খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: বিটিআরসির চার উপপরিচালককে শোকজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: বিটিআরসির চার উপপরিচালককে শোকজ

কমিশনের স্বার্থপরিপন্থী কার্যকলাপে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজন উপপরিচালককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল রবিবার পৃথক চারটি চিঠির মাধ্যমে তাঁদের এই নোটিশ দেওয়া হয়। চিঠিতে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে বক্তব্য না দিলে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানে চলা অনিয়মের প্রতিবাদে আদালতে রিট করার কারণেই তাঁদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রদত্ত নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অফিস চলাকালে ও অফিস সময়ের বাইরে কমিশনের স্বাভাবিক কাজ ও শৃঙ্খলাবিরোধী এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সহকর্মী ও বহিরাগতদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এই আচরণ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতাভুক্ত। তবে এ বিষয়ে উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ প্রথম আলোকে জানান, চিঠিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে।

ঘটনার পটভূমি পর্যালোচনায় জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে অডিট আপত্তি থাকা কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কমিশন। এর প্রতিকার চেয়ে গত মার্চ মাসে বিটিআরসির ছয়জন উপপরিচালক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় রিটকারীদের মধ্যে উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয় এবং অন্য চারজনকে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে বিভিন্ন বিভাগে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকার বাইরের বদলি আদেশের বিরুদ্ধে সনজিব ও আফজাল পুনরায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে গত ২৩ এপ্রিল আদালত প্রথমে দুই মাস এবং পরে ৯ জুন ছয় মাসের জন্য ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সনজিব কুমার সিংহের কক্ষে যান বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সচিব। ওই কক্ষে আগে থেকেই উপপরিচালক এস এম আফজাল রেজা, জাকির হোসেন খান ও আহসানুল হাবীব অবস্থান করছিলেন। সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লাঞ্চে যাওয়ার জন্য আমরা একসঙ্গে হয়েছিলাম। স্যার আচমকা রুমে প্রবেশ করেন। কক্ষে আমরা কী করছি, কী নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, তা জানতে চান। এরপর বলেন আমরা ষড়যন্ত্র করছি। তাৎক্ষণিক রুম সিলগালা করারও আদেশ দিয়ে যান।’ নথিপত্র অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলেই সনজিব কুমার সিংহকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এর পরদিন তাঁর কার্যালয়কক্ষটি সিলগালা করা হয় এবং বাকি তিন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল তাঁদের এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হলো।

পুরো বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে কমিশনের জনসংযোগ উপপরিচালক আবদুস শাহীদ চৌধুরীকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রথমে স্যারের (চেয়ারম্যানের) পিএস এর কাছ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলে তখন স্যারের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। আমার তো দেখা করার স্কোপ নেই।…আপনি তারপরও পাঠিয়ে রাখতে পারেন।’ তবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও বিটিআরসির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

advertisement
advertisement

ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক ছাড়াল: মশার উপদ্রব নাকি প্রশাসনিক সুশাসনের ব্যর্থতা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ডেঙ্গুতে মৃত্যু তিন শতাধিক ছাড়াল: মশার উপদ্রব নাকি প্রশাসনিক সুশাসনের ব্যর্থতা

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত শিশু। ঢাকা শিশু হাসপাতাল, রাজধানী ঢাকা

একই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ভিন্ন ফলাফলের আশা করাকে উন্মাদনা আখ্যা দিয়েছিলেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন। বাংলাদেশে এডিস মশা ও ডেঙ্গু মোকাবিলার বর্তমান সরকারি পদক্ষেপগুলোও যেন সেই একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যেই তিন শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগীদের মেঝে ও সিঁড়িতে অবস্থান নিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে এবং উদ্ভূত সংকট সামলাতে প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রাখার কথাও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সরকার, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী কিংবা সিটি করপোরেশনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন এলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, যা কেবল প্রশাসনিক দুর্বলতা নয় বরং শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিস্থিতি সরাসরি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং ১৮ অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে। দেশের শীর্ষ আদালতের একাধিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই অধিকার মূলত স্বাস্থ্যকর ও সুরক্ষিত পরিবেশে বসবাসের নিশ্চয়তা দেয়। ফলে প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধিতে প্রতিবছর বিপুল প্রাণহানি এই সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অথচ সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো উষ্ণমণ্ডলীয় দেশগুলো বিজ্ঞানভিত্তিক নজরদারি, উৎসমূল ধ্বংস এবং জবাবদিহির মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাফল্য দেখিয়েছে। এক গবেষক কীটতত্ত্ববিদের মতে, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে বিগত বছরে ৬২ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হতেন না।

সরকারি জরিপেই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ১৩টি ওয়ার্ডকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সিমেন্টের পানির আধার ও স্যাঁতসেঁতে মেঝেকে প্রধান প্রজননস্থল বলা হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি দায়িত্বগত চরম অবহেলার পরিচায়ক। এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশার প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে ভর্ৎসনা করে নির্দিষ্ট মেয়াদে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে সংকটটি জাতীয় হওয়ায় কেবল স্থানভিত্তিক হস্তক্ষেপের বদলে পরিবেশদূষণ বা সড়ক নিরাপত্তার মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধেও আদালত থেকে দেশের সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের জন্য সামগ্রিক নির্দেশনা ও জাতীয় বিচারিক রূপরেখা প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।

প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে কীটনাশক ছিটানো হলেও ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই কিংবা ওয়ার্ডভিত্তিক ঘনত্বের কোনো স্বাধীন নিরীক্ষা নেই। অতীতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার প্রতিষ্ঠান থেকে লাখ লাখ টাকার ওষুধ কেনার ঘটনা ঘটেছে এবং পটপরিবর্তনের পরও একজন উপদেষ্টার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যকারিতাহীনতার দায়ে যে কীটনাশক বাতিল করেছিল, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তা ব্যবহার অব্যাহত রাখে। এমনকি সম্প্রতি দক্ষিণ সিটির কীটনাশক মজুতাগারে দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযান চালিয়ে জালিয়াতির তথ্য পায়। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নিম্নমানের কীটনাশক ব্যবহার এবং তার ফলে প্রাণহানি ফৌজদারি আইনের দৃষ্টিতে অবহেলাজনিত অপরাধের শামিল, যার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া আবশ্যক।

সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে প্রতিটি ওয়ার্ডকে উপ-অঞ্চলে বিভক্ত করে সমন্বিত কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। অথচ পার্শ্ববর্তী কলকাতার অভিজ্ঞতা বলছে, সাময়িক ফগিংয়ের চেয়ে বর্ষা শুরুর আগেই নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত টানা আট মাস প্রাক-মৌসুম উৎসমূল ধ্বংসের কাজ চালিয়ে তারা সাফল্য পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ডেঙ্গুকে মৌসুমি নয় বরং বছরব্যাপী স্থায়ী জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া, সংক্রামক রোগ ও স্থানীয় সরকার আইনে জবাবদিহিমূলক কর্মদক্ষতার সূচক যুক্ত করা, কীটনাশক ক্রয়ে বাধ্যতামূলক স্বাধীন নিরীক্ষা নিশ্চিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং সুশীল সমাজ ও আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে জনস্বার্থে মামলা পরিচালনার প্রস্তাব তুলে ধরেছেন নগর অধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর সাদাত।

জ্ঞানেশ কুমারের পর নিশানায় মোদি ও অমিত শাহ, লড়াই চলবে: শীর্ষ আদালতমুখী মিছিলে রাহুল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জ্ঞানেশ কুমারের পর নিশানায় মোদি ও অমিত শাহ, লড়াই চলবে: শীর্ষ আদালতমুখী মিছিলে রাহুল

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদলে তৈরি একটি পুতুল হাতে নিয়ে হাঁটছেন বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলের নেতাদের নিয়ে তিনি বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল করেন। নয়াদিল্লি

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রমে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা। একই ইস্যুতে এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে শীর্ষ আদালত অভিমুখে এক বিশাল পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। ওই মিছিলে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের দাবি জানান। শীর্ষ আদালতে দায়ের করা আবেদনে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে নালিশ জানানো হয় যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম অবৈধভাবে কর্তনসহ নানা অসংগতি তৈরি করা হয়েছে।

তিলক মার্গ ধরে সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিক্ষোভকারীদের মিছিলটি ভগবান দাস রোডে পৌঁছালে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের পথরোধ করে। এর ফলে মিছিলটি শীর্ষ আদালত চত্বরে যেতে পারেনি এবং কয়েক হাজার মানুষ ভগবান দাস রোড ও এর আশপাশের রাস্তায় জড়ো হয়ে থাকেন। কর্মসূচি শুরুর পূর্বে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘আলাদা কোনো প্রতিবাদ নেই। জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য একটিই প্রতিবাদ চলছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী, অমিত শাহের পালা। আমরা থামব না।’ কংগ্রেসের এই শীর্ষ নেতার দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের নির্দেশে ও চাপে দায়িত্ব পালন করছেন সিইসি জ্ঞানেশ কুমার। ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে বিতর্কিত এই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ আদালতমুখী এ জমায়েত হয়।

এর আগে গত রবিবার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উদ্দেশ্যে নতুন তারিখ চেয়ে দিল্লি পুলিশকে চিঠি পাঠান। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড—এই তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

কংগ্রেসের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে আজ সোমবার বিকেল চারটা পর্যন্ত দিল্লির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। এই স্টেশনগুলো হলো—জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক এবং প্যাটেল চক। তবে দিল্লি মেট্রোরেল করপোরেশন নিশ্চিত করেছে যে স্টেশনগুলোতে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে যাওয়ার ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা সচল ছিল। সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা দেয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। উল্লেখ্য, গতকালই সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন দিল্লির মেট্রো পরিষেবা ও ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখা হয় এবং যেকোনো বিধিনিষেধ যেন সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে বর্ণিত জনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে।

তারল্যসংকটে থাকা ছয় ব্যাংকে আটকা চট্টগ্রাম বন্দরের ১,২০০ কোটি টাকা, আদায়ে সংসদীয় কমিটির তাগিদ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
তারল্যসংকটে থাকা ছয় ব্যাংকে আটকা চট্টগ্রাম বন্দরের ১,২০০ কোটি টাকা, আদায়ে সংসদীয় কমিটির তাগিদ

চট্টগ্রাম বন্দর

তীব্র তারল্যসংকটে পড়া ছয়টি ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) আটকে গেছে। আন্তর্জাতিক আর্থিক মানদণ্ড (আইএফআরএস) মেনে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির কোনো হিসাবভিত্তিক সংস্থান না রেখেই এ আমানত রাখা হয়েছিল, যার অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। আজ সোমবার জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরত না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলে সংসদীয় কমিটি বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত উদ্ধারে জোর তাগিদ দেয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বমোট ১১ হাজার ১৩৩ কোটি টাকার এফডিআরের মধ্যে পদ্মা ব্যাংকে রয়েছে ১৭৯ কোটি ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ এবং ইউনিয়ন ব্যাংকে রয়েছে ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। চরম সংকটে থাকা এই ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংককে ইতোমধ্যে একীভূত করে গঠন করা হয়েছে সরকারি ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। বৈঠকে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব আমানত রাখা হয়েছিল; বর্তমানে মূল টাকার পাশাপাশি এফডিআরের মুনাফাও পুরোপুরি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

বৈঠকে বন্দরের অন্যান্য কার্যক্রম পর্যালোচনায় জানা যায়, লালদিয়ায় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারী পণ্য ওঠানো-নামানোর জেটি নির্মাণের সমঝোতা স্মারক নৌবাহিনীর সঙ্গে স্বাক্ষর করা হলেও এক বছরে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে চুক্তিটি বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে হওয়া চুক্তির লাভ-ক্ষতি নিয়ে সংসদীয় কমিটি জানতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ের পরিচালনা সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরে। সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ আমানত উদ্ধার, দীর্ঘদিনের নিরীক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তি, সরকারি অর্থের সুরক্ষা, নিলামযোগ্য কনটেইনার ও যানবাহন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মোংলা ও পায়রা বন্দরের ড্রেজিং প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পায়রা বন্দরের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০০-১০৫ মিটার প্রশস্ত চ্যানেলে ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৬ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এতে ১০ দশমিক ৫ মিটার গভীরতা অর্জনের কথা থাকলেও ড্রেজিং শেষে প্রাক্‌-জরিপের মতোই গভীরতা ৫ মিটারে অপরিবর্তিত থাকে। কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়েও পুরো অর্থ ছাড় করার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। অন্যদিকে, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেলে ৭ দশমিক ৫ মিটার গভীরতা এবং জেটিতে ৯ দশমিক ৫ থেকে ১০ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর উদ্দেশ্যে ১২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় ড্রেজিং করা হলেও নিজস্ব হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের রিপোর্টে গভীরতা পাওয়া যায় মাত্র সাড়ে ৫ মিটার। অতিরিক্ত পলি জমার কারণ দেখানো হলেও সঠিক সমীক্ষা ছাড়া প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নে জড়িত কর্মকর্তাদের দায় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কাজের শর্ত হিসেবে ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত গভীরতা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ, হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সদস্য তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন।