খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

নাব্য সংকটে হারিয়ে যাচ্ছে আড়িয়াল খাঁ-ময়নাকাটা

জাতীয় ডেস্ক: মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খননকাজ না হওয়া, মাত্রাতিরিক্ত পলি জমা এবং নির্বিচারে তীর দখলের কারণে স্থানীয় নদ-নদীগুলো মারাত্মক অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। শিরুয়াইল ও নীলখী অঞ্চলের মরা আড়িয়াল খাঁ, পৌর এলাকার ময়নাকাটা এবং বাঁশকান্দির বিলপদ্মা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহপথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। একসময়ের খরস্রোতা এসব নদীর বিভিন্ন অংশে এখন বিশাল চর জেগে উঠেছে, কোথাও নদীর বুকে চাষাবাদ করা হচ্ছে, আবার কোথাও পুরোনো গতিপথ পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। নদীর এমন করুণ দশার কারণে স্থানীয় এলাকার নৌযোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ এবং সার্বিক পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নদীগুলোর সঠিক সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল ও ভরাট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং অবিলম্বে পরিকল্পিত খননের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলায় কাগজে-কলমে ১৭টি নদ-নদী রয়েছে এবং এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার। পদ্মা ও পালরদীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর কথা কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে মাত্র দশটি নদী দৃশ্যমান রয়েছে এবং বাকিগুলোর অস্তিত্ব বিপন্ন। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজিং বা খননকাজ না হওয়ায় জেলার অধিকাংশ নদীই তাদের স্বাভাবিক নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। শিবচরের শিরুয়াইল, নীলখী, বাঁশকান্দি, পৌর এলাকা, পাঁচ্চর ও দ্বিতীয়াখণ্ডসহ বিভিন্ন জনপদে নদীমাতৃক এই সংকট অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে প্রবহমান নদীগুলোর অনেক অংশ এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে এবং কোনো কোনো অংশ পুরোপুরি শুকিয়ে বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শিরুয়াইল থেকে নীলখী পর্যন্ত প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদের একটি অংশ এখন স্থানীয়ভাবে মরা আড়িয়াল খাঁ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। শিরুয়াইল এলাকার বাসিন্দা রানা হামিদ জানান, তাদের বাজারের পাশের নদীটি একসময় অনেক বড় ও প্রবহমান ছিল, কিন্তু এখন তার কোনো গতিপথই খুঁজে পাওয়া যায় না। বর্ষাকালে সামান্য পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমে এই নদী পুরোপুরি শুকিয়ে যায় এবং বর্তমানে নদীর বুকজুড়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলানো হচ্ছে। এছাড়া অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নদীর তীর ও চরাঞ্চল ভরাট করে অবৈধ দখলের মহোৎসব চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিবচর পৌরসভার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী শিবচর উপশহরটি নদীর চরাংশেই গড়ে উঠেছে, যার ফলে নদীর বহু জায়গা বেদখল ও ভরাট হয়ে গেছে।

নদীগুলো রক্ষার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান জানিয়েছেন, উপজেলার নদীগুলো রক্ষার্থে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগ চলছে, তবে বিআরএস নকশা ও পর্চা অনুযায়ী নদীগুলোর প্রকৃত চিত্র পেতে কিছু জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাদত হাসান কবির বলেছেন, শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ময়নাকাটা নদীসহ বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধান না করলে আগামী দিনে এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

advertisement
advertisement

মসলা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগেও কমছে না আমদানিনির্ভরতা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মসলা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগেও কমছে না আমদানিনির্ভরতা

মসলা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগেও কমছে না আমদানিনির্ভরতা

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন ধরনের মসলার উৎপাদন বাড়ানোর বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হলেও বৈদেশিক নির্ভরতা পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরেই মসলা আমদানির পেছনে রাষ্ট্রকে প্রায় ৪৫৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। এর বিপরীতে এই খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল তুলনামূলকভাবে বেশ কম, যার ফলে বৈদেশিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণের ফলে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ফলন বাড়লেও আমদানির উচ্চ ব্যয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মসলার উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পেঁয়াজের উৎপাদন অতীতে সাড়ে চৌত্রিশ লাখ টন থেকে বেড়ে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় একান্ন লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া আদা, রসুন, হলুদ এবং কালোজিরার উৎপাদনও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি বিদেশ থেকে আমদানি করা জিরা দেশের মাটিতে চাষের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কিছু জেলায় এর চাষ সফলও হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও মানসম্মত বীজ সরবরাহের মাধ্যমে এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

তবে কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল মাঠপর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করলেই আমদানিনির্ভরতা বা বাজারের অস্থিরতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। ফসল তোলার পর সঠিকভাবে শুকানো, গ্রেডিং করা এবং দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। উৎপাদনোত্তর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দূর করতে আধুনিক সংরক্ষণাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া গুঁড়া ও প্রক্রিয়াজাত মসলা রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে পারলে কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটবে।

এই খাতের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নতির জন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকদের নিয়মিত প্রণোদনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভর্তুকি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সঠিক বাজার সংযোগ স্থাপন করা জরুরি। কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, পেঁয়াজ ও রসুনের উৎপাদন বৃদ্ধির এই ধারা আগামী কয়েক বছর ধরে রাখা গেলে এবং যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে অদূর ভবিষ্যতে এসব পণ্যের জন্য আমদানির আর কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৮ ডলার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৮ ডলার

তেলের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ, প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৮ ডলার

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। সম্প্রতি ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৮ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার নিয়ে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মধ্যবর্তী রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এই আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা চরম সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক ট্যাংকারে হামলার ঘটনা এবং জলমগ্ন মাইনে আঘাত পাওয়ার খবর জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের ডিসেম্বরের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে স্থায়িত্ব লাভ করে। তবে লেনদেনের একটি পর্যায়ে এই দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৮ ডলারেও লেনদেন হয়েছিল। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দিন শেষে প্রতি ব্যারেল ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে এসে দাঁড়ায়।

মাসভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশ স্পষ্ট। শুধু নির্দিষ্ট একটি মাসেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি একই সময়সীমায় ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১৫ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির জলসীমায় সুপারট্যাংকারের চলাচলের সময় বেশ কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলাচলের সময় দুটি ট্যাংকার মাইনে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এই ধরনের ধারাবাহিক নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:২০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

সাত দফা আদায়ে চাপ বাড়াতে চায় জামায়াত জোট

রাজনীতি ডেস্ক: গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা ও কুষ্টিয়া অভিমুখে একটি দীর্ঘ লংমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে জোটটি। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ বহর যাত্রা শুরু করে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পথসভা ও অনির্ধারিত সভা শেষে কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে এক বৃহৎ সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

উদ্বোধনী ও সমাপনী সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখছেন। প্রায় দেড় হাজার গাড়ির বহর এবং চারশ কিলোমিটারের বেশি সড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম এবং ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে দুটি সফল লংমার্চ সম্পন্ন করে এই জোট। দেশব্যাপী সভা-সমাবেশ ও ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই লংমার্চগুলো থেকে জনমত গঠনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

জোটের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে আঞ্চলিক দাবি হিসেবে তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন ইস্যুও এই দাবির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। লংমার্চ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ঢাকা ও খুলনা মহানগর ছাড়াও যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াসহ আশপাশের প্রায় ১৯ জেলার নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ এবং মিছিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক সাক্ষাৎকারে জানান, সরকার গণভোটকে অস্বীকার করে জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং লংমার্চের মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে গিয়ে এই দাবিগুলোর পক্ষে জনমত তৈরি করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তারা অবিলম্বে সরকারকে উৎখাত করতে চান না, বরং এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর যৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে চান। এর আগে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন যে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা এতদিন সহনশীল ভূমিকা পালন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকতা দেখা যাচ্ছে না। তাই দাবি আদায়ে প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

লংমার্চের সময় সাধারণ মানুষের যাতে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়, সেজন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে মহাসড়কের এক পাশ ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং সর্বসাধারণের কাছে আগাম দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া লংমার্চে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ ধৈর্য, সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা রক্ষা, চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন উপ-কমিটি সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আগামী একুশে নভেম্বর সিলেট অভিমুখে পরবর্তী লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এরপর ঢাকামুখী আরও কর্মসূচি আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।