খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

সুন্দরবনে বহুবার বাঘের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা জানালেন ইমন চৌধুরী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুন্দরবনে বহুবার বাঘের মুখোমুখি হওয়ার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা জানালেন ইমন চৌধুরী

সুন্দরবনে ইমন চৌধুরী

প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’র নিয়মিত আয়োজন ‘ফিরে ফিরে যাই’-এ নিজের ভ্রমণস্মৃতি তুলে ধরেছেন সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরী। সজীব মিয়ার নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশের ভেতর তাঁর ঘোরার প্রিয় জায়গা সুন্দরবন ও বান্দরবান, তবে সুন্দরবনই তাঁর কাছে শীর্ষে। এই ম্যানগ্রোভ বনের নিস্তব্ধতা, পরিচ্ছন্নতা এবং রাতের আকাশে রূপালি চাঁদের সঙ্গে তারার অপূর্ব দৃশ্য তাঁকে বারবার মুগ্ধ করে। তাঁর মতে, সুন্দরবনে গেলে মানুষ প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং জোয়ার-ভাটার নিয়মে চলা এই বন প্রতিমুহূর্তেই রূপ বদলায়।

২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো সুন্দরবনে যান ইমন চৌধুরী এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২০ বার তাঁর সেখানে যাওয়া হয়েছে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে প্রতিবছর যাওয়ার অভ্যাসের অংশ হিসেবে এ বছরের অক্টোবর বা নভেম্বরেও তাঁর যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সুন্দরবনের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তিনি জানান, সেখানে কয়েকবার বাঘের মুখোমুখি হওয়ার মতো রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। একবার ডিমের চরে জ্যোৎস্নার আলোয় ঘোরার সময় নিরাপত্তারক্ষী ‘ভাই, চলেন, চলেন’ বলে তাগিদ দিচ্ছিলেন। এমন সময় হঠাৎ বাতাসে অদ্ভুত গন্ধ পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন কাছেই বাঘ রয়েছে। দ্রুত স্ত্রী ফারজানা নীপা এবং চারপাশের কয়েকটি ছবি তুলে লঞ্চে ফিরে আসেন তাঁরা। পরে ছবি জুম করে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অবয়ব দেখে সবাই নিশ্চিত হন যে সেটি বাঘই ছিল।

সুন্দরবনের পরিবেশগত পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বনের আশপাশে বাঘ নিয়ে মানুষের ভয় কিছুটা বেড়েছে। এ ছাড়া প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরের আগে সুন্দরবন বাগানের মতো সুন্দর থাকলেও সেই দুর্যোগের পর বনটি এখনো পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি এবং নিয়মিত ঝড়ের কারণে এখনো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বাইরে নেপালকে নিজের সবচেয়ে পছন্দের গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে ইমন চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের পর নেপালেই তিনি সবচেয়ে চমৎকার অনুভূতি পেয়েছেন, যা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে সেখানে বারবার যাওয়া প্রয়োজন।

advertisement
advertisement

ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত আট গুণী ব্যক্তিত্ব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত আট গুণী ব্যক্তিত্ব

ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনেরা। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে, ৯ অক্টোবর।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় আড়ম্বরপূর্ণ এক আয়োজনে তুলে দেওয়া হলো ২০২৪ ও ২০২৫ সালের ব্র্যাক ব্যাংক-সমকাল সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা। এ বছর কথাসাহিত্য, কবিতা, গবেষণা ও তরুণ সাহিত্য শাখায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের আটজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষকের হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হয়। এতে ২০২৪ সালের জন্য আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ২০২৫ সালের আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।

আয়োজনে ২০২৪ সালের বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তরুণ সাহিত্য শাখায় বৈতরণী প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত ‘জলমাকড়ের নৌকাবাইচ’ বইয়ের জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন নিজাম বিশ্বাস। অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত ‘বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ও মুসলমান সমাজ’ গ্রন্থের জন্য প্রবন্ধ, আত্মজীবনী ও অনুবাদ শাখায় পুরস্কৃত হয়েছেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী। এ ছাড়া প্রথমা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘সময় বহিয়া গেল’ উপন্যাসের জন্য কবিতা ও সাহিত্য বিভাগে সম্মাননা লাভ করেন আনোয়ারা সৈয়দ হক।

অন্যদিকে ২০২৫ সালের পুরস্কারের তালিকায় তরুণ সাহিত্য শাখায় অন্যপ্রকাশের ‘সায়ানাইড ফুল’ উপন্যাসের জন্য পুরস্কৃত হন মাহবুব ময়ূখ রিশাদ, যাঁর পক্ষে পদক নেন তাঁর সহধর্মিণী। বেঙ্গল বুকস থেকে প্রকাশিত ‘পালকের চিহ্নগুলো (আত্মজৈবনিক স্মৃতিকথা)’ বইয়ের জন্য প্রবন্ধ, আত্মজীবনী ও অনুবাদ বিভাগে নাসরীন জাহান এবং বাতিঘর থেকে প্রকাশিত ‘মানচিত্র’ গ্রন্থের জন্য কবিতা ও কথাসাহিত্যে শাহীন আখতার পুরস্কৃত হয়েছেন। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজের অনুভূতির কথা জানান নাসরীন জাহান। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, গত বছরের পুরস্কারের দিন বিকালেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর জানতে পারেন। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গলব্লাডার অপসারণ এবং দুটি কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একপর্যায়ে মৃত্যুকে নিশ্চিত ভেবে নিলেও পরে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন। মৃত্যু আহ্বান জানালেও তিনি তাতে সায় দিতে রাজি হননি বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিজয়ী লেখকদের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে নির্মিত ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাহিত্য সৃষ্টিতে চিন্তার স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সৃজনশীল চর্চায় সরকারি ও বেসরকারি উভয় উদ্যোগেরই প্রয়োজন রয়েছে, তবে সে সহায়তা হতে হবে যেকোনো দলীয় সংকীর্ণতামুক্ত। আজীবন সম্মাননা পাওয়া অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, সিরাজ স্যার আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল থেকে সমাজ ও রাজনীতি বিষয়ে লেখনীর মাধ্যমে প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ তাঁর বক্তব্যে প্রান্তিক পর্যায়ের সুপ্ত প্রতিভাদের তুলে আনতে এবং সংস্কৃতির বিকাশে ব্যাংকসহ করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসার ওপর জোর দেন। ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক মইনউদ্দীন মন্তব্য করেন, সাহিত্য পুরস্কার চালু রাখার ক্ষেত্রে করপোরেট খাতের দীর্ঘমেয়াদি নিষ্ঠা থাকা আবশ্যক এবং ব্র্যাক ব্যাংক-সমকালের এই প্রচেষ্টা যেন অব্যাহত থাকে। বিচারকমণ্ডলীর সদস্য ফয়জুল লতিফ চৌধুরী জানান, বিগত দুই বছরের জন্য জমা পড়া মোট ৩৬টি বই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, যদিও কবিতার বই কিছুটা কম জমা পড়েছিল। সভাপতি হিসেবে সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী ১৫ বছর ধরে সঙ্গে থাকা ব্র্যাক ব্যাংক, বিজয়ী সাহিত্যিক, তাঁদের প্রকাশক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও রাজনীতি জগতের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার অভিযোগে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াস আটক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতি মোছার চেষ্টার অভিযোগে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াস আটক

পুলিশ রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে এ এন এম আয়াসকে আটক করে। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দিতে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টার সময় এ এন এম আয়াস নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। শনিবার দুপুরে শাহবাগ থানা-পুলিশ তাকে আটক করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার কর্তব্যরত উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল খালেক প্রথম আলোকে জানান, শিল্পকলার সামনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলার চেষ্টার অভিযোগে আয়াস নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

এর আগে ৫ অক্টোবর সেগুনবাগিচার ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করার পদক্ষেপ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পরবর্তী সময়ে ওই এলাকার দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও সত্যজিৎ রায়সহ শিল্প-সংস্কৃতিতে ভূমিকা রাখা ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রতিকৃতি আঁকা হয়। এ ছাড়া সীমানাপ্রাচীর মেরামত, পথচারীদের বিশ্রামের নিমিত্তে বেঞ্চ স্থাপন এবং নতুন ডাস্টবিন যুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের জন্য ফুটপাতটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছিল।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে সপ্তাহে কর্মদিবস নেমে আসতে পারে তিন দিনে: জেফ বেজোস

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে সপ্তাহে কর্মদিবস নেমে আসতে পারে তিন দিনে: জেফ বেজোস

জেফ বেজোস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভাবনীয় বিকাশের ফলে ভবিষ্যতে কর্মজীবীদের শুক্রবার কাজ করার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই এবং ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তি ব্যক্তিত্বরা যখন এআইয়ের নানা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করছেন, তখন বেজোস উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ইতিবাচক দিকটি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এআইয়ের কারণে কর্মদক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা এতটাই বাড়বে যে খুব অল্প সময় কাজ করেই মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে এবং সেই দিনটিও খুব বেশি দূরে নয়।

গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেজোস উল্লেখ করেন, অনেকে হয়তো সপ্তাহে মাত্র তিন দিন কাজের মাধ্যমেই সংসার চালানোর সিদ্ধান্ত নেবেন, যা মূলত বাড়তি অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতারই প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, এই প্রযুক্তির কল্যাণে সম্পদ ও সামগ্রীর প্রাচুর্য দেখা দিলে শ্রমিক সংকট তৈরি হতে পারে। পরিবারগুলোতে হয়তো দুজনের উপার্জনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না; চাইলে একজন কাজ করতে পারেন বা অন্যজন চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন। একই সঙ্গে মানুষকে আর দুটি চাকরি করতে হবে না, যার ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এআই খাতে বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হলেও এতে অর্থনৈতিক পরিকাঠামো বদলানোর কারণে বিনিয়োগকারীদের জন্য অনিশ্চয়তা দেখছেন বেজোস। খাতটিতে বুদ্বুদ তৈরি হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি জানান, এই প্রযুক্তির উপযোগিতা ও বাস্তবতা নিশ্চিত হলেও মুনাফার আশায় এমন বহু উদ্যোগে অর্থ ঢালা হচ্ছে যা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে। তাঁর ভাষায়, সমাজ ও মানুষের জন্য এআই ভালো হলেও বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল; কারণ ভালো ও মন্দ সব ধরনের প্রকল্পেই পুঁজি বিনিয়োগ হওয়ায় সঠিক ধারণাটি বেছে নেওয়া তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৯৫ সালে নিজের গ্যারেজ থেকে আমাজন প্রতিষ্ঠা করা বেজোসের এই প্রতিষ্ঠানটিও এআই খাতে বিপুল অর্থায়ন করছে। চলতি বছরে তাদের মূলধনী ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি, যার বড় অংশই যাবে ডেটা সেন্টারের উন্নয়নসহ সংশ্লিষ্ট খাতে। তবে গত বছরের শেষ দিক থেকে আমাজন করপোরেট পর্যায়ের প্রায় ৩০ হাজার পদ বিলুপ্ত করেছে, যা এআই ঘিরে উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়ের সংকটকে সামনে এনেছে। অন্যদিকে, মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং চাঁদসহ মহাশূন্যে কার্যক্রম বাড়ানোর পরিকল্পনা করা বেজোসের প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনও এআই প্রসারের সুফল পেতে পারে। সম্প্রতি ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলার তহবিল সংগ্রহের পর ব্লু অরিজিনের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার কোটি (১৪০ বিলিয়ন) ডলারে, যার ফলে বেজোসের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ পৌঁছেছে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি (৩৬৫ বিলিয়ন) ডলারে।

ভবিষ্যতে কর্মসপ্তাহ কতটা ছোট হবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মতামত। এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং মনে করেন এআইয়ের কল্যাণে সপ্তাহে চার দিন কাজের প্রচলন হতে পারে। জেপি মরগ্যান চেজের প্রধান নির্বাহী জেমি ডিমনের পূর্বাভাস অনুযায়ী ভবিষ্যতে কর্মসপ্তাহ হতে পারে সাড়ে তিন দিনের এবং মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের হিসাবে তা নেমে আসতে পারে দুই দিনে। তবে সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। তাঁর মতে, এআই ও রোবট প্রযুক্তির উৎকর্ষে সবার জন্য উচ্চ আয়ের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানুষ কাজের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পাবে। গত বছরের শেষভাগে মাস্ক জানান, আগামী ২০ বছরেরও কম সময়ে, এমনকি ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যেই হয়তো মানুষকে জীবিকার তাগিদে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করতে হবে না।