খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

ঝলমলে চুল ও পরিচ্ছন্ন স্ক্যাল্পের জন্য চুল ধোওয়ার কোরিয়ান রহস্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দৈনন্দিন রূপচর্চায় মুখের ত্বকের প্রতি যতটা যত্নশীল হওয়া যায়, মাথার ত্বক বা স্ক্যাল্পের ক্ষেত্রে অনেক সময় ঠিক ততটা মনোযোগ দেওয়া হয় না। অথচ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত কোরিয়ান রূপচর্চা বা কে-বিউটি দর্শনের মূল কথাই হলো সুন্দর ও ঘন চুলের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে একটি স্বাস্থ্যকর স্ক্যাল্পের ভেতরে। কোরিয়ান নারীদের মতে মাথার ত্বক হলো মুখের ত্বকেরই একটি বর্ধিত অংশ, যার নিজস্ব সুরক্ষাকবচ বা প্রোটিন ব্যারিয়ার রয়েছে। তাই স্ক্যাল্পের সঠিক স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার ওপরই সরাসরি নির্ভর করে চুলের আসল উজ্জ্বলতা ও মজবুতি।

কোরিয়ান পদ্ধতিতে কেবল চুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করা বা কন্ডিশনার লাগানোর মাঝেই চুল ধোয়া সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এতে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়। পরিবেশের নানা দূষণ, ধুলাবালি এবং অতিরিক্ত ঘামের কারণে মাথার ত্বকে যে ময়লা জমে, তা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কোরিয়ান কৌশলে স্ক্যাল্পের অতিরিক্ত তেল ও শুষ্কতা দূর করে এর আর্দ্রতা বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

সাধারণ নিয়মের বাইরে কোরিয়ান রুটিনে শ্যাম্পু করার পর এক্সফোলিয়েটর বা বিশেষ স্ক্যাল্প মাস্ক ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। শ্যাম্পু দিয়ে প্রাথমিক ময়লা পরিষ্কার করার পর ভালো মানের এক্সফোলিয়েটর বা এনজাইম পিল ব্যবহার করলে তা গভীর থেকে মৃত কোষ ও জমে থাকা কেমিক্যালের অবশিষ্টাংশ পুরোপুরি দূর করে। এর ফলে চুলের গোড়া চাঙ্গা হয় এবং চুল চিটচিটে না হয়ে বেশ ভলিউমিনাস বা প্রাণবন্ত দেখায়।

চুল পরিষ্কারের ক্ষেত্রে কোরিয়ানরা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলেন যেমন অতিরিক্ত গরম পানি স্ক্যাল্পের ক্ষতি করতে পারে বিধায় তারা সবসময় ইষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করেন। এ ছাড়া শ্যাম্পু করার সময় মাথা নিচের দিকে ঝুঁকিয়ে চুল ধোয়া তাদের আরেকটি চমৎকার কৌশল, যার ফলে মাথার পেছনের কঠিন অংশগুলোতেও সহজে শ্যাম্পু পৌঁছে যায়। চুল ধোয়ার সময় কখনো নখ ব্যবহার করা হয় না, বরং আঙুলের নরম ডগা দিয়ে বা সিলিকন স্ক্যাল্প ব্রাশ দিয়ে বৃত্তাকারে আলতোভাবে ম্যাসাজ করা হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে।

চুলকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে কোরিয়ানরা সময়ভিত্তিক প্রসাধনসামগ্রী ব্যবহার করে থাকেন এবং সকালে বা রাতে চুল ধোয়ার ওপর ভিত্তি করে রুটিন সাজান। এ ছাড়া বাতাসে থাকা দুর্গন্ধ দূর করতে এবং সারা দিন চুল সতেজ রাখতে স্ক্যাল্প টনিক বা হেয়ার পারফিউমের ব্যবহার বেশ জনপ্রিয়। কোরিয়ানদের এই অনন্য পদ্ধতি অনুসরণ করে চুলের সাধারণ অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে যেকোনো চুল হয়ে উঠতে পারে আরও আকর্ষণীয় ও সতেজ।

advertisement
advertisement

মাইডাস সেন্টারে মুদ্রা ও ব্যাংকনোটের মহাযজ্ঞ: প্রদর্শনীতে লিডিয়া থেকে বাংলাদেশের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মাইডাস সেন্টারে মুদ্রা ও ব্যাংকনোটের মহাযজ্ঞ: প্রদর্শনীতে লিডিয়া থেকে বাংলাদেশের আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস

এই অঞ্চলের মুদ্রা

প্রাচীন লিডিয়া থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম—মুদ্রা ও কাগজের নোটে লিপিবদ্ধ সভ্যতার দীর্ঘ অভিযাত্রাকে উপজীব্য করে রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে উদযাপিত হলো বাংলাদেশ নিউমিসম্যাটিক কালেক্টরস সোসাইটির ষষ্ঠ মুদ্রা প্রদর্শনী ২০২৬। বিচিত্র এই আয়োজনে ৪৩ জন সংগ্রাহকের সাজানো ৬১টি বিষয়ভিত্তিক সংগ্রহ স্থান পায়। উদ্বোধনী দিনে সংগঠনটির গবেষণাভিত্তিক মুখপত্র ‘বিএনসিএস জার্নাল’-এর প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়, যা মুদ্রা বিষয়ক অনুসন্ধান ও তথ্য সংরক্ষণের ধারাকে বেগবান করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আয়োজনের একটি বড় আকর্ষণ ছিল সুদীপ্ত পালের ‘লিডিয়া টু জাহাঙ্গীরনগর’ শীর্ষক পরিবেশনা। এতে প্রায় আড়াই হাজার বছরের উপমহাদেশীয় মুদ্রা ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় গান্ধার, মগধ, বঙ্গ, সমতট, মৌর্য, কুষাণ, গুপ্ত সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে দিল্লি সালতানাত, বাংলার সুলতানি আমল, মোগল ও ব্রিটিশ শাসন এবং পাকিস্তান পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পর্ব তুলে ধরা হয়। একইসঙ্গে উন্মোচিত হয় ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগরের নামকরণের ঐতিহাসিক রূপান্তর। সংগ্রাহক সুদীপ্ত পাল জানান, পুরোনো জিনিসের প্রতি ভালোলাগা থেকেই তাঁর সংগ্রহের সূচনা, যা পরবর্তী সময়ে অন্যান্য সংগ্রাহকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও তথ্য অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক চর্চায় রূপ নেয়।

সংগঠনটির নেপথ্য ইতিহাস তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক এন এম আমিন জানান, ২০০৮ সালে ডাক ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংগ্রাহকদের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়, যা ২০০৯ সালে সরকারি নিবন্ধন লাভ করে। বর্তমান আয়োজনটি তাদের ষষ্ঠ প্রদর্শনী। সদস্য হতে সক্রিয় সদস্যের সুপারিশ এবং নির্বাহী কমিটির অনুমোদন আবশ্যক। নিয়মিত নিলাম ও বৈঠকের পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান সফর এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে তারা। তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে মুঠোফোনের মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা, মাদক ও কিশোর অপরাধ থেকে দূরে রেখে গবেষণাধর্মী শখের প্রতি আকৃষ্ট করাও তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কাগুজে মুদ্রার বৈচিত্র্য নিয়ে প্রদর্শনীতে ছিল শামসুল আলমের ‘জার্নি অব ওয়ান রুপি/টাকা ফ্রম ১৯১৭–১৯৯৩’, যেখানে ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ ভারতে প্রথম এক রুপির নোট চালুর ইতিহাস এবং শের শাহ সুরির রৌপ্যমুদ্রার পটভূমি তুলে ধরা হয়। এছাড়া মেজর পঙ্কজ মল্লিকের ‘মেডেলস অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস’, এম ডি নাজমুল হকের বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিককার মাটির ও ধাতব ব্যাংক নিয়ে ‘হিস্টোরিক্যাল কয়েন ব্যাংক’, আহসানুজ্জামান জুয়েলের মুক্তিযুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সংঘাতভিত্তিক ‘ওয়ার অ্যান্ড সোলজার’ এবং বস্ত্রশিল্পের বিবর্তন নিয়ে সাজানো ‘দ্য কটন স্টোরি’ দর্শকদের নজর কাড়ে।

স্বাধীন বাংলাদেশের পর্ব থেকে ১৯৭২ সাল-পরবর্তী সব মূল্যমানের নোট, নমুনা নোট, প্রথম ও শেষ ক্রমিক সংবলিত নোট, ত্রুটিপূর্ণ নোট এবং ৫০০ টাকার বিভিন্ন উপসর্গের নমুনা স্থান পায়। আন্তর্জাতিক অংশে ছিল বিলুপ্ত রাষ্ট্র, ঔপনিবেশিক আমল, ফকল্যান্ড যুদ্ধ, প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানির স্থানীয় স্বল্পমূল্যের নোট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের দখলকৃত অঞ্চলের নোট, পলিমার নোট, ক্যালিগ্রাফি ও মসজিদের ছবিযুক্ত নোট এবং বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ও বৃহত্তম নোট।

ধাতব মুদ্রার অংশে ছিল সোনারগাঁওয়ে প্রস্তুত সুলতানি মুদ্রা, ত্রিপুরার মুদ্রা, দুই সহস্রাব্দের স্বর্ণমুদ্রা, দেশীয় রাজ্যগুলোর মুদ্রা এবং সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদের আমলের মুদ্রা। প্রদর্শনীতে চীনের ছুরির মতো মুদ্রা, কাতাঙ্গা ক্রস, বোট মানি, বুলেট মানি, টাইগার টাং, লাইবেরিয়ার কিসি পেনি, চায়ের পাতা নির্মিত মুদ্রা, দাস বাণিজ্যে ব্যবহৃত ব্রেসলেট মুদ্রা ও ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের ব্যাংকনোটও প্রদর্শিত হয়। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীতে ২০১১ সালের ১০ টাকা মূল্যের ২২ দশমিক ১০ গ্রাম ওজনের ৯২৫ মানের রৌপ্যমুদ্রা (ব্যাস ৩৮ মিমি), একই বছর বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তির ২৫ গ্রাম ওজনের ৯৯৯ মানের ১০ টাকার রৌপ্যমুদ্রা এবং ২০১৩ সালে জাতীয় জাদুঘরের শতবর্ষে প্রকাশিত ১৮ শতকের অশ্বারোহী চিত্রসংবলিত স্মারক মুদ্রা বিশেষ গুরুত্ব পায়।

হংকংয়ে হ্যালোইনে দুই হাজার ড্রোনের রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
হংকংয়ে হ্যালোইনে দুই হাজার ড্রোনের রোমাঞ্চকর প্রদর্শনী

হ্যালোইন উদযাপনকে কেন্দ্র করে হংকংয়ের ভিক্টোরিয়া হারবারের আকাশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক চোখধাঁধানো ড্রোন প্রদর্শনী। সেখানে দুই হাজার ড্রোনের বর্ণিল আলোকচ্ছটায় ভূত, কুমড়া ও মাকড়সার নানা অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়। ড্রোনের এমন চিত্তাকর্ষক পরিবেশনা দেখে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক দর্শক অভিভূত হন।

এ সম্পর্কিত বিস্তারিত দেখতে ভিজিট করুন ভিডিও লিংকে: https://admin-prothomalo-video.chorki.net/v1/bytes/hzaloine-2-hajar-droner-vuture-so

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবতী নির্বাচনের প্রচারণা জমে উঠেছে

রাজনৈতিক বিশ্বাস কিংবা আদি নিবাস যা-ই হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী প্রত্যেক অভিবাসীর দেশটির মূলধারার রাজনীতিতে শামিল হওয়া অত্যন্ত জরুরি। যাঁদের ভোটাধিকার রয়েছে, তাঁদের কালবিলম্ব না করে ভোটার হিসেবে নাম তালিকাভুক্ত করা এবং চলতি বছরের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া উচিত। একটি সুদৃঢ় ও উন্নত গণতান্ত্রিক দেশে কোনো ধরনের ভয়ভীতি বা চাপ ছাড়াই ভোটাধিকার চর্চার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় সৌভাগ্য। অথচ এই অনন্য অধিকারটির তাৎপর্য আমরা অনেক সময়ই যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারি না। বিশ্বের বহু অঞ্চলেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেলে অর্থনৈতিক বা আর্থসামাজিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করতে হয়; এমনকি আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশেও দলীয় আনুগত্য কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন ভোটাধিকার এখনো বহু মানুষের কাছে এক অপূর্ণ স্বপ্ন হিসেবেই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বামমুখী হাওয়া লক্ষ্য করা গেলেও আমেরিকার রাজনৈতিক দল ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের বলিষ্ঠ সম্পৃক্ততা দেশটির জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি বাংলাদেশি আমেরিকান সমাজের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাঙালি হিসেবে রাজনীতি ও রাজনৈতিক সচেতনতা যেন আমাদের মজ্জাগত। পৃথিবীর যেখানেই আমরা থাকি না কেন, ভোটকে আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রহণ করি এবং দেশের রাজনীতির প্রতিও গভীর অনুরাগ বজায় রাখি। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি শীর্ষ রাজনৈতিক দলেরই শাখা রয়েছে এবং এসব দলের অনুসারীরা প্রায়ই জন্মভূমির নানা ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতায় মেতে ওঠেন। এই সচেতনতা ও সক্রিয়তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার হলেও এটি উপলব্ধি করা দরকার যে, আমাদের এই কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি ও জাতীয় স্বার্থের নিরিখে পর্যালোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ কিংবা ভেনেজুয়েলার মতো রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব কারো অজানা নয়। বিশ্বের শীর্ষ ক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসেবে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আধিপত্য ও প্রভাব বজায় রাখা ওয়াশিংটনের লক্ষ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের বিশেষ ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং সেখানে দেশটির ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আমেরিকানরা বড় প্রভাবক হতে পারেন।

কেবল পছন্দের রাজনৈতিক নেতাদের নাম মুখে নিয়ে কিংবা মুখোমুখি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাদানুবাদে লিপ্ত হয়ে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য মিলবে না। বরং ডেমোক্র্যাট, রিপাবলিকান কিংবা স্বতন্ত্র ভোটার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে হবে। এর সূচনা হওয়া উচিত চলতি বছরের নভেম্বর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যে ভোটার নিবন্ধন করার মাধ্যমে। অভিবাসীদের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এবং এর ঐতিহাসিক এলিস আইল্যান্ড লাখ লাখ মানুষের আমেরিকায় প্রবেশের ঐতিহাসিক সাক্ষী। এখানকার রাজনীতিবিদরা অভিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদান ও গুরুত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। নিউইয়র্কে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাসের কারণে অঙ্গরাজ্য এবং জাতীয়—উভয় পর্যায়ের রাজনীতিতেই আমাদের তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখার বড় সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সেখানকার যোগ্য সকল বাংলাদেশিকে ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর আহ্বান জানাই। অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে কিংবা স্বতন্ত্র ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া সম্ভব। একই সাথে সবাইকে রাজনৈতিক সংগঠনে সক্রিয় হওয়া, সভা-সমাবেশে মত প্রকাশ এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। রাজনীতিতে এই সক্রিয়তাই দিনশেষে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ ও প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করবে। (লেখক: ড. দিলওয়ার আরিফ, সহযোগী অধ্যাপক, মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম এবং পরিচালক, জার্নালিজম, ক্যানিসিয়াস ইউনিভার্সিটি, বাফেলো, নিউইয়র্ক। ইমেইল: delawarearif@gmail.com)