খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সরকারই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সরকারই পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে

সরকারি দল ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টনে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদের কোটি কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে বিরোধী দল দাবি জানালে অন্য খাত থেকে নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। শিশুদের কান্না থামাতে চকলেট দেওয়ার মতো বিরোধী দলকে চকলেট দিয়ে ভুলিয়ে রেখে সরকারি দল নিজেরা বিরিয়ানি খাচ্ছে।

বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্র, সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে একাকার করে ফেলছে উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারের বিভিন্ন অন্যায় ও অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বললেই সেটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ বা রাষ্ট্রের বিরোধিতা হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে। নিজেদের একদলীয় আধিপত্য বজায় রেখে সরকার কার্যত ফ্যাসিবাদের পুনরাগমনের ক্ষেত্র তৈরি করে দিচ্ছে। নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা, অনিয়ম ও চরম দুর্নীতি আড়াল করতে সরকার জুজুর ভয় দেখিয়ে সব দোষ বিরোধী শিবিরের ওপর চাপানোর চক্রান্ত করছে। বিরোধীদের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে অবহেলা করে যে অস্থিরতার সৃষ্টি করা হচ্ছে, মূলত সেই পথ ধরেই সরকার সচেতনভাবে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ঢোকার সুযোগ করে দিচ্ছে। এছাড়া গত কয়েক মাসে সরকারের তিনজন মন্ত্রী ও একজন সংসদ সদস্য বিদায় নেওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে এক ধরনের দোলাচল ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দল জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন বক্তব্যকে সম্পূর্ণ হাস্যকর আখ্যা দিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নিজের দুর্বলতা ঢাকতে মানুষ এমন অবান্তর কথা বলে। জামায়াতসহ ১১টি দল জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বলেই জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। বরং বিএনপি গণভোট অস্বীকার করায় তারাই জুলাইয়ের চেতনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনে বিরোধীদলীয় নেতার না যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতাকে কার্ড পাঠিয়ে নিমন্ত্রণ জানানো হলেও সেই কার্ড কিংবা অতিথি তালিকার কোথাও তাঁর নাম ছিল না। তিনি কি সেখানে সাধারণ দর্শকের সারিতে গিয়ে বসবেন—এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সংবিধান সংশোধনে বিরোধী দল সহায়তা করছে না—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন মন্তব্যের জবাবে জামায়াত নেতা বলেন, সংবিধান সংস্কারে বিরোধী দলের আলাদা সহায়তার প্রয়োজন নেই, কারণ দেশের জনগণ ইতিমধ্যে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে জুলাই সনদ অনুমোদন করে দিয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকর করতে বিরোধী দল পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে একদলীয় কোনো কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করার অপচেষ্টায় বিরোধী দল কখনো অংশ নেবে না।

গত রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দেওয়া এক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে দেখেই ফ্যাসিবাদের স্বরূপ চিনেছে। মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে রিজভী সাহেব ফ্যাসিবাদের চরিত্র ভুলে গেছেন। ফ্যাসিবাদের প্রকৃত রূপ জানতে হলে তাঁকে নিজের দলের কর্মীদের কাছে যেতে হবে, কর্মীরাই ফ্যাসিবাদের কাজ সম্পর্কে বলতে পারবে। চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন, ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যা এবং ক্ষমতার জোরে গণরায় উপেক্ষা করাই ফ্যাসিবাদের লক্ষণ, আর বিএনপি বর্তমানে সেই পথেই হাঁটছে। এছাড়া ১৯৯৪-৯৫ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আন্দোলনের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, জামায়াত কখনো আওয়ামী লীগের সাথে জোট গঠন করেনি। তৎকালীন সময়ে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা অস্বীকার করায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বাম দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিরোধী লিয়াজোঁ কমিটির যুগপৎ কর্মসূচিতে জামায়াত শরিক ছিল। তখনকার বিএনপির গণবিরোধী ভূমিকার কারণেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পেরেছিল, জামায়াত তাদের ক্ষমতায় আনেনি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আমির হামজার মাহফিলে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতি ঠেকাতে না পেরে প্রশাসন তা বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকারকে এ পথ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপিও চাইলে ওয়াজ ও কোরআনের তাফসির মাহফিলের আয়োজন করে দেখতে পারে কার মাহফিলে কত মানুষের সমাগম ঘটে। পাশাপাশি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার সব গভর্নিং বডি ও পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়ার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাদ দিয়ে দলীয় মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে সরকার হাজার হাজার মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের পাঁয়তারা করছে।

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার এটিকে চরম কূটনৈতিক ব্যর্থতা বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সেখানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার থাকা সত্ত্বেও আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে তা সরকারের নজরে আসেনি এবং দূতাবাসও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর সরকারের টনক নড়েছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আবদুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

advertisement
advertisement

লাল বেনারসির সঙ্গে আধুনিক ড্রেপিং, মণ্ডপ তৈরির আবহেই নজর কাড়লেন জয়া আহসান

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
লাল বেনারসির সঙ্গে আধুনিক ড্রেপিং, মণ্ডপ তৈরির আবহেই নজর কাড়লেন জয়া আহসান

প্যান্ডেল তৈরির ব্যস্ততার মাঝে জয়ার টকটকে লাল শাড়ি সহজেই নজর কাড়ে। উৎসবের আবহে রঙের উজ্জ্বলতা যেন বাড়িয়ে দিয়েছে ছবির আবেদন।

পূজামণ্ডপ তৈরির পুরোদমে প্রস্তুতি চলছে; বাঁশের কাঠামো, কাঠের গুঁড়ো আর কারিগরদের কর্মযজ্ঞের মাঝেই ভিন্ন আমেজে ধরা দিলেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। সোনালি জরির নকশাদার উজ্জ্বল লাল বেনারসি আর আধুনিক ড্রেপিংয়ের মেলবন্ধনে তাঁর সাজে ফুটে উঠেছে আভিজাত্য ও নতুনত্বের ছোঁয়া। পরিমিত গয়না, স্নিগ্ধ মেকআপ এবং নিউট্রাল ফুটওয়্যারের সুষম ব্যবহারে তৈরি তাঁর এই উপস্থিতি উৎসবের সাজের ক্ষেত্রে দারুণ এক অনুপ্রেরণা হতে পারে।

মণ্ডপ নির্মাণের ব্যস্ত পটভূমিতে জয়ার টকটকে লাল রঙের পোশাকটি সহজেই সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। লহরিয়া ধাঁচের কোনাকুনি সোনালি ডোরা ও ক্ষুদ্র জরির কারুকাজে সাজানো শাড়িটি তৈরি হালকা ও কিছুটা স্বচ্ছ কাপড়ে। এতে ছিল সরু পাড় এবং আঁচলে ঝুলন্ত ছোট ছোট ঝালর। শাড়ির ভাঁজ বুক বরাবর জড়িয়ে এক কাঁধ খোলা বা স্ট্র্যাপলেস আদলে পরায় সনাতনী সাজেও যুক্ত হয়েছে আধুনিক রুচি। একই সঙ্গে রঙের সামঞ্জস্য রেখে শাড়ির নিচে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মানানসই লাল রঙের টাইট-ফিট পায়জামা।

অতিরিক্ত গয়না এড়িয়ে জয়া কেবল গলায় পরেছেন মন্দিরের গয়নার আদলে তৈরি ভারী সোনালি নকশার একটি চোকার, যা অলংকরণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। চুলে ছিল বিনুনি দিয়ে নিচু করে বাঁধা খোঁপা এবং কপালের দুই পাশে আলতো করে ছেড়ে রাখা চুলের গোছা। ত্বকের সতেজ উজ্জ্বলতার পাশাপাশি চোখের গাঢ় কাজল ও স্মোকি সাজের সঙ্গে ঠোঁটে রাখা হয় কোরাল-নুড রঙের আভা। অন্যদিকে পায়ে কর্ক উপাদানে তৈরি ক্যামেল রঙের প্ল্যাটফর্ম স্যান্ডেল লাল ও সোনালির মিশ্রণের বিপরীতে দারুণ সামঞ্জস্য তৈরি করেছে। জয়ার এই রূপ থেকে মূলত তিনটি ফ্যাশন অনুষঙ্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে—উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, একটি নজরকাড়া গয়না এবং ভারসাম্যপূর্ণ স্নিগ্ধ মেকআপ।

মণিপুরে পৃথক দুই হামলায় চারজনের মৃত্যু, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মণিপুরে পৃথক দুই হামলায় চারজনের মৃত্যু, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ

মণিপুর রাজ্যে সংগীত অনুষ্ঠান ঘিরে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষের পর ঘরবাড়ি ও দোকানে আগুন দেওয়া হয়। ভারতীয় রেড ক্রসের কর্মীরা রাজ্যের চিরাপুরে সেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। ১৯ অক্টোবর ২০২৬, থাওবল

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় ফের চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে সংঘটিত পৃথক দুটি রক্তক্ষয়ী ঘটনায় ন্যূনতম চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয় এবং রাজধানী ইম্ফলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

সহিংসতার প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেইতেই ও পাঙ্গাল মুসলিম অধ্যুষিত একটি অঞ্চলে। সেখানে চলা একটি সংগীতানুষ্ঠানে হঠাৎ করেই শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ। এতে বেশ কয়েকজন জখম হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু ঘটে। সংগীতানুষ্ঠানের ওই ঘটনায় যুবকের মৃত্যুর জেরে দোষীদের শাস্তির দাবিতে থাওবলে ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এনএইচ-২ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

এদিকে দ্বিতীয় হামলার ঘটনাটি ঘটে ইম্ফল পূর্ব জেলার অন্তর্গত খামেনলক এলাকায়। পাহাড়ি এলাকায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া একদল গ্রামবাসীর ওপর আচমকা গুলি চালায় সন্দেহভাজন আদিবাসী উগ্রপন্থীরা। এতে ঘটনাস্থলেই তিন গ্রামবাসীর প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন আরও তিনজন।

বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফুঁসে ওঠে সাধারণ মানুষ। নিহতদের মরদেহ সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা ইম্ফলে মুখ্যমন্ত্রীর সুরক্ষিত সরকারি বাসভবনের সামনে পৌঁছে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ভিড় হটাতে টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপের পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সহিংসতার খবর পেয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে যান মুখ্যমন্ত্রী ইমুনাম খেমচান্দ সিং। অন্যদিকে স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশ্বর সিং এই বর্বর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল থেকে একটি ক্যাম্প অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী জাতিগত দাঙ্গা শুরু হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রাণ গেছে এবং গৃহহীন হয়ে হাজার হাজার বাসিন্দা আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। নতুন করে ঘটা এই প্রাণহানি দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই স্থায়ী শান্তি ও জনগণের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের বাসিন্দারা।

ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ভবিষ্যতের টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে ময়মনসিংহের জন্য ২০৫০ সালের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের ময়মনসিংহ শহর। সম্প্রতি ড্রোন ক্যামেরায় ছবিটি তুলেছেন উবায়দুল হক।

‘হাওর, জঙ্গল, মহিষের শিং—এই তিনে মৈমিনসিং’—ব্রিটিশ আমলের সুবিশাল ময়মনসিংহের প্রাকৃতিক রূপ নিয়ে প্রচলিত এই লোকপ্রবাদ আজ আর আগের মতো প্রাসঙ্গিক নয়। কালের বিবর্তনে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরের এই ঐতিহাসিক জনপদটি এখন আর কেবল জেলা শহরের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিব্যবস্থা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তবে দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তীব্র যানজট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাশয় ভরাট এবং নাগরিক সেবার ওপর বাড়তি চাপ শহরটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সুদূরপ্রসারী ভাবনার দাবি জানাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রণীত ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’ একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা। আইনটির লক্ষ্য ময়মনসিংহের ভৌগোলিক ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করে আধুনিক, দুর্যোগসহনশীল, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনবান্ধব সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা। এ বিষয়ক অভিজ্ঞতা বা নাগরিক সংবাদ পাঠাতে পাঠকদের ns@prothomalo.com ঠিকানায় যোগাযোগ করার সুযোগও রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭২২ এবং প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনঘনত্ব প্রায় ৬ হাজার ৩১৫ জন। পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শিক্ষা, চিকিৎসাসহ নানা প্রয়োজনে মানুষের প্রতিনিয়ত আগমনের ফলে এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন রূপ পাওয়া ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) দায়িত্ব কেবল ভবনের নকশা ছাড় করাতেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মউকের চেয়ারম্যান ভবনের নকশা অনুমোদনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নির্মাণকাজ তদারকির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে সংস্থাটির জন্য নিজস্ব কার্যালয় ও পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি, কারণ বর্তমানে জেলা গণপূর্ত ভবনের একটিমাত্র কক্ষ থেকে এর প্রাথমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শহরের অন্যতম প্রধান ভোগান্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে রেকর্ড ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পর প্রধান সড়কগুলোয় হাঁটুপানি জমে যায় এবং তা নিষ্কাশন হতে প্রায় ছয় থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। এর আগে ২০২৫ সালে নগরীর বলাশপুর এলাকায় প্রায় ২ হাজার পরিবারের মৌসুমি জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তির চিত্র সামনে আসে। স্থানীয় প্রশাসনের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক, ড্রেনের অভাব এবং বর্জ্য ফেলার কারণে এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কেবল বিচ্ছিন্ন ড্রেন তৈরি না করে জলাধার সংরক্ষণ, পরিকল্পিত খাল এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পুকুর বা রিটেনশন পন্ডসহ সামগ্রিক জলপ্রবাহভিত্তিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণই এর টেকসই সমাধান হতে পারে।

পুরোনো শহরের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে ব্রহ্মপুত্র নদের অপর প্রান্তে আবাসন, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্মুক্ত খেলার মাঠ, বিনোদন পার্ক, সাইকেল লেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অবকাঠামোসমৃদ্ধ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আধুনিক উপশহর গড়ে তোলা যেতে পারে। নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্ট্রাকচার ও অ্যাকশন প্ল্যান এবং ২০১১-২০৩১ সালের স্ট্র্যাটেজিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের গবেষণা পর্যালোচনার পাশাপাশি জিআইএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৬ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নির্ধারণ করা দরকার। একই সঙ্গে পুরো নগরীকে এককেন্দ্রিক না রেখে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য কিংবা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে একটি ‘পলিসেন্ট্রিক’ বা বহুকেন্দ্রিক নগর মডেলে রূপ দেওয়া সম্ভব, যা শহরের বর্তমান মারাত্মক অটোরিকশার যানজট নিয়ন্ত্রণে আনবে।

সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শহর ও উপশহরের মধ্যে একটি ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক (আইপিটিএন) গড়ে তোলা প্রয়োজন, যার মধ্যে নির্দিষ্ট বাস রুট, বিআরটি করিডর, রেল ও নৌপথের আন্তসংযোগ এবং নির্দিষ্ট পার্কিং হাব থাকবে। কৃষিভিত্তিক অঞ্চল হওয়ায় নতুন ল্যান্ড ইউজ জোনিং ম্যাপের মাধ্যমে কৃষিজমি ও জলাভূমি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদকে ঘিরে পরিবেশ ও প্লাবনভূমি রক্ষা করে একটি সমন্বিত ‘রিভারফ্রন্ট ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান’ প্রণয়নের মাধ্যমে ‘রিভার সিটি’র ধারণা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। একই সঙ্গে আইনে উল্লিখিত দিকনির্দেশনা মেনে নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবী ও বস্তিবাসীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘মিক্সড ইনকাম হাউজিং’ বা মিশ্র আয়ের আবাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।

আধুনিক ময়মনসিংহকে সত্যিকারের স্মার্ট নগরী করতে একটি সমন্বিত আরবান ডেটা সেন্টার (ইউডিসি) থাকা প্রয়োজন, যা জিআইএসভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, প্রকৌশলী, স্থপতি, চিকিৎসক ও সমাজের নানা স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি ‘আরবান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ফোরাম’ গঠন করা যেতে পারে। বিচ্ছিন্ন প্রকল্পনির্ভরতা পরিহার করে ২০২৬-২০৫০ সালের জন্য একটি ২৫ বছর মেয়াদি রূপরেখা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এর মধ্যে ২০২৬-২০৩০ মেয়াদে তথ্য সংগ্রহ, ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান ও উপশহরের স্থান নির্ধারণ; ২০৩০-২০৪০ মেয়াদে মূল অবকাঠামো, আবাসন ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন; এবং ২০৪০-২০৫০ মেয়াদে ময়মনসিংহকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বহুকেন্দ্রিক সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা নিশ্চিত করতে হবে।