খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

রামেক হাসপাতাল: পোড়া এক্স-রে মেশিন পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রামেক হাসপাতাল: পোড়া এক্স-রে মেশিন পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

রামেক হাসপাতাল: পোড়া এক্স-রে মেশিন পকেট কাটছে সিন্ডিকেট

অপরাধ ডেস্ক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি পোর্টেবল এক্স-রে মেশিন পুড়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে সেটি মেরামত বা নতুন মেশিন স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়া রোগীদের জিম্মি করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অতিরিক্ত অর্থে বাইরে থেকে মেশিন এনে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারির শেষ দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে রাখা সচল পোর্টেবল এক্স-রে মেশিনটিতে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে মুহূর্তেই মূল্যবান মেশিনটি সম্পূর্ণ পুড়ে অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

ঘটনার পরপরই হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন অধ্যাপককে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তারা নির্দিষ্ট সময়েই প্রতিবেদন জমা দেন। তবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে আগুন দিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কাউকে চিহ্নিত করতে না পারায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এদিকে মেশিন পুড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্যে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মনে।

জরুরি প্রয়োজনে ওয়ার্ডের ভেতরে এক্স-রে করার সুবিধা বন্ধ থাকায় রোগীদের এখন অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে বাইরের সিন্ডিকেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। হাসপাতালের নিজস্ব রেডিওলজি বিভাগে নামমাত্র খরচে এই পরীক্ষা করা গেলেও বাইরে থেকে আনা মেশিনে রোগীদের গুনতে হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দেয়ালে গোপনে এই সেবার প্রচারপত্রও সাঁটানো হয়েছে এবং ছুটির দিনেও চড়া মূল্যে এক্স-রে করার অফার দেওয়া হচ্ছে। এতে দরিদ্র রোগীরা আর্থিক দিক থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, পুড়ে যাওয়া মেশিনটি মেরামতের জন্য জাতীয় ইলেকট্রো-মেডিকেল ইকুইপমেন্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্মশালায় একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নতুন মেশিন ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং তারা দ্রুত সংকট সমাধানের আশা প্রকাশ করছেন। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও প্রশাসনিক পালাবদলের এই সময়ে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি এখনো কমাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

advertisement
advertisement

রাজশাহীতে শিশু থিয়েটারের ৩৪তম বর্ষপূর্তি উৎসব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাজশাহীতে শিশু থিয়েটারের ৩৪তম বর্ষপূর্তি উৎসব

রাজশাহীতে শিশু থিয়েটারের ৩৪তম বর্ষপূর্তি উৎসব

বিনোদন ডেস্ক: সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি রাজশাহীতে বরেন্দ্র শিশু থিয়েটারের চৌত্রিশতম বর্ষপূর্তি উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই নাট্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে উৎসবটি মুখরিত হয়ে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আসা নাট্যপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এই আনন্দ আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। তাদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ আলমগীর, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহীদ ইকবাল এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিখা রানী সরকার, আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মতিউর রহমানসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বরেন্দ্র শিশু থিয়েটারের সম্পাদক ইকবাল আলী। পরে আয়োজক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তারা শিশু থিয়েটারের দীর্ঘ পথচলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। সংহিতা রায় ও অঙ্কনা সেনের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর শিক্ষক নিমাই চন্দ্র সরকার। বক্তারা নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতির আলোয় বড় করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী রচিত দুটি নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন পর্ব। আমন্ত্রিত অতিথিরা 'বিশ্বকবি: বিশ্বের বিস্ময়' এবং 'বাংলাভাষা ও ব্যাকরণের মেলবন্ধন' নামক গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় আলোচকরা লেখকের সাহিত্যকর্মের গভীরতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার সৃজনশীল লেখনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ নায়িকা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ নায়িকা

নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ নায়িকা

বিনোদন ডেস্ক: অস্কারজয়ী জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স তাঁর অভিনয় জীবনের এক অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। একটি বিশেষ দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন সেটে অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁকে দারুণভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শুটিং সেট বেশ কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, ঘটনার সময় ক্যামেরা এবং সেটের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কঠোর নিয়ম থাকার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সাহসী দৃশ্যের কাজ চলার সময়ে হঠাৎ করেই সেখানে বেশ কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো শুটিং ইউনিট কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

দৃশ্যটির সংবেদনশীলতার কারণে এমন অনাহূত উপস্থিতি অভিনেত্রীকে মানসিকভাবে বেশ বিপাকে ফেলে দিয়েছিল। জেনিফার লরেন্স এই ঘটনার পর নিজের ক্ষোভ ও অসন্তোষ কোনোভাবেই লুকিয়ে রাখেননি। তিনি প্রকাশ্যে জানান যে, অভিনয়শিল্পীদের কাজের পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা সেদিন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছিল।

হলিউড অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা শিল্পীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাণে এ ধরনের ত্রুটি শুধু শিল্পীদের অসম্মান করে না, বরং কর্মপরিবেশের শৃঙ্খলাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

ধর্ম ডেস্ক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান উদ্যাপিত হয়েছে। এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার পুণ্যার্থী শহরের প্রধান বিহারগুলোতে সমবেত হন। নানা বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আনন্দের বার্তা বয়ে আনে।

দিনের কর্মসূচি শুরু হয় সকালে পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, কল্পতরু দান এবং ভিক্ষুদের পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন পবিত্র আচার সম্পন্ন করা হয়। দুপুরের দিকে শুরু হয় ধর্মীয় আলোচনা ও দেশনা, যেখানে বৌদ্ধ ধর্মের মূল বাণী ও অহিংসার বার্তা তুলে ধরা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে পুণ্যার্থীরা নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও পুণ্য অর্জনের প্রার্থনা করেন।

এই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও শ্রমসাধ্য দিক হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা প্রস্তুত করে কাপড় বুনে ভিক্ষুদের চীবর তৈরি করা। অত্যন্ত নিখুঁত ও কঠিন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি বিশেষ চীবর পরে ভিক্ষু সংঘের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা এই উৎসবের মূল তাৎপর্য বহন করে। খাগড়াছড়ির য়ংড বৌদ্ধ বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বিহারে একই নিয়মে এই আচার পালন করা হয়।

সন্ধ্যায় য়ংড বৌদ্ধ বিহারে চৌরাশি হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন এবং আকাশছোঁয়া ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ ও কমিটির নেতৃবৃন্দ এই বর্ণিল আয়োজনে অংশ নেন। উল্লেখ্য, এই প্রধান দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের সূচনা হলো।