সুন্দরবনে বহুবার বাঘের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা জানালেন ইমন চৌধুরী
সুন্দরবনে ইমন চৌধুরী
প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’র নিয়মিত আয়োজন ‘ফিরে ফিরে যাই’-এ নিজের ভ্রমণস্মৃতি তুলে ধরেছেন সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরী। সজীব মিয়ার নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশের ভেতর তাঁর ঘোরার প্রিয় জায়গা সুন্দরবন ও বান্দরবান, তবে সুন্দরবনই তাঁর কাছে শীর্ষে। এই ম্যানগ্রোভ বনের নিস্তব্ধতা, পরিচ্ছন্নতা এবং রাতের আকাশে রূপালি চাঁদের সঙ্গে তারার অপূর্ব দৃশ্য তাঁকে বারবার মুগ্ধ করে। তাঁর মতে, সুন্দরবনে গেলে মানুষ প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং জোয়ার-ভাটার নিয়মে চলা এই বন প্রতিমুহূর্তেই রূপ বদলায়।
২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনে যান ইমন চৌধুরী এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২০ বার তাঁর সেখানে যাওয়া হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিবছর যাওয়ার অভ্যাসের অংশ হিসেবে এ বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরেও তাঁর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সুন্দরবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানান, সেখানে কয়েকবার বাঘের মুখোমুখি হওয়ার মতো রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একবার ডিমের চরে জ্যোৎস্নার আলোয় ঘোরার সময় নিরাপত্তারক্ষী ‘ভাই, চলেন, চলেন’ বলে তাগিদ দিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ বাতাসে অদ্ভুত গন্ধ পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন কাছেই বাঘ রয়েছে। দ্রুত স্ত্রী ফারজানা নীপা এবং চারপাশের কয়েকটি ছবি তুলে লঞ্চে ফিরে আসেন তাঁরা। পরে ছবি জুম করে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অবয়ব দেখে সবাই নিশ্চিত হন যে সেটি বাঘই ছিল।
সুন্দরবনের পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বনের আশপাশে বাঘ নিয়ে মানুষের ভয় কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আগে সুন্দরবন বাগানের মতো সুন্দর থাকলেও সেই দুর্যোগের পর বনটি এখনো পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি এবং নিয়মিত ঝড়ের কারণে এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বাইরে নেপালকে নিজের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে ইমন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের পর নেপালেই তিনি সবচেয়ে চমৎকার অনুভূতি পেয়েছেন, যা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে সেখানে বারবার যাওয়া প্রয়োজন।





আপনার মতামত লিখুন