জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণ: আহত চালককে নিয়ে নিজেই হাসপাতালে ছোটেন তারকা, তদন্তে ১৫ দল
অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলাকারীদের পাকড়াও করতে গঠন করা হয়েছে ১৫টি বিশেষ দল। পালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত সন্দেহে আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। এদিকে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দায় স্বীকারের একটি বার্তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা, যদিও এই গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পুলিশ এখনও নিশ্চিত করেনি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় ফুটবল ম্যাচ শেষে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন টাইগার। সে সময় তাঁর গাড়ি নিশানা করে পাঁচটি গুলি চালানো হয়। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর চালক ফেরদৌসের বাঁ হাতে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত উমেশ চবন নামের আরেক ব্যক্তির শরীরে গুলি লাগে। তবে বর্তমানে তাঁরা দুজনই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, ফুটবল খেলে বের হওয়ার পর ভক্তদের অভিবাদন জানিয়ে গাড়িতে উঠছিলেন টাইগার। হঠাৎই দুই হামলাকারী গাড়ির কাছে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে এবং তাদের আরেক সহযোগী পালানোর জন্য মোটরসাইকেল প্রস্তুত রাখে। গুলির একপর্যায়ে এক হামলাকারীর অস্ত্র অকেজো হয়ে গেলে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে চম্পট দেয়। চালক ফেরদৌস রক্তাক্ত হলে পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে ওঠে। সে সময় এক নারীর ‘তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, টাইগার’ চিৎকারের মধ্যে অভিনেতা কালবিলম্ব না করে নিজেই বিএমডব্লিউর স্টিয়ারিং ধরে চালককে নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে যান। গাড়িটি চলে যাওয়ার পর রাস্তায় রক্তের চিহ্ন দেখা যায়।
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের চেসিস নম্বর ও নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পালানোর পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। আহত চালকের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ। হত্যাচেষ্টাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়েছে মামলা। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম ব্যবহার করে বিষ্ণোই চক্রের তরফে এক পোস্টে দাবি করা হয়, টাইগারকে আগেই টেলিফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তিনি তা শোনেননি। এমনকি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও সেখানে নিশানা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়িয়ে পড়া এক অডিও বার্তায় ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানকে বিষ্ণোই সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়া লরেন্স বিষ্ণোইয়ের চক্রের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলিবর্ষণ এবং একই বছরের অক্টোবরে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা বাবা সিদ্দিকিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ইন্ডিয়া টুডেকে টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফের দল জানিয়েছে যে অভিনেতা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন, যা শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মা আয়েশা শ্রফও। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ টেলিফোনে টাইগারের সঙ্গে কথা বলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার রাতে সশরীরে অভিনেতার বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সাক্ষাৎকালে টাইগারের হাতে ব্যান্ডেজ ও শরীরে ড্রেসিং দেখা যায়। পরে সাংবাদিকদের শিন্ডে জানান, সরাসরি গুলি না লাগলেও বারুদ এবং ভাঙা কাচের টুকরোয় সামান্য জখম হয়েছেন টাইগার এবং মা-ছেলে উভয়েই মানসিক ধাক্কায় আছেন। মুম্বাইয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসের আধিপত্য বিস্তার বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়ে পরিবারটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।





আপনার মতামত লিখুন