স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ: বিটিআরসির চার উপপরিচালককে শোকজ
কমিশনের স্বার্থপরিপন্থী কার্যকলাপে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চারজন উপপরিচালককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গতকাল রবিবার পৃথক চারটি চিঠির মাধ্যমে তাঁদের এই নোটিশ দেওয়া হয়। চিঠিতে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ে বক্তব্য না দিলে তাঁদের কোনো বক্তব্য নেই বলে গণ্য করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানে চলা অনিয়মের প্রতিবাদে আদালতে রিট করার কারণেই তাঁদের লক্ষ্য করে এ ধরনের হয়রানিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রদত্ত নোটিশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অফিস চলাকালে ও অফিস সময়ের বাইরে কমিশনের স্বাভাবিক কাজ ও শৃঙ্খলাবিরোধী এবং প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সহকর্মী ও বহিরাগতদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। এই আচরণ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতাভুক্ত। তবে এ বিষয়ে উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ প্রথম আলোকে জানান, চিঠিতে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করা হচ্ছে।
ঘটনার পটভূমি পর্যালোচনায় জানা যায়, চলতি বছরের শুরুর দিকে অডিট আপত্তি থাকা কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কমিশন। এর প্রতিকার চেয়ে গত মার্চ মাসে বিটিআরসির ছয়জন উপপরিচালক হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় রিটকারীদের মধ্যে উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ ও এস এম আফজাল রেজাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয় এবং অন্য চারজনকে বর্তমান পদ থেকে সরিয়ে বিভিন্ন বিভাগে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকার বাইরের বদলি আদেশের বিরুদ্ধে সনজিব ও আফজাল পুনরায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে গত ২৩ এপ্রিল আদালত প্রথমে দুই মাস এবং পরে ৯ জুন ছয় মাসের জন্য ওই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে সনজিব কুমার সিংহের কক্ষে যান বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। সে সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ও সচিব। ওই কক্ষে আগে থেকেই উপপরিচালক এস এম আফজাল রেজা, জাকির হোসেন খান ও আহসানুল হাবীব অবস্থান করছিলেন। সেখানে উপস্থিত এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘লাঞ্চে যাওয়ার জন্য আমরা একসঙ্গে হয়েছিলাম। স্যার আচমকা রুমে প্রবেশ করেন। কক্ষে আমরা কী করছি, কী নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে, তা জানতে চান। এরপর বলেন আমরা ষড়যন্ত্র করছি। তাৎক্ষণিক রুম সিলগালা করারও আদেশ দিয়ে যান।’ নথিপত্র অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলেই সনজিব কুমার সিংহকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। এর পরদিন তাঁর কার্যালয়কক্ষটি সিলগালা করা হয় এবং বাকি তিন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দপ্তরে বদলি করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল তাঁদের এই শোকজ নোটিশ দেওয়া হলো।
পুরো বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারীর হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে কমিশনের জনসংযোগ উপপরিচালক আবদুস শাহীদ চৌধুরীকে লিখিত প্রশ্ন পাঠানো হলে তিনি বলেন, ‘আমাকে প্রথমে স্যারের (চেয়ারম্যানের) পিএস এর কাছ থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেলে তখন স্যারের সঙ্গে শেয়ার করতে পারি। আমার তো দেখা করার স্কোপ নেই।…আপনি তারপরও পাঠিয়ে রাখতে পারেন।’ তবে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও বিটিআরসির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





আপনার মতামত লিখুন