খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ

মাদকবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।

স্টাফ রিপোর্টার :
মাদকবিরোধী ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং
ময়মনসিংহ নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকুয়া, হাজীবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় কথিত মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উত্তেজনাকে কেন্দ্র  করে দুই কথিত মাদক আস্তানায় এলাকাবাসীর হামলার ঘটনা নিয়ে একতরফা সংবাদ প্রকাশ না করায় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িঘরে একাধিকবার চুরি ও সর্বশেষ রাতভর হামলা, ভাঙচুর এবং মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
সাংবাদিক মারুফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মাদকবিরোধী স্থানীয় ক্ষোভ ও দুই কথিত মাদক আস্তানায় হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক মারুফ হোসেনের  বাড়িঘরে হামলা ও হত্যার উদ্দেশ্য ব্যাপক গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে এবং আশেপাশের বাড়ীঘর ও দোকানে ভাঙচুরের হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাতভর আতঙ্কের মধ্যে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে গুলিবর্ষণ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। মাদকবিরোধী ক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা বিরাজমান। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনবাগ, সাতঘরিয়াপাড়া, হাজীবাড়ীসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বেচাকেনার অভিযোগের পাশাপাশি কয়েকটি বাসাবাড়িতে চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও একটি চক্র জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের আনাগোনা দেখা যায় কথিত মাদক স্পটগুলোতে। এ কারণে এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক ব্যবসার অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের ভিত্তিতে প্রত্যাশিত ব্যবস্থা না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কথিত মাদক আস্তানায় স্থানীয়দের হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে হামলা, ভাঙচুর কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কথিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিষয়টি আড়াল করে পরবর্তী হামলা-ভাঙচুরের ঘটনাকে সামনে এনে মূল বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।এলাকাবাসীর দাবি, মাদকবিরোধী ক্ষোভ কেন তৈরি হয়েছিল? কথিত মাদক স্পটগুলোতে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলত? এবং স্থানীয়রা কেন সেখানে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন? এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইভাবে কোনো সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর বা গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলেও সেটির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেপা দিয়েছে। 
একজন সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, কোনো সংবাদ প্রকাশ বা কোনো ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকের অবস্থান পছন্দ না হলে তার জবাব হতে পারে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদ কিংবা আইনি প্রক্রিয়া; কিন্তু কোনোভাবেই হামলা, ভয়ভীতি বা সহিংসতার মাধ্যমে সংবাদকর্মীকে চাপে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।সাংবাদিক মারুফ হোসেনের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। 
সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্হানীয়রা এলাকাবাসী বলছেন, মাদক ব্যবসা কিংবা কথিত মাদক আস্তানার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদন্ত করতে পারেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা, অভিযোগের স্থানগুলো পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।তাদের দাবি, আকুয়া সহ আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হোক। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান সচেতন মহলের মতে, মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি হলেও কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ সংগ্রহ এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াই কার্যকর ও টেকসই পথ।একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, সাংবাদিক কিংবা পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর বা গুলিবর্ষণের অভিযোগ থাকলে সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।এদিকে সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ এবং এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ উভয় বিষয়েই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সরেজমিন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, তদন্তের মাধ্যমে সাংবাদিক মারুফ হোসেনের বাড়িতে রাতভর হামলার ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
advertisement
advertisement

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে, তরুণদের রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ভালুকা মডেল থানার ওসি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে, তরুণদের রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ভালুকা মডেল থানার ওসি

সমাজে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, তাদের বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর

মোঃ রাসেল ফকির :
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ময়মনসিংহ ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল ইসলাম।  তিনি বলেন, সমাজে যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, তাদের বিচার করার দায়িত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজের হাতে আইন তুলে নিতে পারবেন না।
ওসি জাহিদুল  ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা আগুন দিয়ে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে নিজেরাও অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসায়ী, মাদক কারবারি বা অপরাধী সম্পর্কে তথ্য জানা থাকলে তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে হবে। তথ্যের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, সাংবাদিকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সাধারণ মানুষের সচেতনতা, সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রতিরোধ। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এলে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

তদন্তের ফল প্রকাশের দাবি,মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে প্রশ্ন?

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তদন্তের ফল প্রকাশের দাবি,মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে প্রশ্ন?

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশে মনিকা পারভীনকে সদর থেকে নান্দাইলে এবং নান্দাইলের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছাকে সদরে বদলি করা হয়। আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের নান্দাইলে বদলি ও পদায়ন নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সদরের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তাঁর ভূমিকা বিবেচনায় বদলি আদেশ পুনর্বিবেচনা বা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগের তদন্তের ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশে মনিকা পারভীনকে সদর থেকে নান্দাইলে এবং নান্দাইলের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছাকে সদরে বদলি করা হয়। আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হিসেবে সম্প্রতি সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ দাবির অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘ঘুষ.সাইট’–সংক্রান্ত অভিযোগের পর গত ৩১ আগস্ট কার্যালয়ের কর্মচারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ ও মো. মুজিবুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, তদন্ত শেষে ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদনে কী পাওয়া গেছে বা কী সুপারিশ করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তিন দিনের মাথায় মনিকা পারভীনের বদলি হওয়ায় শিক্ষক-অভিভাবকদের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, বদলির সঙ্গে ওই অভিযোগের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘুষ চাওয়া বা গ্রহণের অভিযোগ মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে ছিল না। ‘ঘুষ.সাইট’–এর উদ্যোক্তা শাহেদ শরীফ আহমেদেরও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগের কথা জানা যায়নি।
ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ জেলা কার্যালয় থেকে নয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হয়েছে। মনিকা পারভীন তিন বছরের অধিক সময় একই কর্মস্থলে ছিলেন। সাধারণত তিন বছরের বেশি একই কর্মস্থলে থাকার সুযোগ নেই। নান্দাইলের কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছার আগে করা বদলি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেও দুই কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে গত ২৪ জুন নান্দাইলের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার, সিসি ক্যামেরা, শিক্ষক বদলি ও সংযুক্তি এবং সরঞ্জাম কেনাকাটাসহ প্রশাসনিক বিষয় ছিল অভিযোগে।
ফজিলাতুন নেছা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি বেনামি এবং বিষয়টি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। তিন বছরের বেশি সময় একই কর্মস্থলে থাকার কারণে তিনি আগে থেকেই সদরে বদলির আবেদন করেছিলেন বলেও জানান।
মনিকা পারভীন বলেন, আদেশে ‘জনস্বার্থে’ বদলির কথা উল্লেখ থাকলেও নির্দিষ্ট কারণ তাঁকে জানানো হয়নি। তিনি বদলি স্থগিত বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। তাঁর একমাত্র মেয়ে ময়মনসিংহের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবে। মেয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে কর্মস্থল পরিবর্তনের পারিবারিক প্রভাবের বিষয়টিও তিনি আবেদনে উল্লেখ করেছেন।
ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদও তাঁর বদলি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে সুপারিশ করেছেন।
শিক্ষক-অভিভাবকদের দাবি, প্রশাসনিক প্রয়োজন থাকলে বদলি হতেই পারে। তবে সদর শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের ফলাফল প্রকাশ এবং তার ভিত্তিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সচেতন মহলের মতে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং প্রমাণিত না হলে সেটিও প্রকাশ করা উচিত।

সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধার ৫ বছরের প্রেম, তারপর হত্যা:

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুটকেসে দ্বিখণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধার ৫ বছরের প্রেম, তারপর হত্যা:

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি :

গাজীপুরের জয়দেবপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক তথ্য। পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও জমে থাকা ক্ষোভের জেরে প্রেমিক মিশন ইসলামের হাতে খুন হন ডলি আক্তার (৩০)। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও লাশ গুম করতে বটি দা ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দেন পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার।

তিনি জানান,নিহত ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের খালের পানিতে একটি ব্রিফকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিফকেসের ভেতর ও বস্তায় রাখা এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

পরে অজ্ঞাত নারীর দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত স্থানীয় সোর্সের সমন্বয়ে শুরু হয় নিবিড় অনুসন্ধান। তদন্তের একপর্যায়ে শনাক্ত হয় নিহত নারীর পরিচয়। একই সঙ্গে উন্মোচিত হয় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও।

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দি অনুযায়ী, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। ডলি প্রায়ই মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে অবস্থান করেন।

পিবিআই জানায়, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মিশনের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ডলিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় সে। আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ওষুধ ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়লে রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখে।

পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান। এরপর লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়। মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করে। কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড ও বটি দা দিয়ে কোমর থেকে লাশটি দ্বিখণ্ডিত করা হয়।

লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়। পরে মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনে। মিল্টন এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করে।

পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুর এবং সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে ভবানীপুর এলাকায় যায়। ভবানীপুর ব্রিজ এলাকা থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেয়।

এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে জানতে চায় সে। একপর্যায়ে মিশন তাকে জানায়, সেখানে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে। পরে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।

নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) বাদী হয়ে ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে।

১২ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পিবিআই।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় প্রথমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। কিন্তু পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও বিশ্বস্ত সোর্সের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে। অপরাধী যত কৌশলেই অপরাধ সংঘটিত করুক না কেন, পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব। পিবিআই গাজীপুর জেলা এ ঘটনায় তারই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না এবং উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।