খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩
advertisement

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চলে বহিরাগতদের প্রাইভেট বাণিজ্য প্রধান শিক্ষক বলছেন আমার জানা নাই

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে চলে বহিরাগতদের প্রাইভেট বাণিজ্য  প্রধান শিক্ষক বলছেন আমার জানা নাই

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনই বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষে সবমিলিয়ে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো হয়। সেখানে প্রাইভেট শিক্ষকরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা অজুত হোসেন, মিলন মিয়া ও নাজিম মিয়া। পার্শ্ববর্তী কাকৈরগড়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, গত ৫ মাস ধরে এই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অজুত হোসেনের কাছে প্রাইভেট পড়ছে তারা। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে প্রাইভেট বেতন দিচ্ছে।

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:-নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে বহিরাগত প্রাইভেট শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সকাল-বিকাল বিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষে চলে প্রাইভেট টিউশন। শুধু ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নয় আশপাশের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখানে এসে প্রাইভেট টিউশন নিচ্ছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি শ্রেণিকক্ষে বহিরাগত ব্যক্তিরা শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে এক কক্ষের শিক্ষার্থীদের ছুটি দিয়ে দেন তবে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। অন্য একজন সেবা দিচ্ছেন বলতে থাকেন। তবে পরে স্বীকার করেন তিনিও।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনই বিদ্যালয়টির শ্রেণিকক্ষে সবমিলিয়ে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীদের  প্রাইভেট পড়ানো হয়। সেখানে প্রাইভেট শিক্ষকরা হলেন স্থানীয় বাসিন্দা অজুত হোসেন, মিলন মিয়া ও নাজিম মিয়া। পার্শ্ববর্তী কাকৈরগড়া ইউনিয়ন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী জানায়, গত ৫ মাস ধরে এই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে অজুত হোসেনের কাছে প্রাইভেট পড়ছে তারা। প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে প্রাইভেট বেতন দিচ্ছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা রতন মিয়া জানান, সকাল ও বিকাল দুই সময়েই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে চলে এই প্রাইভেট বাণিজ্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি বাণিজ্যর জন্য ? সরকার তো প্রাইভেট পড়ানোর জন্য বিদ্যালয় করেনি। আমরা চাই ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষ্ণেরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস উদ্দিন দাবি করেন, শ্রেণিকক্ষে এভাবে প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, কিভাবে তারা প্রাইভেট পড়াচ্ছেন আমি জানি না। তালার চাবি তাদের কাছে কিভাবে তাদের জিজ্ঞেস করুন। আমি কিছুই জানি না।
এ নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুল রহমান আনছারী প্রতিবেদকে বলেন, প্রতিষ্ঠানের কোন কক্ষ অন্য কোন কাজে ব্যবহৃত হয় এটি সবার আগে জানবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। যদি প্রতিষ্ঠান প্রধান বলে থাকেন যে আমি জানিনা এটি ওনার দায়িত্বে চরম একটা অবহেলা আমি বলব। তো আমি অবশ্যই খোঁজ নিব এটি কেন জানেন না এবং এটি জানা উচিত ছিল কিনা। তিনি আরও বলেন, একটা প্রতিষ্ঠানের রুমে প্রাইভেট পড়াবে বাইরের লোকজন। চাবি থাকবে তাদের হাতে আর প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে জানবেন না এটা তো ওনার চরম ব্যর্থতা। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।


advertisement
advertisement

দুর্গাপুরে নিম্নমানের ও রাবিসমিশ্রিত খোয়া ব্যবহার করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুর্গাপুরে নিম্নমানের ও রাবিসমিশ্রিত খোয়া ব্যবহার করে রাস্তা নির্মানের অভিযোগ

খোজনিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাঁকৈরগড়া ইউনিয়নের বড়বাট্রা গ্রামের দুলাল মিয়ার দোকান থেকে নয়ন মিয়ার পুকুরপাড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার ৩০৫ টাকা। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন। এলজিইডি বাস্তবায়নে সড়কটির নির্মাণকাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমীরণ চৌধুরী।

দুর্গাপুর(নেত্রকোনা)প্রতিনিধি:-নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পোনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি রাস্তার নির্মাণকাজে রাবিসমিশ্রিত ও নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। কোদাল দিয়ে সড়কের খোয়া খুঁড়লে বেরিয়ে আসছে খোয়ার চেয়ে রাবিসের পরিমাণই বেশি।

খোজনিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাঁকৈরগড়া ইউনিয়নের বড়বাট্রা গ্রামের দুলাল মিয়ার দোকান থেকে নয়ন মিয়ার পুকুরপাড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার ৩০৫ টাকা। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতাধীন। এলজিইডি বাস্তবায়নে সড়কটির নির্মাণকাজ পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমীরণ চৌধুরী। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটির চুক্তি সম্পন্ন হয়। একই বছরের ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরুর লিখিত আদেশ দেওয়া হয়। কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির নির্মাণকাজ এখনো মেকাডম পর্যায়ে রয়েছে। এক কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৪৫০ মিটার অংশে মেকাডম করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ অংশে রাবিস বা ময়লা মিশ্রিত খোয়া দেওয়া হয়েছে,এজিং এ ব্যবহার করা হয়েছে নিম্মমানের ইট।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন মিয়া বলেন, রাস্তায় যে রাবিসমিশ্রিত খোয়া দিতেছে সেটি অত্তন্ত নি¤œমানের। এই রাস্তাটা এইভাবে কইরা গেলে ৩/৪ মাসেই শেষ অইয়া যাইবো।

সোলাইমান কবির বলেন, খোযার মধ্যে খুব নিম্নমানের খোয়া পাইতেছি আমরা। আঙ্গুল দিয়ে ভাইঙ্গা ফেলাযায়। কাজগুলা যে নিম্নমানের হচ্ছে এগুলা দেখে আমরা প্রতিবাদ করি কিন্তু কোনো ফল পাই না,উল্টো ধমক শুনতে হয়।

সরেজমিনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে প্রতিবেদকের কথা হয়, বালুমিশ্রিত খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

পরে প্রকল্পের ঠিকাদার সমীরণ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে আমি কোনো খারাপ মাল দিয়ে কাজ করি নাই। এখন একজন তো বলতেই পারে। আপনি গিয়ে দেখেন আমরা কোনো খারাপ মাল দিছি কি না। অভিযোগ তো আসতেই পারে। কেউ অভিযোগ করলে আমি তো না করতে পারব না।

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বালুর সঙ্গে খোয়া মিশ্রিত কিছু খোয়া পড়ছে শুনেছি পরে আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে। বালুমিশ্রিত খোয়া সরানোর জন্য বলেছি। আগামীকাল(৫ অক্টোবর)সব খোয়া উঠিয়ে ফেলবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী মহোদয় ল্যাব থেকে লোক পাঠিয়েছিলেন। তাঁরাও এসে দেখে গেছেন, খোয়ার স্যাম্পল নিয়ে গেছেন এই পরিস্থিতিতে রাস্তার কাজ সাময়িকভাবে স্খগিদ রাখা হয়েছে।

এস.এম রফিকুল ইসলাম-রফিক
০১৭১২-৪৬৩ ৪৪৯

মেঘনার রূপ উপভোগ আর তাজা ইলিশের স্বাদ মিলবে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণে’

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেঘনার রূপ উপভোগ আর তাজা ইলিশের স্বাদ মিলবে ‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণে’

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনার তীরে গড়ে ওঠা পার্ক পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ

‘পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণ’ নামের পার্কে দাঁড়িয়ে নদীর পানে চোখ মেললেই স্মরণে আসে শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত গানের পঙ্‌ক্তি—‘কত যে ধীরে বহে মেঘনা/ শান্ত তবু সুপ্ত সে নয়।’ মেঘনার বয়ে চলা শান্ত ও গভীর রূপ এবং তার মুক্ত বাতাসের পরশ যে কারও হৃদয়কে প্রশান্ত করে দেয়।

ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গড়ে ওঠা ‘শিল্পাচার্য জয়নুল উদ্যান’-এর মতোই এই পার্কেও দর্শনার্থীরা ভিড় জমান নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে। পাশাপাশি এখানকার ভ্রমণপিপাসুদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে জুটে যেতে পারে মেঘনার টাটকা ইলিশের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ।

সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সিয়াং মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প: অরুণাচলে আদিবাসীদের তীব্র অসন্তোষ ও দিল্লি-বেইজিং সংঘাতের সমীকরণ

জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ঘিরে অরুণাচল প্রদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সিয়াং উপত্যকার উগেং-কমকার এলাকায় মাসখানেক আগে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্যের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মূলত প্রস্তাবিত ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট’-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পূর্ববর্তী ড্রিলিং ও জরিপ কাজের সুরক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। তবে ব্যাপক প্রস্তুতি ও কড়া নজরদারি সত্ত্বেও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অসন্তোষ প্রশমিত হয়নি। বিরোধিতার জেরে গত ১৪ অক্টোবর ২০১৪ সালের রাজ্য বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের আওতায় চার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে আপার সিয়াংয়ের গেকু অঞ্চলে নতুন করে রাজপথে নামে জনতা। একই সঙ্গে সিয়াং আদিবাসী কৃষক ফোরামের (এসআইএফএফ) যুব শাখা সরকারের সঙ্গে যে কোনো ধরনের আলোচনা বর্জনের ডাক দিয়েছে।

হিমালয়ের কৈলাস পর্বতের অদূরে মানস সরোবরের জিমা ইয়ংজং হিমবাহ থেকে জন্ম নেওয়া খরস্রোতা এই নদী তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নামে পরিচিত। অরুণাচলে প্রবেশের পর এর নাম হয় সিয়াং, যা আসাম হয়ে বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নদ হিসেবে সাগরে মিশেছে। স্থানীয় আদি জনগোষ্ঠীর আশঙ্কা, মেগা বাঁধটি রূপায়িত হলে তাদের আদিপুরুষের ভিটেমাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডুর সফরের সময় স্থানীয় বিধায়কের বাসভবনে হামলা ও পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবরের সংঘর্ষে অগ্নিসংযোগ ও যৌথবাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৮ অক্টোবর অরুণাচলের ভূমিপুত্র তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজেজু প্রবীণ আদি নেতাদের সাথে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের কথা বলতে হবে। সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

নদীকেন্দ্রিক এই সংঘাতের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ বৈচিত্র্যময়। ২০১০ সালের আগস্টে রাজ্যে কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে বাঁধবিরোধী জোট সিয়াং পিপলস ফোরামের তৎকালীন নেতা ওজিং তাসিংয়ের ইটানগরের বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তাসিং পরে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী জয়রাম রমেশের কাছে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান। গুয়াহাটিতে শুনানির পর রমেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে লেখা চিঠিতে স্বীকার করেন যে বাঁধের কৌশলগত যুক্তি স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতে পারছে না। সেখানে তিনি বিভিন্ন এনজিওর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, চীন ও ভারতের রেষারেষিতে অরুণাচলকে দাবার ঘুঁটি বানানো উচিত হবে না। এমনকি ২০১২ সালের মে মাসে বিজেপির তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ তরুণ বিজয়ও প্রশ্ন তুলেছিলেন, আন্দোলনকারীদের চীনা মদদপুষ্ট আখ্যা না দিয়ে তাদের কাছে দায়িত্বশীল কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পাঠানো উচিত। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে পাসিঘাটে গিয়ে নরেন্দ্র মোদিও বড় বাঁধের ঝুঁকি মেনে নিয়ে পরিবেশবান্ধব ক্ষুদ্র প্রকল্পের পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

বর্তমানে রাজনৈতিক মেরুকরণ সম্পূর্ণ নতুন রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বসিরাম সিরাম এক স্মারকলিপিতে জানান, উজানে চীনের পানি প্রত্যাহারের যুক্তিতে স্থানীয় আদিবাসীদের পূর্বস্বত্ব ও অধিকার খর্ব করা অনুচিত। সেপ্টেম্বরে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তারহ জনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আদিবাসীদের দাবির মুখে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণ করছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পেমা খানডু প্রকল্পের পূর্ণ বাস্তবায়নে অনড় থেকে গত ২১ সেপ্টেম্বর বাঁধ বিরোধিতাকারী সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সবচেয়ে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে ওজিং তাসিংয়ের ক্ষেত্রে; যিনি একসময় বাঁধের কট্টর বিরোধী ছিলেন, তিনি এখন খানডু মন্ত্রিসভার গ্রামীণ উন্নয়ন ও পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রী। নিজের আগের অবস্থান বদলে তাসিং এখন বলছেন, ‘আমরা যদি নিজেদের বাঁধ নির্মাণ না করি, আর চীন যদি তাদের বাঁধকে আমাদের বিরুদ্ধে “পানিবোমা” হিসেবে ব্যবহার করে; আমাদের ওপর তার প্রভাব কেমন হবে?’

এই প্রকল্পের মূলে রয়েছে ভারত ও চীনের সুদীর্ঘ ভূকৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ১৯৮২ সালে সিয়াং ও সুবনসিরি নদীর পানি নিয়ে ভারতের প্রথম পরিকল্পনায় চীন কোনো মুখ্য কারণ ছিল না। পরবর্তীতে ২০০২ সালে বেইজিংয়ের সাথে বর্ষাকালের জলতাত্ত্বিক তথ্য বিনিময়ের সমঝোতা হয়। ২০০৩ সালে ভারত ৫০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জাতীয় পরিকল্পনা হাতে নেয়, যার ২৭ হাজার মেগাওয়াটই অরুণাচলে হওয়ার কথা ছিল। ২০১১ সালে সংসদে চীন কর্তৃক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাঁধ নির্মাণের খবর আসার পর এবং ২০১৩ সালে চীনের বাড়তি প্রকল্পের বিপরীতে ভাটির দেশের অধিকার নিয়ে দিল্লি সরব হয়। ২০১৭ সালে নীতি আয়োগের পরামর্শে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার স্টেজ-১ ও ২ একত্র করে ১১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের একক বহুমুখী জলাধারের রূপ দেওয়া হয়। বিপরীতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিব্বতের ভাটি অঞ্চলে ৬০ হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার এক বিশাল প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয় বেইজিং। ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে নদীর ২ হাজার মিটার খাড়া ঢালকে কাজে লাগিয়ে পাঁচটি ধাপে এই কেন্দ্র বানাবে চীন। এর ফলে ভাটিতে পানিপ্রবাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা হঠাৎ বিপুল পানি ছেড়ে কৃত্রিম প্লাবনের আশঙ্কায় পাল্টা প্রতিরোধক হিসেবে ভারত সিয়াংয়ে বড় জলাধার গড়তে চাইছে।

তবে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ড্যামস, রিভার্স অ্যান্ড পিপলসের সমন্বয়ক হিমাংশু ঠাক্করের মতে, আন্তর্জাতিক আইনে তথাকথিত ‘প্রথম ব্যবহারকারীর অধিকার’-এর কার্যকর ভিত্তি নেই। তাঁর প্রস্তাব, স্থানীয়দের ওপর বাঁধ না চাপিয়ে ভারতের উচিত চীনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এবং যৌথ পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণের অধিকার দাবি করা। এদিকে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ বিচারব্যবস্থা ‘কেবাং’-এর ঊর্ধ্বে থাকা সর্বোচ্চ সামাজিক পরিষদ ‘বোগুম বোকাং কেবাং’ দীর্ঘ ২৫ বছর পর ২০২৫ সালের আগস্টে আপার সিয়াংয়ের গেকুতে এক বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করে। এসআইএফএফ-এর মতে, এই বাঁধ হলে ২৭টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিলীন হবে, বহু বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং বাস্তুহারা হবেন এক থেকে দেড় লাখ মানুষ। পূর্বপুরুষ ‘আবো তানি’র পুণ্যভূমি ও ‘আনে সিয়াং’ (মা) হিসেবে পূজিত এই নদী আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের প্রতীক। গুয়াহাটি থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী আদি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের এক সাবেক প্রতিনিধির তোলা প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—জাতীয় নিরাপত্তার দায় কাদের বহন করতে হবে, উন্নয়ন কারা নির্ধারণ করবে এবং নদীপাড়ের মানুষদের সংস্কৃতি জলাঞ্জলি না দিয়ে নদীকে কাজে লাগানো যায় কি না।