তীব্র গরমে বছরে ১,৭৫০ কোটি ডলার ক্ষতি বাংলাদেশের
তীব্র গরমে বছরে ১,৭৫০ কোটি ডলার ক্ষতি বাংলাদেশের
স্বাস্থ্য ডেস্ক: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশে একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতিও প্রকট আকার ধারণ করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিট এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে ২০২৫ সালে দেশের সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় প্রায় এক হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে। এর পাশাপাশি তাপজনিত কারণে গত কয়েক দশকে শিশু ও প্রবীণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গত দশকগুলোর তুলনায় তাপপ্রবাহের সংস্পর্শে আসার হার শিশুদের মধ্যে ১৬২ শতাংশ এবং প্রবীণদের মধ্যে ১৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বিগত বছরগুলোতে প্রতি বছর গড়ে ২৬ বিলিয়নের বেশি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে, যা দেশের উৎপাদনশীলতাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুদূষণও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট সূক্ষ্ম কণাদূষণের ফলে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের অকালমৃত্যু ঘটেছে। কেবল ২০২৩ সালেই বায়ুদূষণজনিত কারণে দেশে প্রায় দুই লাখ ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এবং গৃহস্থালি দূষণ বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট এই অকালমৃত্যুর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাত হাজার ৭৬০ কোটি ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের একটি বড় অংশের সমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কেবল নীতিনির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট গবেষক ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা জানান, জাতীয় জলবায়ুনীতিতে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে তা বাস্তবায়নে আর্থিক ও কাঠামোগত ঘাটতি রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি উত্তরণে কার্বন নিঃসরণ কমানো, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার সীমিত করা এবং স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই বলে তারা মত প্রকাশ করেন।





আপনার মতামত লিখুন