খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশই

খুবির ৩৭ দফা দাবির দুই বছর, বাস্তবায়ন হয়নি অধিকাংশই

শিক্ষা ডেস্ক: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে উত্থাপিত ৩৭ দফা দাবির বেশিরভাগই দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান ফটকের নামকরণ এবং পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কিছু পরিবর্তন আসলেও আবাসন সংকট, জমি অধিগ্রহণ, লাইব্রেরি ও চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক দাবিগুলো ঝুলে রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের এই দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নত করতে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাতে এসব দাবি পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ৩৭ দফা দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে প্রধান ফটকের নাম পরিবর্তন করে শহীদ মীর মুগ্ধ তোরণ রাখা এবং পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালুর দাবি আংশিকভাবে রক্ষা করা হলেও বাকিগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। এর মধ্যে শহীদদের স্মরণে কোনো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়নি এবং ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য নতুন জমি অধিগ্রহণের কাজও স্থবির হয়ে আছে। এছাড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে আবাসিক হলের আসনসংখ্যা না বাড়ায় শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার বিষয়টি এখনো অধরা রয়ে গেছে। চারুকলা স্কুলের জন্য স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিগুলোও দীর্ঘ সময় ধরে ফাইলবন্দি হয়ে আছে।

প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে এবং পড়াশোনার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে অন্যান্য দাবিগুলোর অবস্থাও বেশ হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিটি চব্বিশ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়নি এবং হলভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে কোনো ফোরাম গঠিত হয়নি। এমনকি চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, বিনাসুদে শিক্ষাঋণ প্রদান, ক্যারিয়ার প্লেসমেন্ট সেন্টার এবং একটি স্বতন্ত্র অভিযোগ সেল গঠনের দাবিগুলো এখনো আলোর মুখ দেখেনি। পরীক্ষার নম্বর বিন্যাসে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত রূপরেখা পুরোপুরি না মেনে আংশিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন প্রশাসন তাদের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে যথেষ্ট আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে না।

শিক্ষার্থীদের বড় অভিযোগ হলো, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হচ্ছে না। কোন কোন দাবি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, কোনগুলো প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে এবং নীতিগত বা আর্থিক কী ধরনের জটিলতার কারণে বাকিগুলো আটকে আছে—তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন যে শিক্ষার্থীদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করছে। যেসব বিষয় দ্রুত সমাধানযোগ্য ছিল তা ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অবকাঠামোগত ও অর্থায়নসংশ্লিষ্ট জটিল দাবিগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

advertisement
advertisement

ব্যাংক ‘লুট করে’ আটলান্টিকের ওপারে আবদুল হাই, বললেন ‘আমি বলির পাঁঠা’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্যাংক ‘লুট করে’ আটলান্টিকের ওপারে আবদুল হাই, বললেন ‘আমি বলির পাঁঠা’

ব্যাংক ‘লুট করে’ আটলান্টিকের ওপারে আবদুল হাই, বললেন ‘আমি বলির পাঁঠা’

অর্থনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে আলোচিত এক ব্যাংক কর্মকর্তার দেশত্যাগ ও বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিগত সরকারের পতনের বহু আগেই ২০২৩ সালের কোনো এক সময়ে তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করে আটলান্টিক মহাসাগরের অপর পারে চলে যান। পরবর্তীতে গত বছরের আগস্ট মাসের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার এই দেশত্যাগের বিষয়টি জনসমক্ষে আরও জোরালোভাবে আলোচিত হতে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। এই অর্থ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ মাথায় নিয়ে তিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তিনি দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন এবং পুরো পরিস্থিতির জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে আবদুল হাই দাবি করেন যে, তিনি কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে একটি বড় চক্রের বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। তার মতে, একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তাকে সমস্ত অন্যায়ের দায়ভার নিতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত বিভিন্ন জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ঘটনার পর অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই তালিকায় আবদুল হাইয়ের নামও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছে।

শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’

শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক ‘পালিয়ে বেড়ায়’

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের নাট্যাঙ্গনে নতুন কাজের অংশ হিসেবে মঞ্চে আসছে নাট্যদল শৌখিন থিয়েটারের নতুন নাটক পালিয়ে বেড়ায়। খ্যাতিমান নাট্যকার মনোজ মিত্রের রচনায় এই নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন হামিদুর রহমান পাপ্পু। এটি এই নাট্যদলের দ্বাদশ প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এই নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

মনোজ মিত্রের এই নাটকটিতে মূলত মানুষের মনস্তত্ত্ব, পলায়নপর মানসিকতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ের নানা দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নাটকের মূল চরিত্র রূপচাঁদ একজন ভবঘুরে ও শিকড়ছেঁড়া মানুষ, যাকে সমাজ ও সংসার অপদার্থ হিসেবে দেখে। জীবনের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের ইচ্ছা তার মধ্যে নেই। দায়িত্ব এবং জটিল সংকটের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে সে বারবার জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ানোর পথ বেছে নেয়।

রূপচাঁদের এই পলায়ন কেবল স্থান পরিবর্তন নয়, বরং তার ভেতরের ভয়, অসহায়ত্ব ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার প্রবণতা প্রকাশ করে। জীবনের নানা পর্যায়ে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনসংগ্রাম, স্বার্থপরতা ও সম্পর্কের টানাপোড়েন উন্মোচিত হয়। নির্দেশক হামিদুর রহমান পাপ্পু জানিয়েছেন যে এই নাটকে প্রান্তিক মানুষের জীবন এবং সমাজের অসংগতি গভীর জীবনদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

নাটকটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপু মাহমুদ, জাবেদ হামিদ, জয়া আহমেদ, রায়হান হোসেন, রাশিদুল হাসান লিটনসহ আরও অনেকে। এর মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ণ। এছাড়া পোশাক ও রূপসজ্জা পরিকল্পনা করেছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময় এবং সংগীত পরিচালনা ও কোরিওগ্রাফি করেছেন মো. আলমগীর।

বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:১৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫

বাবাকে হারিয়ে দিনমজুর, সেই আরাফাত পেলেন জিপিএ-৫

শিক্ষা ডেস্ক: অভাব-অনটনকে পেছনে ফেলে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি পরীক্ষায় অসামান্য ফলাফল অর্জন করেছেন মো. আরাফাত। এলাকার মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন দিনমজুর হিসেবেই পরিচিত ছিলেন, যিনি পেটের টানে কায়িক পরিশ্রম করতেন। তবে সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি এবার পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন, যা স্থানীয়বাসীর মধ্যে দারুণ আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

পরিবারের বড় ছেলেকে হারাতে হয়েছে অনেক আগেই। জীবিকার তাগিদে এবং সংসারের হাল ধরতে পড়াশোনার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকে। প্রতিদিনের শারীরিক পরিশ্রান্তির পরও বইয়ের সঙ্গে তার গভীর মিতালি ছিল অটুট। একটু সুযোগ পেলেই তিনি পড়াশোনায় মন দিতেন, যা তার এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

আরাফাতের এই সাফল্যে তার পরিবার ও শিক্ষকরা অত্যন্ত আনন্দিত। তারা জানান, নানা ধরনের সামাজিক ও আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে আরাফাত যে ধৈর্য ও মেধার পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আশপাশের বহু তরুণের জন্য একটি দারুণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

উচ্চশিক্ষার পথচলা বেশ দীর্ঘ এবং কণ্টকাকীর্ণ হলেও আরাফাত নিজের লক্ষ্য থেকে সরে দাঁড়াতে চান না। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষ পাশে দাঁড়ালে তিনি তার উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। অদম্য এই তরুণ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা থাকলে অভাবের বেড়াজাল ভেঙেও সফলতার শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।