খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

অনেক বিচারক বেলা ১১টায় আসেন, দেড়টা-দুইটায় চলে যান —এটা চলবে না: আইনমন্ত্রী

আইন-আদালত ডেস্ক: বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রিতা এবং অফিসের সময় মেনে না চলার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কনফারেন্স রুমে দেশের প্রথম ই পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। বিচারকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে দেরিতে আদালতে প্রবেশ এবং দুপুর গড়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করার যে অভিযোগ রয়েছে, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত সময় সঠিকভাবে পালন না করার অভিযোগ পাওয়া যায়, যা বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ায়। কোনো বিচারক যদি সকাল ১১টায় এসে মাত্র দুই ঘণ্টা কাজ শেষ করে চলে যান, তবে সেই অনিয়ম কোনোভাবেই চলতে পারে না। এ সময় কড়া ভাষায় তিনি উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধার সুযোগ রাখা হবে না এবং কাজের প্রতি অবহেলা বন্ধ করতে হবে।

তরুণ বিচারকদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রজন্মের বিচারকরা যথেষ্ট মেধাবী ও স্মার্ট। বিচারব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভরসার মূর্ত প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই এবং ডিজিটাল যুগের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ বিচারকদের আরও বেশি দক্ষ ও দূরদর্শী হতে হবে। মামলার জট কমানোর বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে সাড়ে ছেচল্লিশ লাখের বেশি মামলা ঝুল রয়েছে, যা নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারকদের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হচ্ছে। এই বিচারিক চাপ হ্রাসে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

বিচারপ্রক্রিয়াকে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার অংশ হিসেবে দেশে প্রথমবারের মতো ই পারিবারিক আপিল আদালত চালু করা হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এর আগে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ডিজিটাল পারিবারিক আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। মূলত বিচারব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং কাগজের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই আধুনিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ, দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং শিশুর অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত পাঁচ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক মামলা ডিজিটালি পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিচারালয়ে ই-বেইল বন্ড, ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ ও হাজিরা পদ্ধতি চালুর ফলে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছে বলে অনুষ্ঠানে বক্তারা উল্লেখ করেন। বিচারব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করতে ভবিষ্যতে আরও নতুন ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

advertisement
advertisement

আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

আমাদের দাবি আদায়ে একদফার ডাক আসতে পারে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক: সম্প্রতি বাগেরহাটের কাটাখালীতে আয়োজিত একটি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন যে তাদের উত্থাপিত সাত দফা দাবি কেবল দলীয় কোনো এজেন্ডা নয়, বরং এটি দেশের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে জনগণের এই অধিকার যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অচিরেই একদফার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। এ সময় তিনি দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান এবং আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের প্রস্তুতি নিতে বলেন।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণভোটের রায় প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন যে জনগণের রায় কোনোভাবেই উপেক্ষা করা চলবে না এবং বিএনপিকে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে গণভোটের রায়ের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বা গড়িমসি বরদাস্ত করা হবে না। দেশের ১১ দলের লংমার্চে হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে জনগণের এই সম্মিলিত রায়কে সম্মান জানাতে হবে এবং কোনো অজুহাত দেখিয়ে তা এড়ানোর সুযোগ নেই।

বিএনপির উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন যে সময় থাকতেই যেন তারা জনগণের এই রায় স্বেচ্ছায় মেনে নেয়, অন্যথায় সাধারণ জনতাই নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে জানে। একই সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে বিগত নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় বসলেও গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে সরকার যদি জনগণের এই রায়ের বাস্তবায়ন না করে, তবে ১১ দলীয় জোট যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

উক্ত পথসভায় ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ অভিযোগ করেন যে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস চাঁদাবাজি ও জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। তিনি বলেন যে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে এবং খুন ও গুমের সংস্কৃতি থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তিনি, যাতে জনগণের সামনে বিএনপির নানা অনিয়ম ও ব্যর্থতার ইতিহাস তুলে ধরা যায়।

ইনানীতে গ্যাস ও জ্বালানি তেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইনানীতে গ্যাস ও জ্বালানি তেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা

ইনানীতে গ্যাস ও জ্বালানি তেল প্রাপ্তির সম্ভাবনা

জাতীয় ডেস্ক: কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার ইনানী এলাকায় একটি বাড়িতে নলকূপ স্থাপনের সময় মাটির গভীর থেকে গ্যাস ও জ্বালানি তেল বের হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই এলাকায় নলকূপ বসানোর কাজ চলার সময় ভূগর্ভের প্রায় এক হাজার ফুট গভীরে পাইপ পৌঁছানোর পর প্রাকৃতিকভাবে গ্যাস নির্গত হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে তাতে আগুন ধরে যায়। এই আকস্মিক ঘটনায় উৎসস্থল থেকে টানা কয়েক দিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ২৭ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলের আশপাশের ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণ মানুষের প্রবেশ, ঘোরাফেরা এবং আগুন জ্বালানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং এলাকাটিতে লাল পতাকা টানিয়ে ও কাঁটাতারের বেড়া বসিয়ে অবরুদ্ধ করা হয়। তা সত্ত্বেও প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভিড় জমায়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঘটনার পর বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড তথা বাপেক্স এবং পেট্রোবাংলার উচ্চপর্যায়ের একটি কারিগরি দল একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পেট্রোবাংলার প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নির্গত হওয়া এই গ্যাস অগভীর কোনো প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত বা শ্যালো রিজার্ভার থেকে আসছে। এছাড়া আগুনের শিখার বিশেষ রং দেখে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, এই গ্যাসের সঙ্গে মূল্যবান জ্বালানি তেল বা কনডেনসেটও থাকতে পারে। গ্যাস ও জ্বালানি তেলের এই মজুত যদি উৎপাদন উপযোগী বলে প্রমাণিত হয়, তবে তা দেশের জ্বালানি খাতে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

আগুন ও গ্যাস নির্গমনের প্রকৃত প্রকৃতি সম্পর্কে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স যৌথভাবে আগামী ১৫ দিন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণের সময় যদি গ্যাসের প্রবাহ বা আগুনের তীব্রতা না কমে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে আধুনিক সাইড ট্র্যাকিং প্রযুক্তির সাহায্যে একটি রিলিফ কূপ খনন করা হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং বিশেষজ্ঞ দল আশা করছে নিজস্ব সক্ষমতা দিয়েই এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে মহানবী (সা.) যে ৩ শর্ত বলেছেন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে মহানবী (সা.) যে ৩ শর্ত বলেছেন

বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে মহানবী (সা.) যে ৩ শর্ত বলেছেন

ধর্ম ডেস্ক: বর্তমান সমাজে বিয়ের জন্য পাত্র বা পাত্রী নির্বাচনের সময় বাহ্যিক সৌন্দর্য এবং আর্থিক সচ্ছলতাকেই প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ইসলাম ধর্ম এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ বাস্তবমুখী ও দূরদর্শী কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করে দিয়েছেন। মানুষের সাময়িক রূপ বা ক্ষণস্থায়ী সম্পদের চেয়েও তিনি মানুষের অভ্যন্তরীণ গুণাবলি এবং চরিত্রকে অনেক বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।

ইসলামের সোনালী ইতিহাস এবং হাদিসের বাণী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ পরিবার গঠনের জন্য বাহ্যিক রূপের চেয়ে মানসিক মেলবন্ধন ও আত্মিক প্রশান্তি অত্যন্ত জরুরি। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিশেষ গুণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এই নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো বৈবাহিক জীবনে দীর্ঘস্থায়ী সুখ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং একটি আদর্শ নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

পাত্রী বা পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে ধর্মীয় অনুশাসন ও ভালো চরিত্রকে। কারণ পার্থিব সৌন্দর্য ও অর্থ একসময় ফুরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু ধার্মিকতা ও নৈতিকতা সারাজীবন মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সুরক্ষিত রাখে। একজন সৎ ও খোদাভীরু মানুষ কখনোই তার জীবনসঙ্গীর প্রতি অবিচার করতে পারে না, যা পারিবারিক জীবনকে সবসময় শান্তিময় করে তোলে।

দ্বিতীয়ত, বংশমর্যাদা বা পারিবারিক ঐতিহ্য এবং সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও ইসলামের দৃষ্টিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একটি ভালো পরিবারে বেড়ে ওঠা মানুষ সাধারণত সামাজিক মূল্যবোধ, শিষ্টাচার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকে। এই পারিবারিক পটভূমি বা পরিবেশ দম্পতির ভবিষ্যৎ জীবন এবং তাদের সন্তান সন্ততির লালন-পালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সর্বোপরি, এই গুণগুলোর পাশাপাশি পাত্র-পাত্রীর পারস্পরিক পছন্দ এবং মনের মিলের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব পায়। বাহ্যিক রূপ বা সম্পদের মোহ ত্যাগ করে যদি এই মূলনীতিগুলো মেনে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা হয়, তবে সেই পরিবারে আল্লাহর রহমত বজায় থাকে। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় এভাবেই একটি সুখী, সমৃদ্ধ এবং স্থিতিশীল পরিবার গঠনের পথনির্দেশনা স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।