টুপটুপ রিসোর্টে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড: মালিকসহ ২৩ জনের নামে মামলা, দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার
আগুনে পুড়ছে টুপটুপ রিসোর্ট। এর সামনে আহাজারি করছেন এক নারী। গতকাল সকালে
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছে পুলিশ। এতে রিসোর্টের মালিক মো. তানভীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিস সূত্রধর বাদী হয়ে শনিবার গভীর রাতে এই মামলাটি দায়ের করেন। আজ রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ রয়েছে, যার মধ্যে রিসোর্টটির দুই মালিক মো. তানভীর ও নেওয়াজ মোর্শেদের নাম রয়েছে। অবশিষ্ট আসামিরা অজ্ঞাতনামা। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের পর শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল থেকে আটক হওয়া রিসোর্ট ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম ওরফে সুমনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও উদঘাটন করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ বিষয়ে আজ সকালে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানান, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া অবধি আগুনের উৎসের বিষয়ে নিশ্চিত করে মন্তব্য করা সমীচীন নয়; তদন্তের মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ওই কাঠের রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী আসার পর পুলিশ ও এলাকাবাসীর সহায়তায় উদ্ধারকাজ এবং আগুন নেভানোর তৎপরতা চালানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে তাদের কাছে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ আসে এবং সকাল আটটায় দমকলের ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তিনি জানান, সমুদ্রের প্রবল বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি ভবনটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ১০ জনের মধ্যে চারজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাত্র সাত-আট মাস আগে গড়ে ওঠা এই রিসোর্টটির কোনো ফায়ার লাইসেন্স ছিল না এবং জমি নিয়ে বিরোধও ছিল। তাছাড়া অগ্নিসংকেত, বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, হোসপাইপ কিংবা অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনার মতো প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থাই সেখানে রাখা হয়নি।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, আগুনে প্রাণ হারানো ১০ জনের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ছয়জনের পরিচয় জানা গেলেও কোন মরদেহটি কার, তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। শনাক্ত হওয়া ছয়জন হলেন ঢাকার বনশ্রীর বাসিন্দা ইসরাত জাহান (৩০) ও মিলিতা মেহেজাবিন (২৩), খিলগাঁও এলাকার লায়লা জাহান (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭), চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) এবং পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহম্মেদ। বাকি চারজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি; যাদের মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ ও একটি শিশু রয়েছে।





আপনার মতামত লিখুন