অনামিকা খান্নার বর্ণিল লেহেঙ্গায় জাহ্নবী কাপুরের আভিজাত্য, নজর কাড়ল সোনালি কোমরবন্ধ
উৎসবের মরসুমে সনাতনী ঐতিহ্য ও আধুনিক ফ্যাশনের মেলবন্ধনে এক মনোমুগ্ধকর সাজে ধরা দিলেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। খ্যাতনামা ডিজাইনার অনামিকা খান্নার নকশা করা বহুবর্ণের জমকালো লেহেঙ্গা, বৈপরীত্যপূর্ণ বেগুনি ওড়না এবং সোনালি রঙের কোমরবন্ধে তাঁর উপস্থিতি আলো ছড়ায়। গুজরাটি লোকউৎসবের ঐতিহ্যবাহী সাজপোশাক থেকে অনুপ্রাণিত এই পোশাকে সুক্ষ্ম সুতোর এমব্রয়ডারি ও আয়নার কারুকাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। লাল, নীল, সবুজ, আইভরি ও মাটির কাছাকাছি রঙের বৈচিত্রে তৈরি ঘেরওয়ালা স্কার্টটির নিচের চওড়া পাড়ে রয়েছে ভারী নকশার স্তর, যা আলোর প্রতিফলনে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্কার্টের রঙের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে গভীর গলার ছোট হাতার ব্লাউজ। এর সঙ্গে এক কাঁধে পরিপাটি করে ভাঁজ করে রাখা গাঢ় বেগুনি ওড়নাটি সামগ্রিক রূপসজ্জায় আধুনিকতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
পোশাকের পাশাপাশি জাহ্নবীর আনুষঙ্গিক অনুষঙ্গগুলোও পেয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। তাঁর কোমরে জড়ানো সোনালি কোমরবন্ধটি ছোট ব্লাউজ ও বড় ঘেরের লেহেঙ্গার সিলুয়েটকে সুনির্দিষ্ট রূপ দিয়েছে। গয়না হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন মুক্তা ও রঙিন রত্নখচিত জমকালো চোকার, দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী কানের দুল এবং হাতে একগুচ্ছ চুড়ি। কপালে ছোট লাল টিপ এবং মাঝখানে সিঁথি কেটে বাঁধা পরিপাটি খোঁপা সাজানো হয়েছিল সাদা, হলুদ ও ম্যাজেন্টা রঙের তাজা ফুলে। পোশাকের চাকচিক্যের কথা মাথায় রেখে রূপটানে রাখা হয়েছিল পরিমিতিবোধ—চোখে হালকা ঝিলমিলে আভা ও সুস্পষ্ট রেখা, গালে মৃদু কনট্যুর এবং ঠোঁটে শোভা পেয়েছে হালকা বেরি রঙের লিপস্টিক।
রূপালি পর্দায় গুজরাটি উৎসবের এমন বর্ণাঢ্য সাজ বহু আগেই স্মরণীয় করে রেখেছেন বলিউড নায়িকারা। ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ চলচ্চিত্রের ‘ঢোলি তারো ঢোল বাজে’ গানে ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, ‘গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’র ‘নগাড়া সঙ্গ ঢোল’ গানে দীপিকা পাড়ুকোন কিংবা ‘গঙ্গুবাই কাঠিয়াওয়াড়ি’র ‘ঢোলিডা’ গানে আলিয়া ভাটের পোশাকেও দেখা গেছে আয়না ও সুতোর কাজের একই নান্দনিক রূপ। অনামিকা খান্নার সৃষ্টিতে সেই ঐতিহ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে জাহ্নবী কাপুর দেখালেন কীভাবে অতীত ও বর্তমানের নিখুঁত সংমিশ্রণে সমকালীন উৎসবের সাজ হয়ে উঠতে পারে অনন্য।





আপনার মতামত লিখুন