খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

মরুর বেদুইন থেকে চার দশকের অধিপতি: নর্দমার পাইপে যেভাবে রচিত হয়েছিল গাদ্দাফির অন্তিম পরিণতি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মরুর বেদুইন থেকে চার দশকের অধিপতি: নর্দমার পাইপে যেভাবে রচিত হয়েছিল গাদ্দাফির অন্তিম পরিণতি

মুয়াম্মার গাদ্দাফি

টানা চার দশকের বেশি সময় ধরে দোর্দণ্ড প্রতাপে লিবিয়া শাসন করেছিলেন তিনি। তবে ৪২ বছরের সেই দীর্ঘ আধিপত্যের সমাপ্তি ঘটেছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নারকীয়ভাবে। জীবনের অন্তিম মুহূর্তে রাস্তার পাশের একটি সংকীর্ণ নর্দমার পাইপে আশ্রয় নিয়েও রেহাই পাননি তিনি; সেখান থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে গুলি চালিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা হয় তাঁর দেহ। আফ্রিকান রাষ্ট্র লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফির জীবনের শেষ প্রহরগুলোতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা আজও এক বড় রহস্য। নিপীড়িত ফিলিস্তিনিদের কট্টর সমর্থক এবং আফ্রিকান ঐক্যের উদ্যোক্তা হিসেবে আরব ও আফ্রিকা অঞ্চলে তুমুল জনপ্রিয় হলেও পশ্চিমা বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন দীর্ঘদিনের এক চক্ষুশূল। চূড়ান্ত পর্যায়ে সেই পশ্চিমা শক্তির সহযোগিতাতেই ক্ষমতার মসনদচ্যুত হন তিনি এবং তাদের মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের হাতেই প্রাণ হারাতে হয় তাঁকে। ঠিক ১৫ বছর আগে ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর এই দিনে মৃত্যু হয় আলোচিত এই শাসকের।

গাদ্দাফির এই উত্থান-পতনের ইতিহাস জানতে ফিরে যেতে হবে ১৯৪২ সালে। তৎকালীন ইতালীয় উপনিবেশে থাকা লিবিয়ার সিরতে অঞ্চলের এক সাধারণ বেদুইন পরিবারে জন্ম নেন তিনি। মরুভূমির সাদামাটা পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই তরুণ অল্প বয়সেই আরব জাতীয়তাবাদের আদর্শে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হন। বিশেষ করে মিসরের নেতা জামাল আবদেল নাসেরের পশ্চিমা প্রভাবমুক্তি, আরব সংহতি ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর চিন্তাধারায় স্থায়ী প্রভাব ফেলে। পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে একদল তরুণ অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে রাজতন্ত্র উৎখাতের এক গোপন ছক আঁকেন তিনি। সেই সুযোগ বাস্তবে রূপ নেয় ১৯৬৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর। তৎকালীন বাদশাহ সাইয়্যিদ মুহাম্মদ ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ আল মাহদি চিকিৎসার প্রয়োজনে তুরস্কে অবস্থান করছিলেন এবং অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন যুবরাজ সাইদ হাসান-উর-রিদা আল-মাহদি। সেই সুযোগে যুবরাজকে গৃহবন্দী করে মাত্র ২৭ বছর বয়সে রক্তপাতহীন এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন গাদ্দাফি। অভ্যুত্থানের পর ক্যাপ্টেন থেকে তিনি নিজের পদবি নির্ধারণ করেন কর্নেল। দায়িত্ব নিয়েই তিনি দেশে থাকা যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি উচ্ছেদ করেন, জাতীয় তেলসম্পদের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেন এবং পশ্চিমা তেল কোম্পানিগুলো থেকে বর্ধিত রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করে গোটা আরব বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

গাদ্দাফির কার্যকালে লিবিয়া অর্থনৈতিকভাবে তেলসমৃদ্ধ একটি প্রভাবশালী দেশে রূপ নেয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কারিগরি ও সামরিক সাহায্যে সুসজ্জিত প্রায় ৫০ হাজার সেনাসদস্য দিয়ে দেশের ১১টি সীমান্ত এলাকাকে ৪টি অঞ্চলে ভাগ করে কঠোর নজরদারিতে রেখেছিলেন তিনি। ওই সময়ে দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকায় আফ্রিকা ও এশিয়ার বহু দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য লিবিয়া ছিল একটি আকর্ষণীয় ও লাভজনক কর্মক্ষেত্র। রাষ্ট্র পরিচালনার তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি তিন খণ্ডে ‘দ্য গ্রিন বুক’ বা ‘সবুজ বই’ প্রকাশ করেন। এতে তিনি পশ্চিমা ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্র, মুক্তবাজার পুঁজিবাদ এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন ঘরানার কমিউনিজমের তীব্র সমালোচনা করে আরব জাতীয়তাবাদ, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি ও ইসলামি অনুশাসনের সমন্বয়ে ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক তত্ত্ব’ তুলে ধরেন। জনগণের প্রত্যক্ষ শাসিত রাষ্ট্রের ধারণায় দেশের নতুন নামকরণ করা হয় ‘গ্রেট সোশ্যালিস্ট পিপলস লিবিয়ান আরব জামাহিরিয়া’। যদিও বাস্তবে ক্ষমতার যাবতীয় নিয়ন্ত্রণ ছিল গাদ্দাফি ও তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলের হাতে। চার দশকের শাসনামলে ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নিপীড়নের পাশাপাশি রাজধানী ত্রিপোলির রাজপ্রাসাদে শত শত নারীকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে গাদ্দাফির আচার-আচরণ ও জীবনযাপনে ছিল নানা চমকপ্রদ দিক। বিদেশি সফরে গিয়ে অভিজাত হোটেলের পরিবর্তে নিজের ঐতিহ্যবাহী বেদুইন তাঁবুতে রাত্রিযাপন করা ছিল তাঁর অন্যতম পছন্দ, যেমনটি দেখা গিয়েছিল ২০০৪ সালের বেলজিয়াম সফরে। প্রথাগত স্যুট-টাই বর্জন করে তিনি জনসমক্ষে হাজির হতেন বিশেষ নকশার সামরিক কিংবা উজ্জ্বল আফ্রিকান পোশাকে এবং চোখে থাকত রোদচশমা। তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকত ‘অ্যামাজোনিয়ান গার্ড’ নামে পরিচিত সশস্ত্র নারী দেহরক্ষী দল। আফ্রিকা মহাদেশকে একতাবদ্ধ করার প্রবল উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে ২০০০-এর দশকে তিনি আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় জোরালো ভূমিকা পালন করেন এবং সংস্থাটির মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ একাই বহন করত লিবিয়া। ফলস্বরূপ, ইথিওপিয়ায় আফ্রিকান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার প্রাক্কালে ২০০৮ সালে দুই শতাধিক আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী রাজা ও আদিবাসী নেতা তাঁকে ‘আফ্রিকার রাজাদের রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে আশির দশকে গাদ্দাফির সম্পর্ক পৌঁছায় চরম তিক্ততায়। ফিলিস্তিন মুক্তির লড়াইয়ে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাঁকে ‘মধ্যপ্রাচ্যের পাগলা কুকুর’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। এরপর ১৯৮২ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং তেল খাতে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সরবরাহ আটকে দেয়। পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয় ১৯৮৮ সালে, যখন স্কটল্যান্ডের লকার্বির আকাশে একটি যাত্রীবাহী বিমান বোমা হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে ২৭০ জন আরোহী নিহত হন। আন্তর্জাতিক তদন্তে এ ঘটনায় গাদ্দাফি প্রশাসনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় দেশটির ওপর জাতিসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে তীব্র বৈশ্বিক চাপের মুখে লিবিয়া ওই ধ্বংসযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার করে হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে রাজি হয়। একই বছরে গাদ্দাফি নিজের গণবিধ্বংসী অস্ত্র তৈরির সমস্ত কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দিলে জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয় এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রনায়কদের সঙ্গে গাদ্দাফির কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তবে ২০১১ সালের শুরুর দিকে ছড়িয়ে পড়া ‘আরব বসন্তের’ উত্তাল ঢেউ বদলে দেয় লিবিয়ার ভাগ্যরেখা। তিউনিসিয়ায় জাইন আল-আবিদিন বেন আলী এবং মিসরে হোসনি মোবারকের পতনের পরপরই লিবিয়ার বেনগাজি শহর থেকে গাদ্দাফিবিরোধী তীব্র গণবিক্ষোভ শুরু হয়। এই অভ্যুত্থান রোধে গাদ্দাফি ভারী গোলাবারুদ ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে কঠোর দমননীতি বেছে নেন। সংঘাত গৃহযুদ্ধে রূপ নিলে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর প্রত্যক্ষ বিমান সহায়তায় গাদ্দাফিবিরোধী অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিল (এনটিসি) দেশজুড়ে সামরিক আক্রমণ জোরদার করে। ২০১১ সালের আগস্ট মাসে বিদ্রোহী যোদ্ধারা ত্রিপোলিতে প্রবেশ করে এবং ২৩ আগস্ট তারা গাদ্দাফির প্রধান প্রশাসনিক ঘাঁটি আল-আজিজিয়া কম্পাউন্ড নিজেদের কব্জায় নেয়। ত্রিপোলির পতনের পর গাদ্দাফির অনুগত বাহিনী তাঁর জন্মশহর সিরতে গিয়ে শেষ প্রতিরোধ ব্যূহ গড়ে তোলে।

সিরতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার পর ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর ভোরে একটি শক্তিশালী গাড়ি বহর নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছিলেন গাদ্দাফি ও তাঁর সহচরেরা। কিন্তু ন্যাটো বাহিনীর আকস্মিক বিমান হামলায় গাড়িগুলো ধ্বংস হয়ে যায় এবং বহরের বহু সহযোগী প্রাণ হারান। কোনোমতে বেঁচে যাওয়া গাদ্দাফি ও তাঁর কয়েক সঙ্গী সড়কের পাশের একটি নালা বা নর্দমার পাইপে গা ঢাকা দেন। কিন্তু অচিরেই বিদ্রোহী যোদ্ধারা তাঁকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে পাইপ থেকে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসে। আহত গাদ্দাফিকে প্রহার ও অপদস্থ করার একাধিক ভিডিও সে সময় মুঠোফোনে ধারণ করা হয়, যা দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এনটিসি প্রধান মাহমুদ জিবরিল তখন দাবি করেছিলেন, ক্রসফায়ারে পড়ে গাদ্দাফি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) বিস্তারিত তদন্তে বেরিয়ে আসে, পাইপ থেকে জীবিত উদ্ধারের সময় গাদ্দাফির মাথায় কোনো প্রাণঘাতী জখম ছিল না; বরং আটকাবস্থায় অমানুষিক নির্যাতনের পর তাঁকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। একই দিনে আটকাবস্থায় প্রাণ হারান তাঁর ছেলে মুয়াতাসিম গাদ্দাফিও। পরে নিহত গাদ্দাফির মরদেহ মিসরাতা শহরের একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রের শীতলীকরণ কক্ষে সাধারণ জনতার প্রদর্শনের জন্য কয়েক দিন রাখা হয়েছিল।

গাদ্দাফির মৃত্যুর পর সে সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মন্তব্য করেছিলেন, লিবিয়ার জনগণ নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ পেলেও গণতন্ত্র পুনর্গঠনের পথ হবে অত্যন্ত কণ্টকাকীর্ণ। বাস্তবেও দেখা গেছে, গাদ্দাফির অবসানের দেড় দশক পরও উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে শান্তি ফেরেনি। বর্তমানে দেশটি দুটি বিবদমান প্রশাসনিক ধারায় দ্বিখণ্ডিত—পশ্চিমাঞ্চল শাসিত হচ্ছে ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের অধীনে এবং পূর্বাঞ্চল রয়েছে সেনাপতি খলিফা হাফতারের প্রভাবাধীন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। ২০২০ সালে বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিভিন্ন আঞ্চলিক সশস্ত্র মিলিশিয়াদের কর্তৃত্ব এখনো অটুট রয়েছে। সংকট নিরসনে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে একটি বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়। ২০১১ সালের পটপরিবর্তনের ঠিক দুই বছর পর ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটের এক জনমত সমীক্ষায় প্রকাশ পায়, মাত্র ৩২ শতাংশ লিবীয় বিশ্বাস করেন বিপ্লব-পরবর্তী দেশ আগের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে। কয়েক বছর আগে লিবিয়ার শিক্ষাবিদ মুস্তফা ফেতোউরি ইউরোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানান, সাবেক শাসক গাদ্দাফির জমানার সঙ্গে মেলালে আজকের লিবিয়ায় সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কোনো অস্তিত্বই নেই।

advertisement
advertisement

লাল বেনারসির সঙ্গে আধুনিক ড্রেপিং, মণ্ডপ তৈরির আবহেই নজর কাড়লেন জয়া আহসান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লাল বেনারসির সঙ্গে আধুনিক ড্রেপিং, মণ্ডপ তৈরির আবহেই নজর কাড়লেন জয়া আহসান

প্যান্ডেল তৈরির ব্যস্ততার মাঝে জয়ার টকটকে লাল শাড়ি সহজেই নজর কাড়ে। উৎসবের আবহে রঙের উজ্জ্বলতা যেন বাড়িয়ে দিয়েছে ছবির আবেদন।

পূজামণ্ডপ তৈরির পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে; বাঁশের কাঠামো, কাঠের গুঁড়ো আর কারিগরদের কর্মযজ্ঞের মাঝেই ভিন্ন আমেজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। সোনালি জরির নকশাদার উজ্জ্বল লাল বেনারসি আর আধুনিক ড্রেপিংয়ের মেলবন্ধনে তাঁর সাজে ফুটে উঠেছে আভিজাত্য ও নতুনত্বের ছোঁয়া। পরিমিত গয়না, স্নিগ্ধ মেকআপ এবং নিউট্রাল ফুটওয়্যারের সুষম ব্যবহারে তৈরি তাঁর এই উপস্থিতি উৎসবের সাজের ক্ষেত্রে দারুণ এক অনুপ্রেরণা হতে পারে।

মণ্ডপ নির্মাণের ব্যস্ত পটভূমিতে জয়ার টকটকে লাল রঙের পোশাকটি সহজেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। লহরিয়া ধাঁচের কোনাকুনি সোনালি ডোরা ও ক্ষুদ্র জরির কারুকাজে সাজানো শাড়িটি তৈরি হালকা ও কিছুটা স্বচ্ছ কাপড়ে। এতে ছিল সরু পাড় এবং আঁচলে ঝুলন্ত ছোট ছোট ঝালর। শাড়ির ভাঁজ বুক বরাবর জড়িয়ে এক কাঁধ খোলা বা স্ট্র্যাপলেস আদলে পরায় সনাতনী সাজেও যুক্ত হয়েছে আধুনিক রুচি। একই সঙ্গে রঙের সামঞ্জস্য রেখে শাড়ির নিচে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মানানসই লাল রঙের টাইট-ফিট পায়জামা।

অতিরিক্ত গয়না এড়িয়ে জয়া কেবল গলায় পরেছেন মন্দিরের গয়নার আদলে তৈরি ভারী সোনালি নকশার একটি চোকার, যা অলংকরণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। চুলে ছিল বিনুনি দিয়ে নিচু করে বাঁধা খোঁপা এবং কপালের দুই পাশে আলতো করে ছেড়ে রাখা চুলের গোছা। ত্বকের সতেজ উজ্জ্বলতার পাশাপাশি চোখের গাঢ় কাজল ও স্মোকি সাজের সঙ্গে ঠোঁটে রাখা হয় কোরাল-নুড রঙের আভা। অন্যদিকে পায়ে কর্ক উপাদানে তৈরি ক্যামেল রঙের প্ল্যাটফর্ম স্যান্ডেল লাল ও সোনালির মিশ্রণের বিপরীতে দারুণ সামঞ্জস্য তৈরি করেছে। জয়ার এই রূপ থেকে মূলত তিনটি ফ্যাশন অনুষঙ্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে—উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, একটি নজরকাড়া গয়না এবং ভারসাম্যপূর্ণ স্নিগ্ধ মেকআপ।

সরকারই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সরকারই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে

সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদের কোটি কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে বিরোধী দল দাবি জানালে অন্য খাত থেকে নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। শিশুদের কান্না থামাতে চকলেট দেওয়ার মতো বিরোধী দলকে চকলেট দিয়ে ভুলিয়ে রেখে সরকারি দল নিজেরা বিরিয়ানি খাচ্ছে।

বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্র, সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে একাকার করে ফেলছে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের বিভিন্ন অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেই সেটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ বা রাষ্ট্রের বিরোধিতা হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। নিজেদের একদলীয় আধিপত্য বজায় রেখে সরকার কার্যত ফ্যাসিবাদের পুনরাগমনের ক্ষেত্র তৈরি করে দিচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অনিয়ম ও চরম দুর্নীতি আড়াল করতে সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে সব দোষ বিরোধী শিবিরের ওপর চাপানোর চক্রান্ত করছে। বিরোধীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে অবহেলা করে যে অস্থিরতার সৃষ্টি করা হচ্ছে, মূলত সেই পথ ধরেই সরকার সচেতনভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ঢোকার সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়া গত কয়েক মাসে সরকারের তিনজন মন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্য বিদায় নেওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের দোলাচল ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দল জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ হাস্যকর আখ্যা দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নিজের দুর্বলতা ঢাকতে মানুষ এমন অবান্তর কথা বলে। জামায়াতসহ ১১টি দল জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বলেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। বরং বিএনপি গণভোট অস্বীকার করায় তারাই জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে বিরোধীদলীয় নেতার না যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্ড পাঠিয়ে নিমন্ত্রণ জানানো হলেও সেই কার্ড কিংবা অতিথি তালিকার কোথাও তাঁর নাম ছিল না। তিনি কি সেখানে সাধারণ দর্শকের সারিতে গিয়ে বসবেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দল সহায়তা করছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন মন্তব্যের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কারে বিরোধী দলের আলাদা সহায়তার প্রয়োজন নেই, কারণ দেশের জনগণ ইতিমধ্যে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে জুলাই সনদ অনুমোদন করে দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকর করতে বিরোধী দল পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একদলীয় কোনো কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করার অপচেষ্টায় বিরোধী দল কখনো অংশ নেবে না।

গত রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে দেখেই ফ্যাসিবাদের স্বরূপ চিনেছে। মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে রিজভী সাহেব ফ্যাসিবাদের চরিত্র ভুলে গেছেন। ফ্যাসিবাদের প্রকৃত রূপ জানতে হলে তাঁকে নিজের দলের কর্মীদের কাছে যেতে হবে, কর্মীরাই ফ্যাসিবাদের কাজ সম্পর্কে বলতে পারবে। চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন, ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যা এবং ক্ষমতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করাই ফ্যাসিবাদের লক্ষণ, আর বিএনপি বর্তমানে সেই পথেই হাঁটছে। এছাড়া ১৯৯৪-৯৫ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াত কখনো আওয়ামী লীগের সাথে জোট গঠন করেনি। তৎকালীন সময়ে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা অস্বীকার করায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী লিয়াজোঁ কমিটির যুগপৎ কর্মসূচিতে জামায়াত শরিক ছিল। তখনকার বিএনপির গণবিরোধী ভূমিকার কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল, জামায়াত তাদের ক্ষমতায় আনেনি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার মাহফিলে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ঠেকাতে না পেরে প্রশাসন তা বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকারকে এ পথ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপিও চাইলে ওয়াজ ও কোরআনের তাফসির মাহফিলের আয়োজন করে দেখতে পারে কার মাহফিলে কত মানুষের সমাগম ঘটে। পাশাপাশি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার সব গভর্নিং বডি ও পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাদ দিয়ে দলীয় মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে সরকার হাজার হাজার মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা করছে।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার এটিকে চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার থাকা সত্ত্বেও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে তা সরকারের নজরে আসেনি এবং দূতাবাসও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর সরকারের টনক নড়েছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মণিপুরে পৃথক দুই হামলায় চারজনের মৃত্যু, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মণিপুরে পৃথক দুই হামলায় চারজনের মৃত্যু, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মণিপুর রাজ্যে সংগীত অনুষ্ঠান ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি ও দোকানে আগুন দেওয়া হয়। ভারতীয় রেড ক্রসের কর্মীরা রাজ্যের চিরাপুরে সেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। ১৯ অক্টোবর ২০২৬, থাওবল

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় ফের চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত পৃথক দুটি রক্তক্ষয়ী ঘটনায় ন্যূনতম চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় এবং রাজধানী ইম্ফলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

সহিংসতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি অঞ্চলে। সেখানে চলা একটি সংগীতানুষ্ঠানে হঠাৎ করেই শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ। এতে বেশ কয়েকজন জখম হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। সংগীতানুষ্ঠানের ওই ঘটনায় যুবকের মৃত্যুর জেরে দোষীদের শাস্তির দাবিতে থাওবলে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এনএইচ-২ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

এদিকে দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার অন্তর্গত খামেনলক এলাকায়। পাহাড়ি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া একদল গ্রামবাসীর ওপর আচমকা গুলি চালায় সন্দেহভাজন আদিবাসী উগ্রপন্থীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তিন গ্রামবাসীর প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন আরও তিনজন।

বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। নিহতদের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষিত সরকারি বাসভবনের সামনে পৌঁছে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভিড় হটাতে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সহিংসতার খবর পেয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী ইমুনাম খেমচান্দ সিং। অন্যদিকে স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশ্বর সিং এই বর্বর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল থেকে একটি ক্যাম্প অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী জাতিগত দাঙ্গা শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রাণ গেছে এবং গৃহহীন হয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। নতুন করে ঘটা এই প্রাণহানি দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই স্থায়ী শান্তি ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের বাসিন্দারা।