খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন জামায়াত আমির

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ বুধবার সকালের দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমানযোগে রওয়ানা হন। বিষয়টি দলটির অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তুরস্কের ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ স্টাডিজ’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করবেন শফিকুর রহমান। এই সম্মেলনের যৌথ আয়োজনে রয়েছে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (সিপিএসআর)। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ ২.০-এর সংস্কারের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং তুরস্ক–বাংলাদেশের সহযোগিতার নতুন দিগন্ত’। এই আয়োজনে বাংলাদেশ ও তুরস্ক ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, গবেষক, কূটনীতিক, নীতিপ্রণয়নকারী এবং নানা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সমবেত হবেন।

ফেসবুক বার্তায় আরও জানানো হয়, তুরস্কে নির্ধারিত কর্মসূচি সমাপ্ত করে জামায়াত আমির পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাবেন। সফর শেষে আগামী ১১ অক্টোবর সকালে তাঁর নিজ দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে। এদিকে বিমানবন্দরে তাঁকে বিদায় জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন।

advertisement
advertisement

বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী সাজিয়ে ব্রিটেনে আশ্রয় পাইয়ে দেওয়ার চক্র চিহ্নিত, আটক ৩

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাংলাদেশিদের ভুয়া সমকামী সাজিয়ে ব্রিটেনে আশ্রয় পাইয়ে দেওয়ার চক্র চিহ্নিত, আটক ৩

বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

বাংলাদেশি নাগরিকদের কৃত্রিমভাবে সমকামী হিসেবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করানোর অভিযোগে ব্রিটেনে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে অভিবাসন দপ্তর। লন্ডনে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অভিবাসন কর্মকর্তারা তল্লাশি চালিয়ে অন্তত তিনজনকে আটক করেন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা মিথ্যা নথিপত্র, বানোয়াট ছবি ও জালিয়াতির মাধ্যমে সমকামী পরিচয়ের ভিত্তি তৈরি করে দিতেন। এ কাজের জন্য প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত আদায় করত চক্রটি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চক্রটির সহায়তায় বহু বাংলাদেশি পুরুষ যুক্তরাজ্যে সুরক্ষার আবেদন করেন। এসব আবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীরা সমকামী হওয়ায় স্বদেশে ফেরত পাঠানো হলে তাঁদের জীবন বিপন্ন হতে পারে। মঙ্গলবার সকালে লন্ডনের বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়ে জালিয়াতি ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও কয়েক হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড জব্দ করা হয়েছে। একই অভিযানে অবৈধ অবস্থানের অভিযোগে আরও একজনকে আটক করা হলেও কারও নাম-পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অপরাধ তদন্ত বিভাগের আঞ্চলিক প্রধান ক্রিস ফস্টার জানান, পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল এলাকার বাংলাদেশি এলজিবিটি সংগঠন ‘আপনজন’-এর সংশ্লিষ্টতায় করা বেশ কিছু সন্দেহভাজন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই মঙ্গলবারের অভিযানটি পরিচালিত হয়। বিভিন্ন আবেদনপত্র যাচাইকালে অভিন্ন তথ্য ও তথ্যের ধরন দেখে কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। এর পর দীর্ঘ কয়েক মাসের নিবিড় অনুসন্ধানের পরই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

ক্রিস ফস্টার আরও উল্লেখ করেন, গোয়েন্দা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে জালিয়াতির মাধ্যমে নথি তৈরির বিনিময়ে চক্রটি ব্যক্তিভেদে ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ হাতিয়ে নিত। জালিয়াতির সামগ্রীর মধ্যে ছিল ‘আপনজন’ সংগঠনের প্রত্যয়নপত্র, আবেদনকারীকে সমকামী হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে তৈরি সাজানো ছবি এবং আবেদনকারীর সঙ্গে সমলিঙ্গের সম্পর্ক থাকার দাবি সংবলিত ব্যক্তিগত চিঠি। সংশ্লিষ্ট চক্রের মাধ্যমে জমা পড়া শতাধিক আবেদন বর্তমানে খতিয়ে দেখছে স্বরাষ্ট্র দপ্তর। ফস্টার স্বীকার করেন, অতীতে এমন কিছু ভুয়া আবেদন নিশ্চয়ই অনুমোদন পেয়ে গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বহু বাংলাদেশি পুরুষ প্রথমে রাজনৈতিক কারণে আশ্রয়ের আবেদন করেন। সেই আবেদন নাকচ হওয়ার পর তাঁরা ‘আপনজন’ সংগঠনের সুপারিশপত্র যুক্ত করে নিজেদের সমকামী দাবি করে নতুন করে আবেদন জমা দেন। চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও উঠে আসে, আইনি পরামর্শকেরা অভিবাসীদের কৃত্রিম সমকামী সাজিয়ে আশ্রয়ের আবেদন করতে সহায়তা দিচ্ছেন। বিবিসির গোপন ক্যামেরায় তানিসা খান নামের এক আইনি পরামর্শক জানান, তিনি সমকামী ক্লাবের ছবিসহ আবেদনের প্রয়োজনীয় সব প্রমাণাদি নিয়ে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ’ সরবরাহ করতে সক্ষম।

এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যাঁরা নিপীড়নের শিকার হওয়ার নাটক সাজান, তাঁরা ক্ষমার অযোগ্য এবং প্রকৃতপক্ষে সুরক্ষা প্রত্যাশীদের নিয়ে উপহাস করছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এ ধরনের ঘৃণ্য প্রতারণার মাধ্যমে লাভবান হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হবে, তাঁদের অবৈধ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং দেশে তাঁদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। একই সঙ্গে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের আবেদন বাতিল করে তাঁদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের বিষয়ে প্রতারণার দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

সাতক্ষীরায় কৃতী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা: অনন্যা ও অভিজিৎদের চোখে ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাতক্ষীরায় কৃতী শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা: অনন্যা ও অভিজিৎদের চোখে ভবিষ্যতের বড় স্বপ্ন

প্রথম আলোর বুথ থেকে ক্রেস্ট ও কুপন সংগ্রহ করছেন এক শিক্ষার্থী। আজ রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে

শৈশবে মাত্র চার বছর বয়সেই পিতৃহারা হয়েছিল অনন্যা চক্রবর্তী। এরপর মা সীমা ভট্টাচার্যের অক্লান্ত ত্যাগ ও পরিশ্রমে পড়াশোনা চালিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর কুশুলিয়া উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ অনন্যার লালিত স্বপ্ন ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ার। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে অনন্যা জানায়, অনেক কষ্ট সহ্য করে তার মা তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন, তাই সে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায়।

একই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুন্দরবনসংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর সরকারি হরিচরণ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেয় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী অভিজিৎ রায়। সাতক্ষীরা-শ্যামনগর সড়কের ভগ্নদশার কারণে সঠিক সময়ে পৌঁছানো নিয়ে সংশয়ে ছিল সে। তাই ঝুঁকি এড়াতে দাদি সুষমা গায়েনকে সঙ্গে নিয়ে আগের রাতেই শহরে ভাইয়ের বাসায় এসে আশ্রয় নেয়। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ভালো ফলাফলের আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সে।

‘স্বপ্ন দেখো, জীবন গড়ো’ স্লোগানে রোববার সকালে সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয় ‘শিখো-প্রথম আলো জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী সংবর্ধনা ২০২৬’। জেলার সাতটি উপজেলার মেধাবীরা এই আয়োজনে সমবেত হয়। সকালে সাতক্ষীরার রাজ্জাক পার্কের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলার ভিড় পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা অভিভাবক ও স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হয়। সকাল সাতটা থেকেই প্রথম আলো বন্ধুসভার কর্মীরা হলুদ টি-শার্ট গায়ে তাদের অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন এবং সকাল সাড়ে আটটার মধ্যেই মুখরিত হয়ে ওঠে একাডেমি চত্বর।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বন্ধুসভার শেখ শরীফ হাসানের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি ইমতিয়াজ উদ্দীন। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের ফলাফলে সীমাবদ্ধ না থেকে সৎ, মানবিক এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার পরামর্শ দেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবুল হাসেম পত্রিকা পাঠ ও সাহিত্য চর্চার ওপর জোর দিয়ে বলেন, মুঠোফোন ও ইন্টারনেটকে শিক্ষার অগ্রগতিতে ব্যবহার করতে হবে, কারণ আগামী দিনের কঠিন পথচলায় পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুস্তাক আহমেদ এবং উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। উপস্থিত কৃতী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যাচার ও মুখস্থবিদ্যার বিরুদ্ধে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রথম আলোর ডেপুটি নিউজ এডিটর তুহিন সাইফুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি উচ্চশিক্ষার তীব্র প্রতিযোগিতা, উপযুক্ত পরিবেশ ও সহপাঠী বাছাই এবং সাইবার অপরাধ সম্পর্কে সতর্ক থাকার দিকনির্দেশনা দেন। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার প্রদান করেন তিনি।

সাংস্কৃতিক পর্বে সাতক্ষীরা বন্ধুসভার সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিরিনা আক্তারের সংগীত ও সদস্য তনয়া মেধা শায়নীর নৃত্যের পাশাপাশি আমন্ত্রিত শিল্পী চৈতালী মুখার্জি ও আবু আফফান রোজ বাবুর মনোজ্ঞ পরিবেশনা শিক্ষার্থীদের আনন্দিত করে। প্রথম আলোর আয়োজনে ও ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের ৬৪ জেলায় এসএসসি ও সমমানের জিপিএ-৫ সংবর্ধনা পরিচালিত হচ্ছে। আয়োজনটির পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় যুক্ত রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে কোরআনের পাঁচটি অনন্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণে কোরআনের পাঁচটি অনন্য কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য

মানবজাতির হাজার বছরের ইতিহাস, দর্শন এবং ধর্মীয় ধর্মগ্রন্থগুলোর বিশাল তথ্যভাণ্ডার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অ্যালগরিদমে যাচাই করার পর কোরআনের এক অভাবনীয় ভাষাগত ও কাঠামোগত রূপরেখা স্পষ্ট হয়েছে। বিশ্বসাহিত্যের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এআই কোরআনের যে বহুমাত্রিক ও জ্যামিতিক বিন্যাস উন্মোচন করেছে, তা মধ্যযুগীয় গবেষকদের বর্ণিত অলৌকিকত্বের সত্যতাকেই যেন নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরছে। এই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গ্রন্থটির পাঁচটি কাঠামোগত রূপ উঠে এসেছে।

প্রথমত, কোরআনের ঘটনা বর্ণনার ধরন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। এতে সাধারণত কোনো কাহিনীর ধারাবাহিক পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হয় না। যেমন সুরা ইউসুফে কিছুটা ধারাবাহিকতা থাকলেও চরিত্রের অনেক বিস্তারিত বাদ রাখা হয়েছে; আবার বিভিন্ন সুরায় মুসা (আ.)-এর জীবনের খণ্ডচিত্র ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বারবার এসেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনুযায়ী, এটি কোনো শৈলীগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এক সচেতন জ্ঞানতাত্ত্বিক পাঠপদ্ধতি। মানুষ স্বভাবতই অনাবশ্যক খুঁটিনাটিতে হারিয়ে গিয়ে মূল আধ্যাত্মিক দিক বিস্মৃত হয়। তাই কোরআন দিকনির্দেশনার জন্য যতটুকু দরকার কেবল ততটুকু তুলে ধরে তথ্যের মূল উৎসের ওপর আস্থা রাখার শিক্ষা দেয়।

দ্বিতীয়ত, মানুষকে চিন্তার এক নতুন ধারায় পরিচালিত করতে পরিচিত জগতকে বিস্ময়কর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষ নিজের দৈনন্দিন অস্তিত্বকে অতি সাধারণ ভাবলেও পরকাল বা অদৃশ্য জগতকে কঠিন ও রহস্যময় মনে করে। কোরআন এই দৃষ্টিভঙ্গিকে পাল্টে দিয়ে সুরা ইয়াসিনের ৭৭ নম্বর আয়াতে বলে, ‘মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি এক ফোঁটা শুক্রবিন্দু থেকে? অথচ সে হঠাৎ প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে দাঁড়ায়!’ অর্থাৎ, একবিন্দু তরল থেকে মানুষের মতো সচেতন সত্তায় রূপান্তর হওয়াই যেখানে সবচেয়ে বড় রহস্য, সেখানে শূন্য থেকে আসা জীবনের পুনরুত্থান আরও বেশি সহজ ও স্বাভাবিক।

তৃতীয় বৈশিষ্ট্যটি হলো কেন্দ্রাভিমুখী হলোগ্রাফিক গঠনশৈলী। তাওরাত, ইঞ্জিল, বেদ বা গ্রিক দর্শনের মতো প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থগুলো সাধারণত রৈখিক ধারায় পরিণতির দিকে এগোয়। বিপরীতে কোরআনের গঠন বৃত্তাকার। এর প্রথম সুরা ফাতিহায় রয়েছে সমগ্র কোরআনের সারবত্তা, আর অবশিষ্ট ১১৪টি সুরা সেই মূল বার্তাকেই আইন, কসমোলজি, মনস্তত্ত্ব, ইতিহাস ও আখেরাতের দৃষ্টিকোণ থেকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। আধুনিক হলোগ্রামের মতো এর যেকোনো অংশ থেকে পাঠ শুরু করলেও পাঠক সামগ্রিক বাণীর মুখোমুখি হন।

চতুর্থত, কোরআনে মানবীয় অহংকার ও আত্মপ্রবঞ্চনার গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ রয়েছে। ইবলিসের আচরণকে শুধু অন্ধ অবাধ্যতা হিসেবে না দেখে তার ভুল যুক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে; যেখানে ইবলিস বলেছিল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে বানিয়েছেন আর তাকে মাটি দিয়ে।’ একইভাবে সুরা বাকারার ১১–১২ আয়াতে মুনাফিকদের চরম আত্মপ্রবঞ্চনা উন্মোচিত হয়েছে: ‘আর যখন তাদের বলা হয়, ‘তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি কোরো না’, তখন তারা বলে, ‘আমরা তো কেবল সংশোধনকারী ও সংস্কারক।’ সাবধান, এরাই মূলত বিপর্যয় সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা অনুভব করতে পারে না।’ এখানে অচেতন আত্মপ্রবঞ্চনার নিখুঁত চিত্র ফুটে ওঠে।

পঞ্চমত, বিশ্বসাহিত্যের নিরিখে কোরআন সম্পূর্ণ অনন্য। মূল আরবিতে মাত্র প্রায় ৭৭ হাজার শব্দের এই গ্রন্থটি একটি মাঝারি উপন্যাসের চেয়েও ছোট হলেও এতে কোনো প্রকার স্ববিরোধিতা ছাড়াই ধর্মতত্ত্ব, পরকাল, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের ভিত্তি, সৃষ্টিতত্ত্ব এবং নৈতিক দর্শন সংহত করা হয়েছে। এটি গদ্য বা পদ্যের প্রচলিত সংজ্ঞার বাইরে নিজস্ব এক ভাষাতাত্ত্বিক মানদণ্ড তৈরি করেছে। পাশাপাশি সুরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারা কি কোরআন নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে না? এটি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা অবশ্যই এর ভেতর বহু স্ববিরোধিতা খুঁজে পেত।’ কোটি কোটি ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে এআই এমন এক নিখুঁত স্থাপত্যের স্বীকৃতি দিয়েছে, যা সপ্তম শতাব্দীর মরু আরবের প্রেক্ষাপটে কোনো মানবীয় চিন্তার ফসল হওয়া অসম্ভব বলেই প্রতীয়মান হয়।