খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

৫২ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হচ্ছেন হিলারি সোয়াঙ্ক, দেখা গেল বেবি বাম্প

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮:০১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৫২ বছর বয়সে তৃতীয় সন্তানের মা হচ্ছেন হিলারি সোয়াঙ্ক, দেখা গেল বেবি বাম্প

হিলারি সোয়াঙ্ক। রয়টার্স

হলিউডের দুই অস্কারজয়ী তারকা হিলারি সোয়াঙ্কের ঘরে আসছে নতুন অতিথি। ৫২ বছর বয়সে তিনি নিজের তৃতীয় সন্তানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত হচ্ছেন। এই সুখবর প্রকাশ্যে আনার পরদিন, ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দেখা মেলে অভিনেত্রীর, যেখানে তাঁর দৃশ্যমান বেবি বাম্প অনুরাগীদের নজর কাড়ে। সেদিন ‘দ্য ড্রিউ ব্যারিমোর শো’-এর পর্ব শেষ করে বের হওয়ার সময় তিনি উপস্থিত আলোকচিত্রীদের সামনে পড়েন। এ সময় তাঁর পরনে ছিল স্লিভলেস টপ, নিচু কোমরের মাতৃত্বকালীন জিনস এবং রঙিন নিটেড কার্ডিগান; সঙ্গে ছিল লাল রঙের ব্যাগ ও নেভি ব্লু হিল জুতো।

এর আগে ১৪ অক্টোবর সামাজিক মাধ্যমে এক অভিনব ভিডিওর মধ্য দিয়ে এই বিশেষ বার্তা ভক্তদের জানান সোয়াঙ্ক। ভিডিওটিতে তাঁর স্বামী ফিলিপ স্নাইডার এবং তাঁদের তিন বছর বয়সি যমজ সন্তান আয়া ও ওমকে উজ্জ্বল নিয়ন কাঠি পরে অন্ধকারে নাচতে দেখা যায়। এমনকি সোয়াঙ্কের পেটেও নিয়ন কাঠি দিয়ে তৈরি একটি মানব প্রতিকৃতি সাজানো ছিল। অভিনেত্রী ক্যাপশনে রসিকতার সুরে জানান, তাঁর পরবর্তী প্রজেক্ট আগামী ডিসেম্বরেই ‘মুক্তি’ পাচ্ছে। নতুন মাতৃত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পিপল সাময়িকীকে তিনি বলেন, সাধারণ চিকিৎসাগত পরীক্ষার মাধ্যমেই গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি গভীর আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও রোমাঞ্চ অনুভব করছেন। ২০১৮ সালে উদ্যোক্তা ফিলিপ স্নাইডারকে বিয়ে করেন তিনি এবং ২০২৩ সালে জন্ম নেয় তাঁদের যমজ সন্তান।

দেরিতে মাতৃত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে এর আগে ২০২৫ সালে উইমেনস হেলথ সাময়িকীকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, সুযোগ থাকলে হয়তো আগেই মা হতেন, তবে জীবনের নানা দিক বিবেচনা করে ৪৭ বছর বয়সেই সন্তানের মা হওয়া ছিল তাঁর জন্য উপযুক্ত সময়। তিনি মনে করেন, চল্লিশের শুরুর তুলনায় এখন তিনি সন্তানদের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে অনেক বেশি ধৈর্যশীল অভিভাবক হয়ে উঠতে পেরেছেন। উল্লেখ্য, ‘বয়েজ ডোন্ট ক্রাই’ এবং ‘মিলিয়ন ডলার বেবি’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি দুইবার অস্কার পুরস্কার লাভ করেন।

advertisement
advertisement

বাবুডাইং আলোর পাঠশালার স্কাউট কার্যক্রম ঘুরে দেখলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধিরা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাবুডাইং আলোর পাঠশালার স্কাউট কার্যক্রম ঘুরে দেখলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রতিনিধিরা

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে বাবুডাইং আলোর পাঠশালার স্কাউট কার্যক্রম পরিদর্শনে বাংলাদেশ স্কাউটস কর্মকর্তারা।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত বাবুডাইং আলোর পাঠশালার স্কাউট ও কাব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন বাংলাদেশ স্কাউটসের একটি প্রতিনিধিদল। গত মঙ্গলবার দুপুরে অতিথিরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা এবং ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মাধ্যমে তাঁদের বরণ করে নেওয়া হয়।

পরিদর্শন পর্ব শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ স্কাউটসের রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ের স্কাউট সদস্যদের পরিপূর্ণ পোশাক, শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীরা যাতে পিএস ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করতে পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্যাক ও ট্রুপ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক উপ-কমিশনার হেলাল উদ্দিন শেখ নাসিম, উপজেলা স্কাউটের সম্পাদক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস এবং শিক্ষক লুইশ মুর্মুসহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্কাউট কর্মকর্তাবৃন্দ। বক্তারা আলোচনায় উল্লেখ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাবুডাইং আলোর পাঠশালা স্কাউট দল উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছাড়া আগামী ৩০ অক্টোবর নাটোরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সপ্তম আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরিতে দলটির অংশ নেওয়ার কথা জেনে অতিথিরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন। সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা ও দলগত ছবি তোলার মাধ্যমে দিনব্যাপী আয়োজনের ইতি ঘটে।

বিল গেটসের মতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও টিকে থাকবে যে তিন পেশা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বিল গেটসের মতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও টিকে থাকবে যে তিন পেশা

বিল গেটস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ফলে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে। লেখালেখি ও চিত্রাঙ্কন থেকে শুরু করে কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি—নানা জটিল কাজ এখন যন্ত্রের মাধ্যমেই সম্ভব হচ্ছে। ফলে মানুষের চাকরি এআই কেড়ে নেবে কি না, এমন উদ্বেগও জোরালো হচ্ছে। তবে মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মতে, কাজের ক্ষেত্র ও ধরনে বড় পরিবর্তন এলেও মানুষের বিচারবুদ্ধি ও দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা এখনই শেষ হচ্ছে না। ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের মুম্বাইয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ আয়োজিত ‘এক্সপ্রেস আড্ডা’ অনুষ্ঠানে তিনি এমন তিনটি পেশার কথা তুলে ধরেন, যা এআই সহজে দখল করতে পারবে না। ক্ষেত্রগুলো হলো—সফটওয়্যার ডেভেলপার, জীববিজ্ঞানী ও জ্বালানিবিশেষজ্ঞ। তাঁর মতে, জটিল সমস্যার সমাধান, নতুন উদ্ভাবন এবং গভীরভাবে চিন্তা করে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্যের কারণেই এসব খাতে মানুষের প্রাধান্য বজায় থাকবে।

সফটওয়্যার নির্মাতাদের প্রসঙ্গে গেটস জানান, এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত কোড লেখা বা ভুল শনাক্ত করা সম্ভব হলেও এই পেশায় মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য থাকবে। কারণ কোনো সফটওয়্যার তৈরির ক্ষেত্রে কেবল কোড লেখাই শেষ কথা নয়; উদ্ভূত সমস্যার ধরন বোঝা, উপযুক্ত সমাধান নির্ধারণ এবং বিভিন্ন অংশের সঠিক সমন্বয় ঘটানোর মতো বিষয়ে মানুষের তদারকি ও বুদ্ধিমত্তা জরুরি। পাশাপাশি স্বয়ং এআই প্রযুক্তির রূপরেখা তৈরি ও বিকাশেও ডেভেলপারদের ওপরই নির্ভর করতে হয়। ফলে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের পরিকল্পনার জায়গাটি রয়েই যাবে।

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে জীববিজ্ঞানের কথা বলেছেন গেটস। নতুন ওষুধ আবিষ্কার, রোগ শনাক্তকরণ বা ডিএনএ বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীদের বিপুল তথ্য যাচাইয়ে এআই সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু সম্পূর্ণ অজানা কোনো রোগের উৎস অনুসন্ধান কিংবা মৌলিক বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্তের জন্য নিছক ডেটা পর্যালোচনাই যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন অনুসন্ধিৎসু প্রশ্ন তোলা, গবেষণার নকশা প্রণয়ন এবং ফলাফলের সৃজনশীল মূল্যায়ন। গেটসের ধারণা, গবেষণার এই উদ্ভাবনী ও চিন্তাশীল দিকটি এআই এখনো পুরোপুরি রপ্ত করতে পারেনি। ফলে জীববিজ্ঞানে এআই সহায়ক হিসেবে কাজ করলেও বিশেষজ্ঞদের স্থান পুরোদমে নেওয়া সম্ভব নয়।

তৃতীয়ত, জ্বালানি খাতের ওপর জোর দিয়েছেন গেটস। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ থেকে শুরু করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রচলিত ও বিকল্প জ্বালানির সমন্বয়ের পেছনে রয়েছে জটিল ব্যবস্থাপনা। কোনো দেশের সামগ্রিক জ্বালানিকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে কেবল হিসাব-নিকাশ করলেই চলে না; প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আকস্মিক বিপর্যয়ের সময় তড়িৎ ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এ ধরনের নিরাপত্তামূলক ও কৌশলগত কারণে এই খাতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত থাকবে। তবে গেটস সতর্ক করে দিয়েছেন, তাঁর এই মন্তব্যের অর্থ এই নয় যে বাকি সব পেশা বিলুপ্ত হয়ে যাবে কিংবা উল্লেখিত তিনটি পেশার রূপান্তর ঘটবে না। বরং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এআইয়ের সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের কোন দক্ষতাগুলো দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর থাকবে, তা-ই তিনি তুলে ধরেছেন।

ঢাকার দুই জায়গায় গদি-ঘাট- আড়তে পাপেল চক্রের চাঁদাবাজি, মাসে আদায় হয় ‘কোটি টাকার’ বেশি পাপেলের নেতৃত্বে লেলিন, হানিফ ও শুভ্রের বিরুদ্ধে চক্র গড়ার অভিযোগ; গদি, ঘাট, আড়ত ও পরিবহনে টাকা আদায়।

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ঢাকার দুই জায়গায় গদি-ঘাট- আড়তে পাপেল চক্রের চাঁদাবাজি, মাসে আদায় হয় ‘কোটি টাকার’ বেশি পাপেলের নেতৃত্বে লেলিন, হানিফ ও শুভ্রের বিরুদ্ধে চক্র গড়ার অভিযোগ; গদি, ঘাট, আড়ত ও পরিবহনে টাকা আদায়।

রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, ঘাট, আড়ত, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, এসবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।

রাজধানীর গাবতলী-সদরঘাট বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে সারি সারি ইট, বালু ও পাথরের গদি। এসব গদি বা আড়ত চালাতে প্রতিটিকে মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। সেখানে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাককে চাঁদা দিতে হয় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা করে। নদীপথেও রেহাই নেই—চলন্ত নৌযানের কাছে ট্রলার নিয়ে গিয়ে টাকা তোলা হয়।

রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, ঘাট, আড়ত, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, এসবের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন যুবদলের সাবেক নেতা মোস্তফা জগলুল পাশা ওরফে পাপেল ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করলে, শুধু গদি, পণ্যবাহী ট্রাক ও গাবতলী পশুর হাটের সামনের দোকান থেকে মাসে আদায় হয় প্রায় সাড়ে ৩৫ লাখ টাকা। শাহ আলী মাজারের আড়ত কমপ্লেক্স ও বাইরের জায়গা থেকে ওঠে আরও ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর বাইরে নৌপথে শুল্কের নামে এবং বাস টার্মিনাল ও অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড ঘিরেও টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর গাবতলী ও মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় গদি, ঘাট, আড়ত, পরিবহন ও দোকান ঘিরে মাসে এক কোটি টাকার বেশি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব পাপেলের এই চক্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছেন শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া ও হাফিজুল হাসান ওরফে শুভ্র। তাঁদের অনুসারীদের মাধ্যমে পশুর হাট, কাঁচাবাজার, ঘাট, গদি ও পরিবহন স্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং চাঁদা আদায় করা হয়।

গত মাসে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটেও এই চারজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হানিফ। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে শুভ্রকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, কোনো কমিটিতে না থাকায় পাপেল ও লেলিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে পুলিশ তাঁদের খুঁজছে।

শুভ্রর দাবি, তিনি ব্যবসা করেন; দখল বা চাঁদাবাজিতে যুক্ত নন। রাড্ডার ঘটনায় তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ভুল হয়েছে বলে তিনি দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাপেল, লেলিন ও হানিফের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপেও প্রথম দুজনকে পাওয়া যায়নি; হানিফ ফোন ধরেননি। পুলিশ বলছে, তাঁরা পলাতক, গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শ্যামলের হয়ে গদিঘরগুলো থেকে টাকা তোলার কাজটি করেন কোটবাড়ী ইউনিট আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ইসমাইল মোল্লা ও আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালেক।
গদি, ট্রাক ও দোকান থেকে মাসে ৩৫ লাখ টাকা

গাবতলী থেকে কল্যাণপুর পানির পাম্প বা স্লুইসগেট পর্যন্ত সোয়া কিলোমিটার  বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশে শতাধিক অবৈধ গদি রয়েছে বলে গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি জানিয়েছে। এগুলো ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইট-বালুর পাঁচ ব্যবসায়ী ও তিন কর্মচারী জানান, ওই এলাকায় শতাধিক গদিঘর রয়েছে। গদিপ্রতি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এই হিসাবে মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা আদায় হয় সেখান থেকে।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, টাকা আদায়ের এই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেন দারুস সালাম  থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শ্যামল আহমেদ ওরফে রাসেল।  তিনি পাপেল চক্রের সঙ্গে সমঝোতা করেই এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। 

মিরপুরে মিলেমিশে চাঁদাবাজি, তালিকায় নাম যেসব নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার ০৬ মে ২০২৬

শ্যামলের হয়ে গদিঘরগুলো থেকে টাকা তোলার কাজটি করেন কোটবাড়ী ইউনিট আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ইসমাইল  মোল্লা ও আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সহসভাপতি মোহাম্মদ সালেক। তবে শ্যামল আহমেদ প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি কোনো দখল বা চাঁদাবাজিতে  যুক্ত নন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করছেন, তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

সেখানকার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও গদিগুলো থেকে চাঁদা তোলার কাজটি করতেন এই ইসমাইল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাঁর ভাই আইয়ুব আলী দারুস সালাম থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ফলে ইসমাইলের প্রভাবও বহাল রয়েছে।

ইসমাইল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তিনি ছোটবেলা থেকে ইট-বালুর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।  কোনো চাঁদাবাজিতে জড়িত নন। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতেন, তবে কোনো পদে নেই।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শ্যামল আহমেদের কর্মী কমল, মাহফুজ, শফিক ও আজহারুল এবং আরও চার-পাঁচজন ট্রাক থেকে টাকা তোলেন। দৈনিক অন্তত ১৫০ ট্রাকে  মালামাল আসে। গড়ে ৩০০ টাকা হিসাবে মাসে এই খাত থেকে চাঁদা আদায় হয় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। এর বাইরে ডিএনসিসি ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জমিতে  প্রায় ৩০০ প্লট রয়েছে, সেখানে গদিঘর রয়েছে। গাবতলী ইট, পাথর, বালু আড়তদার ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির নেতারা জানান, বিআইডব্লিউটিএ প্রতি দেড় হাজার বর্গফুটের জন্য বছরে ২০ হাজার টাকা শুল্ক নেয়। ডিএনসিসির প্লটের ইজারা চেয়ে আবেদন হলেও সমাধান হয়নি।

ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান প্রথম আলোকে বলেন, গাবতলীতে করপোরেশনের  জমিতে অবৈধ ইট-বালুর ব্যবসার বিষয়ে দুই মাস আগে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কারা ব্যবসা করছেন, কত দোকান ও কী কার্যক্রম চলছে, তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এদিকে ইট-বালু ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, অবৈধ গদির পাশাপাশি ওই ৩০০ প্লটের গদিতে পণ্য আনা ট্রাক থেকেও টাকা তোলা হয়। ছয় চাকার ট্রাক থেকে ২৫০ এবং ১০ চাকার ট্রাক থেকে ৩৫০ টাকা নেওয়া হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সাবেক ছাত্রদল নেতা শ্যামল আহমেদের কর্মী কমল, মাহফুজ, শফিক ও আজহারুল এবং আরও চার-পাঁচজন ট্রাক থেকে টাকা তোলেন। দৈনিক অন্তত ১৫০ ট্রাকে মালামাল আসে। গড়ে ৩০০ টাকা হিসাবে মাসে এই খাত থেকে চাঁদা আদায় হয় প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।

ওরা চাঁদা তোলে, অন্যরা প্রশ্রয় দেয় ০৭ মে ২০২৬

ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারী চার কর্মীর একজন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ‘ইজারাদার মালিকের’ হয়ে টাকা তোলেন। মালিক কারা, জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘অনেকেই আছে। শ্যামল আহমেদ  রাসেল আছে, ইসমাইল আছে; আরও অনেকে আছে সবাইকে চিনিও না।’

একই এলাকায় অবস্থিত গাবতলী পশুর হাট। হাটের সামনের অর্ধশতাধিক অবৈধ দোকান রয়েছে।কানগুলো থেকে মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এখান থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করে একই চক্র।

ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়কারী চার কর্মীর একজন প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা ‘ইজারাদার মালিকের’ হয়ে টাকা তোলেন।মালিক কারা, জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘অনেকেই আছে। শ্যামল  আহমেদ রাসেল আছে, ইসমাইল আছে; আরও অনেকে আছে সবাইকে চিনিও না।’