খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

দাঁড়িয়ে নাকি বসে প্রস্রাব—পুরুষদের জন্য কোনটি ভালো? গবেষণায় মিলল উত্তর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দাঁড়িয়ে নাকি বসে প্রস্রাব—পুরুষদের জন্য কোনটি ভালো? গবেষণায় মিলল উত্তর

দাঁড়িয়ে নাকি বসে প্রস্রাব—পুরুষদের জন্য কোনটি ভালো? গবেষণায় মিলল উত্তর

স্বাস্থ্য ডেস্ক: প্রস্রাব করার সময় পুরুষদের দাঁড়িয়ে থাকা ভালো নাকি বসে থাকা উচিত, এই বিষয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতে নতুন একটি গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সম্প্রতি নিউরোইউরোলজি অ্যান্ড ইউরোডাইনামিকস সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় জানানো হয়েছে যে, সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাব করার এই দুই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যে কার্যকারিতার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো তফাত নেই। কলম্বিয়ান ইউরোলজি রিসার্চ গ্রুপের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ৫২ জন সুস্থ পুরুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের উভয় অবস্থানেই প্রস্রাব করতে বলেন এবং তাদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করেন।

গবেষণার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশকে প্রথমে বসে এবং পরে দাঁড়িয়ে, আর অন্য অংশকে এর বিপরীত নিয়মে প্রস্রাব করতে বলা হয়। প্রতিটি পরীক্ষার মধ্যে অন্তত চব্বিশ ঘণ্টার একটি নির্দিষ্ট বিরতি রাখা হয়েছিল, যা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় ওয়াশআউট পিরিয়ড নামে পরিচিত। প্রতিবার প্রস্রাবের সময় সর্বোচ্চ প্রবাহের হার এবং মোট নির্গত প্রস্রাবের পরিমাণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করা হয়। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায় যে, শরীরের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে প্রস্রাবের এই সূচকগুলোতে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসে না। তবে গবেষকেরা লক্ষ করেছেন যে, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার সময় সর্বোচ্চ প্রবাহের গতিতে পৌঁছাতে সামান্য একটু বেশি সময় লাগতে পারে। পরিসংখ্যানগতভাবে এই তফাত সামান্য হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এর বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছিল যে, প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া বা নিম্ন মূত্রনালির সমস্যায় ভোগা পুরুষদের জন্য বসে প্রস্রাব করা অধিক সুবিধাজনক। চিকিৎসকদের মতে, বসে প্রস্রাব করলে শ্রোণীদেশীয় পেশি শিথিল হয় এবং মূত্রথলি তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে খালি হতে পারে। তবে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই দুই পদ্ধতির কার্যকারিতায় বড় কোনো তফাত না পাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে কোনো জটিলতা না থাকলে পুরুষেরা নিজেদের পছন্দমতো যেকোনো মাধ্যম বেছে নিতে পারেন। তাছাড়া বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে এই অভ্যাসের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলোও জড়িত থাকে, যা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি মাথায় রেখে যার যার সুবিধা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই সবচেয়ে শ্রেয় বলে মনে করেন গবেষকেরা।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীরে কিছু শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন আসে যা প্রস্রাবের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। পঞ্চাশ বছর বয়স পার হওয়ার পর অনেক পুরুষের প্রোস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে যায়, যার ফলে মূত্রনালি সংকুচিত হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা কঠিন হতে পারে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে বসে প্রস্রাব করা ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক গবেষণার লেখকেরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, আগেকার অনেক গবেষণায় ছোট নমুনার ওপর ভিত্তি করে অতিরঞ্জিত সিদ্ধান্ত টানা হয়েছিল। নতুন এই গবেষণায় সেই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে সুস্থ পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের অবস্থানে খুব একটা ফারাক পড়ে না। তাই কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকলে নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী যেকোনো উপায় বেছে নেওয়ায় কোনো বাধা নেই।

advertisement
advertisement

ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দৈনন্দিন রূপচর্চায় মুখের ত্বকের প্রতি যতটা যত্নশীল হওয়া যায়, মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঠিক ততটা মনোযোগ দেওয়া হয় না। অথচ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কোরিয়ান রূপচর্চা বা কে-বিউটি দর্শনের মূল কথাই হলো সুন্দর ও ঘন চুলের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে একটি স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্পের ভেতরে। কোরিয়ান নারীদের মতে মাথার ত্বক হলো মুখের ত্বকেরই একটি বর্ধিত অংশ, যার নিজস্ব সুরক্ষাকবচ বা প্রোটিন ব্যারিয়ার রয়েছে। তাই স্ক্যাল্পের সঠিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ওপরই সরাসরি নির্ভর করে চুলের আসল উজ্জ্বলতা ও মজবুতি।

কোরিয়ান পদ্ধতিতে কেবল চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করা বা কন্ডিশনার লাগানোর মাঝেই চুল ধোয়া সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এতে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। পরিবেশের নানা দূষণ, ধুলাবালি এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে মাথার ত্বকে যে ময়লা জমে, তা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কোরিয়ান কৌশলে স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল ও শুষ্কতা দূর করে এর আর্দ্রতা বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ নিয়মের বাইরে কোরিয়ান রুটিনে শ্যাম্পু করার পর এক্সফোলিয়েটর বা বিশেষ স্ক্যাল্প মাস্ক ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। শ্যাম্পু দিয়ে প্রাথমিক ময়লা পরিষ্কার করার পর ভালো মানের এক্সফোলিয়েটর বা এনজাইম পিল ব্যবহার করলে তা গভীর থেকে মৃত কোষ ও জমে থাকা কেমিক্যালের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি দূর করে। এর ফলে চুলের গোড়া চাঙ্গা হয় এবং চুল চিটচিটে না হয়ে বেশ ভলিউমিনাস বা প্রাণবন্ত দেখায়।

চুল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে কোরিয়ানরা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলেন যেমন অতিরিক্ত গরম পানি স্ক্যাল্পের ক্ষতি করতে পারে বিধায় তারা সবসময় ইষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া শ্যাম্পু করার সময় মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে চুল ধোয়া তাদের আরেকটি চমৎকার কৌশল, যার ফলে মাথার পেছনের কঠিন অংশগুলোতেও সহজে শ্যাম্পু পৌঁছে যায়। চুল ধোয়ার সময় কখনো নখ ব্যবহার করা হয় না, বরং আঙুলের নরম ডগা দিয়ে বা সিলিকন স্ক্যাল্প ব্রাশ দিয়ে বৃত্তাকারে আলতোভাবে ম্যাসাজ করা হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।

চুলকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে কোরিয়ানরা সময়ভিত্তিক প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার করে থাকেন এবং সকালে বা রাতে চুল ধোয়ার ওপর ভিত্তি করে রুটিন সাজান। এ ছাড়া বাতাসে থাকা দুর্গন্ধ দূর করতে এবং সারা দিন চুল সতেজ রাখতে স্ক্যাল্প টনিক বা হেয়ার পারফিউমের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। কোরিয়ানদের এই অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করে চুলের সাধারণ অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে যেকোনো চুল হয়ে উঠতে পারে আরও আকর্ষণীয় ও সতেজ।

জুলাই–অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭.০৪ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জুলাই–অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭.০৪ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

জুলাই–অক্টোবরে রপ্তানি আয় ১৭.০৪ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ

অর্থনীতি ডেস্ক: চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবর সময়কালে দেশের পণ্য রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত সময়ে মোট রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক শূন্য চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অর্জনের পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক শূন্য আট বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই ব্যবধানে বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি আয় প্রায় ছয় শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি উৎসাহব্যঞ্জক বার্তা বয়ে এনেছে।

এই সামগ্রিক রপ্তানি প্রবৃদ্ধির পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ দশমিক চার শতাংশই এসেছে এই পোশাক খাত থেকে। এর মধ্যে নিটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি সাত শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে সাত দশমিক একাত্তর বিলিয়ন ডলারে এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি চার দশমিক আট শতাংশ বেড়ে ছয় বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। সামগ্রিক রপ্তানির মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় একষট্টি শতাংশই এই দুই উপখাতের হাত ধরে অর্জিত হয়েছে যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে পোশাক শিল্পের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রমাণ করে।

পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বেশ কিছু অ-পোশাক খাতের পণ্য রপ্তানিতেও চমৎকার প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্যে প্রায় চব্বিশ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে প্রায় তেরো শতাংশ এবং রাসায়নিক পণ্যের রপ্তানিতে সাতাশ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এছাড়া হোম টেক্সটাইল এবং পাদুকা শিল্পের রপ্তানিও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে যা রপ্তানি বাণিজ্যের বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই সামগ্রিক অর্জনের মাঝেও কৃষিপণ্য, হিমায়িত মাছ এবং তুলাজাত কিছু পণ্যের রপ্তানিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি বা পতন দেখা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, রপ্তানি আয়ের এই ধারাবাহিক ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে হলে পণ্যের গুণগত মান আরও উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়িয়ে নতুন নতুন গন্তব্যে বাজার সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যে খাতগুলোতে সাময়িকভাবে রপ্তানি কমে গেছে, সেগুলোর মূল প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সঠিক নীতিনির্ধারণ এবং সময়োপযোগী সহায়তার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি খাত আরও সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইউটিউব দেখে পড়ালেখা করে জিপিএ–৫

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইউটিউব দেখে পড়ালেখা করে জিপিএ–৫

ইউটিউব দেখে পড়ালেখা করে জিপিএ–৫

শিক্ষা ডেস্ক: দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের কৃতি মেয়েসন্তানদের জন্য আইডিএলসি ও প্রথম আলো ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে প্রদান করা হচ্ছে বিশেষ অদ্বিতীয়া বৃত্তি। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের এই ছাত্রীদের আবাসন ও টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩ জন শিক্ষার্থী এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির সুবিধা পেয়েছেন। এর মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করা ৮৬ জন শিক্ষার্থীর অনেকেই দেশ ও বিদেশে সফলতার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। সম্প্রতি এই বৃত্তির জন্য নতুন করে আরও ১৫ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট চা-বাগানের এক দরিদ্র চা-শ্রমিকের সন্তান অন্তরা তাঁতী অভাবের কারণে ছোটবেলায় গাইড বই কিনতে না পারলেও বন্ধুদের বই ধার করে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। বাসায় স্মার্টফোন না থাকায় আত্মীয়ের মুঠোফোনে ইউটিউব দেখে ক্লাস করে তিনি ২০২২ ও ২০২৪ সালে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। বর্তমানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে অধ্যয়নরত এই শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ও যাতায়াতের খরচ বহন করা তাঁর পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন। এই অদ্বিতীয়া বৃত্তি তাঁর উচ্চশিক্ষার পথকে সুগম করার পাশাপাশি পরিবারের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজারের চা-শ্রমিক মা ও কৃষিজীবী বাবার কন্যা অনিমা রানী পাল চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও কখনো পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তা করেননি। চার বোনের এই সংসারে বাবা-মার সীমিত আয়ে সাত সদস্যের পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোই কষ্টসাধ্য, এর ওপর পড়াশোনার বাড়তি ব্যয় বহন করা তাঁদের জন্য ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বান্দরবানের জুমচাষি পরিবারের সন্তান লিডিয়া বম স্কুলের পোশাক কেনার টাকা জোগাড় করতে অন্যের জুমে কাজ করেছেন। উচ্চশিক্ষার ভর্তি পরীক্ষার খরচ চালাতে পরিবার ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়লে ঢাকায় গিয়ে কাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে এই বৃত্তির সন্ধান পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান।

খাগড়াছড়ির মেহেরুন নেছার পরিবারে নেমে আসে বড় ধরনের বিপর্যয়, যখন ২০২৩ সালে কিডনি জটিলতায় তাঁর বাবার মৃত্যু হয়। একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে, কারণ তাঁর মা গৃহিণী এবং ছোট ভাই নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। এই পরিস্থিতিতে নিজের খরচ নিজে চালিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মায়ের ওপর চাপ কমানো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। একইভাবে বান্দরবানের মিকল ময় ম্রো শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর মায়ের একাকী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। নানাবাড়িতে থেকে মা ও ভাইয়ের সহযোগিতায় জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এই শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তিসহ পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এই অদ্বিতীয়া বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ জীবনের দুরূহ সংগ্রামের গল্প পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মা-বাবা ও পরিবারের ত্যাগ এবং সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তারা প্রত্যেকেই উচ্চশিক্ষা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নিজেদের মতো করে সমাজের অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত ও আর্থিক সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দৃঢ় স্বপ্ন রয়েছে তাদের। এই ধরনের বৃত্তিমূলক সহায়তা কেবল শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনাই সচল রাখছে না, বরং তাদের সুদূরপ্রসারী ক্যারিয়ার গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।