, তবে আংশিক বিষয়ে অংশ নিলে চতুর্থ বিষয়ের পরীক্ষা দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে ২০২২-২৩ সেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ অথচ চতুর্থ বিষয় বাদে এক বিষয়ে ফেল থাকা শিক্ষার্থীরা বিশেষ বিবেচনায় কেবল এক বছরের জন্য রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করে পরীক্ষা দিতে পারবে; এ জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে মূল কার্ড বিদ্যালয় পরিদর্শকের দপ্তরে জমা দিয়ে নবায়নকৃত কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এসব শিক্ষার্থীর পূর্বে উত্তীর্ণ বিষয়ের জিপি সংরক্ষিত থাকবে এবং তা নতুন ফলের সাথে যোগ করে চূড়ান্ত জিপিএ নির্ধারিত হবে।