খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

মোটরসাইকেল ভেদে পরিবর্তন করা যাবে সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, বিধি মালা সংশোধন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৪:১০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মোটরসাইকেল ভেদে পরিবর্তন করা যাবে সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, বিধি মালা সংশোধন

মোটরসাইকেল ভেদে পরিবর্তন করা যাবে সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, বিধি মালা সংশোধন

জাতীয় ডেস্ক: মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট সংযোজন এবং নিবন্ধন নম্বর প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন বিধিমালায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে দুই চাকার এই বাহনটির মডেল ও গঠনবৈচিত্র্য অনুযায়ী সামনের নম্বরপ্লেটের নকশায় ভিন্নতা আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। মূলত চালক ও মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবির কথা বিবেচনা করে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত এই বিধিমালা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তা কার্যকর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ চাইলে মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে এক লাইনে বা অনুভূমিক রেখায় নিবন্ধন নম্বর লেখার অনুমতি দিতে পারবে। এতদিন সাধারণত নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট মাপে নম্বর লিখতে হতো, যা অনেক সময় সব ধরনের বাইকের সঙ্গে মানানসই হতো না। এখন থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাইকের সামনের কাঠামোর ভিন্নতা বিবেচনা করে একাধিক মাপের বিপরীতমুখী আলো প্রতিফলক বা রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট ব্যবহারের অনুমোদন দিতে পারবে সংস্থাটি। এর ফলে নম্বরপ্লেট সংযোজন প্রক্রিয়া আরও বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুধু নম্বর এক লাইনে লেখাই নয়, নম্বরপ্লেটের সার্বিক মাপজোক নির্ধারণের ক্ষেত্রেও বিআরটিএকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে নম্বরপ্লেটের আকার, ব্যবহৃত অক্ষরের উচ্চতা এবং বিভিন্ন চিহ্নের সুনির্দিষ্ট মাপ সংস্থাটি নিজেই নির্ধারণ করতে পারবে। এছাড়া সামনের নম্বরপ্লেটে কোন জেলা বা অঞ্চল থেকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে তা নির্দেশকারী অক্ষর, গাড়ির শ্রেণি বোঝানোর অক্ষর, পাশাপাশি দুটি অক্ষরের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা এবং হাইফেনের দৈর্ঘ্য কত হবে, তা ঠিক করে দেওয়ার এখতিয়ারও তাদের দেওয়া হয়েছে। এক লাইনে নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা ও শ্রেণির অক্ষরের পর নির্দিষ্ট মাপের হাইফেন ব্যবহারেরও সুনির্দিষ্ট সুযোগ রাখা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ সালের ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সড়ক পরিবহন বিধিমালায় এই গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনেছে। ২০২২ সালে প্রণীত সড়ক পরিবহন বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধিটি সংশোধন করেই মূলত এই নতুন বিধানগুলো যুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংশোধনের ফলে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের নম্বরপ্লেটসংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে এবং বিআরটিএ আরও সুচারুভাবে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই বিধিমালার সফল বাস্তবায়নে শিগগিরই মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হতে পারে।

advertisement
advertisement

ইরান যুদ্ধে কতটা প্রভাব ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইরান যুদ্ধে কতটা প্রভাব ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল

ইরান যুদ্ধে কতটা প্রভাব ফেলবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মনে করেন, এই নির্বাচনী ফলের ওপর নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের আগামী দিনের কৌশলগত পদক্ষেপ। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ভূরাজনৈতিক আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছেন।

ত্রিতা পারসির মতে, মঙ্গলবারের ওই নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টি বিজয়ী হলে এবং রিপাবলিকানরা কোণঠাসা হয়ে পড়লে বর্তমান প্রশাসনের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে তারা ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারবে। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ বরাদ্দের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকায় যুদ্ধ পরিচালনার বাজেট বা অর্থায়নও বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অন্যদিকে, নির্বাচনে রিপাবলিকানরা রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়লে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বেশি বেপরোয়া পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে সতর্ক করেছেন এই বিশ্লেষক। এর পেছনে তিনি অতীতে ক্ষমতা হারানোর সময়ের মানসিকতা ও আচরণকে উদাহরণ হিসেবে টেনেছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, সেই স্মৃতি এখনো প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন তিনি।

নির্বাচনের ফলাফল এবং নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর মধ্যবর্তী সময়টিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পারসির আশঙ্কা, আগামী জানুয়ারি মাসে নতুন কংগ্রেস বসার আগেই ইসরাইলি সরকার মার্কিন প্রশাসনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের জন্য তারা তৃতীয় দফায় চাপ বাড়াতে পারে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।

বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমিকের লড়াই মূলত আমাদের সবারই লড়াই: নাহিদ ইসলাম

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমিকের লড়াই মূলত আমাদের সবারই লড়াই: নাহিদ ইসলাম

বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমিকের লড়াই মূলত আমাদের সবারই লড়াই: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, শ্রমিকের রক্ত ও ঘামের ওপর নির্ভরশীল অর্থনীতিতে চলমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সংগ্রাম মূলত দেশের প্রতিটি মানুষেরই অধিকার আদায়ের লড়াই। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই কথা বলেন। দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল গাজীপুর, মিরপুর, আশুলিয়া ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় গত কিছুদিন ধরে পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করছেন। দিনভর সেলাই মেশিনের সামনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করা এসব সাধারণ মানুষ মাস শেষে কেবল একটি সম্মানজনক ও মানবিক জীবনযাপনের সুযোগ দাবি করছেন। তাদের এই চাওয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং বেঁচে থাকার তাগিদে অত্যন্ত যৌক্তিক একটি দাবি। অথচ এই ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়ার পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ এবং নানামুখী দমনপীড়ন চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

পোশাক শ্রমিকদের মজুরি সর্বশেষ ২০২৩ সালে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, বাসাভাড়া এবং চিকিৎসা খরচসহ সব ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই স্বল্প আয়ে বর্তমান বাজারে পরিবার পরিচালনা করা শ্রমিকদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতির কথা বলে সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল ও পেনশন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। একই বাজার থেকে কেনাকাটা করার পরও সরকারি কর্মচারীদের বেলায় যা মূল্যস্ফীতির অজুহাত, ঠিক একই পরিস্থিতিতে শ্রমিকের দাবিকে ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেওয়া পরিষ্কার দ্বিচারিতা। ঐতিহ্যগতভাবেই শ্রমিকদের যেকোনো ন্যায্য দাবিকে দমন করতে সেটিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বা বিরোধী দলের উসকানি হিসেবে চিহ্নিত করার পুরোনো অপচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু সেই অজুহাতে হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিকের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে ট্যাগ দেওয়া মূলত গোয়েন্দা ও প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকার একটি অপচেষ্টা মাত্র।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে রক্ত ও জীবন দিয়ে যাঁরা রাজনৈতিক পরিবর্তন এনেছিলেন, ক্ষমতার পালাবদল হলেও আজ তাঁদের ওপরই আগের আমলের মতো দমনপীড়নের ভাষা ও পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে। আন্দোলন দমনে পুলিশ ও বিজিবির লাঠিচার্জের কারণে ইতোমধ্যে বহু মানুষ আহত হয়েছেন, এমনকি সংবাদকর্মী ও সাধারণ পথচারীরাও এই হামলার শিকার হয়েছেন। একইসঙ্গে শ্রমিক নেতাদের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশের অপরাধে সাধারণ শ্রমিকদের গ্রেফতারের ঘটনা বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। যে রাষ্ট্র ন্যূনতম মজুরির দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমনে রাজপথে বিজিবি মোতায়েন করে, সেই রাষ্ট্রের জনকল্যাণমুখী ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। চলমান তীব্র চাপের মুখে সরকার সম্প্রতি যে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, তা মূলত আন্দোলন সাময়িক সময়ের জন্য থামানোর একটি কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। অতীতেও এই ধরনের বোর্ডের মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করে শেষ পর্যন্ত নামমাত্র মজুরি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এবং বর্তমান বোর্ডেও ক্ষমতাসীন দলঘেঁষা শ্রমিক প্রতিনিধি রাখায় এর নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

মালিকপক্ষ প্রায়ই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা বা কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দিলেও, ভালো সময়ে একাকী মুনাফা ভোগ করে সংকটের সব দায় ও বোঝা শুধু শ্রমিকের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া কখনোই কোনো টেকসই অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না। আন্তর্জাতিক ক্রেতা ব্র্যান্ডগুলোর কাছ থেকে পণ্যের ন্যায্যমূল্য আদায় এবং কারখানা মালিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে এই কোটি শ্রমিকের ঘাম ঝরানো শ্রম থেকে। তাঁদের পরিশ্রমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্ফীত হলেও মাস শেষে তাঁদের নিজেদের পরিবারে ঠিকমতো খাবার জোটে না, যা সমগ্র জাতির জন্যই অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। অবিলম্বে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি সম্মানজনক ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি গ্রেপ্তারকৃত সকল শ্রমিক ও নেতার মুক্তি, পুলিশি হামলার নিরপেক্ষ বিচার, অন্যায়ভাবে শ্রমিক ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্তকরণ বন্ধ এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশসহ ট্রেড ইউনিয়নের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মহড়া

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মহড়া

মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে লাঠি হাতে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মহড়া

রাজনীতি ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলন কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অস্থিতিশীল পরিবেশের মধ্যে এবার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সম্প্রতি সকালের দিকে মিরপুর দশ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় লাঠি হাতে অবস্থান নিতে দেখা গেছে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের। সরকারের তরফ থেকে সহিংসতা কঠোরভাবে দমনের হুঁশিয়ারি আসার পরদিন থেকেই মূলত এই রাজনৈতিক কর্মীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মাঝে হঠাৎ এমন সশস্ত্র মহড়া সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ন্যূনতম মজুরি ত্রিশ হাজার টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা সকালে মিরপুর দশ নম্বর এলাকায় সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা চালান। শ্রমিকদের এই জমায়েত প্রতিহত করতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং তাদের ধাওয়া দেয়। এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও বেশি সহিংস হয়ে ওঠে যখন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাহিনীও পাল্টা টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে গত ছাব্বিশে অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই মজুরি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। বিশেষ করে ছুটির দিন বা তার আগের দিনগুলোতেও শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। তারই ধারাবাহিকতায় রবিবারের পর সোমবার সকালেও শ্রমিকরা পুনরায় সড়কে নেমে আসার চেষ্টা করেন। শ্রমিকদের এই আন্দোলনের সুযোগ নিয়েই মূলত রাজনৈতিক কর্মীরা মাঠে নেমেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে।

এদিকে দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর পুরো মিরপুর দশ নম্বর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এক ধরণের থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এলাকার বেশিরভাগ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং সড়কে কাউকে জটলা পাকাতে দিচ্ছে না। এমনকি সন্দেহভাজন মনে হলেই পথচারী ও ব্যক্তিদের থামিয়ে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।