খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী

সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করছে জামায়াত: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক: সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই অনিয়মের কাল্পনিক অভিযোগ তুলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বিতর্কিত করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে রাজনৈতিক দলগুলোর সমসাময়িক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এই অভিযোগ করা হয়। বক্তারা দাবি করেন, একটি শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সুপরিকল্পিতভাবে মনগড়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করেই নানা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে উল্লেখ করে বলা হয়, জনগণের কাছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে হেয় প্রতিপন্ন করাই এসব অপতৎপরতার মূল লক্ষ্য। তবে সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং এই ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত হবে না বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক একটি উপনির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ধরনের নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে নাগরিকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও সতর্ক রয়েছে।

স্মরণসভার মূল অংশে প্রয়াত রাজনৈতিক নেতাদের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামের দিনগুলোতে নির্যাতন ও কারাবাসের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা সীমাহীন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বহু নেতাকে চিকিৎসাবঞ্চিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

advertisement
advertisement

পাস করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিশ্চয়তা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাস করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিশ্চয়তা

পাস করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে অনিশ্চয়তা

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সম্পূরক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলেও ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী কয়েকটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এই শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সম্পূরক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হলেও এর ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বরের দিকে। অথচ দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সময়ের অনেক আগেই ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাবে। ফলে সম্পূরক পরীক্ষায় পাস করা সত্ত্বেও এই শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফলাফল হাতে না পাওয়ায় চলতি শিক্ষাবর্ষে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন ও পরীক্ষার সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হবে আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২৫ নভেম্বর এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। অথচ এই সময়ের বেশ কিছুদিন পর সম্পূরক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আবেদন করার নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর ফলাফল প্রকাশ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় নির্দিষ্ট জিপিএ অর্জনের পাশাপাশি অন্য প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এইচএসসিতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত সনদ বা নম্বরপত্র না পাওয়া পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রদর্শন করতে পারছেন না। ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পর্যায়ক্রমে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও এখনো আবেদন শুরু হয়নি, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান এখনো পুরো সূচি প্রকাশ করেনি। ফলে যেসকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফলাফল প্রকাশের আগেই আবেদন শেষ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে এই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন একপ্রকার থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সার a সার্বিক পরিস্থিতিতে সম্পূরক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হারাতে বসা এসব শিক্ষার্থী চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত পড়াশোনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাদের জন্য এই জটিলতা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা তাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক আবদুস সালাম জানিয়েছেন যে এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা এলেও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একইভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য শিক্ষা অধ্যাপক আল-আমিন জানিয়েছেন বিষয়টি নতুন হওয়ায় প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সমন্বয় করতে ভর্তি কমিটির সভায় আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি শিক্ষাবর্ষের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া লাখ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি বড় অংশ কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হওয়ায় উচ্চশিক্ষার আসনগুলোতে তীব্র শিক্ষার্থী সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার এই নিম্ন পাসের হার সরাসরি দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সমমানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান শিক্ষাবর্ষে মোট আসন সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে রয়েছে বিশাল সংখ্যক আসন এবং বাকি আসনগুলো রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। অথচ সম্প্রতি প্রকাশিত ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা এই মোট আসনের তুলনায় অনেক কম। ফলে সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্ধেকের বেশি আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এক নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি আসন, যেখানে অনার্স ও ডিগ্রি কোর্সে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানেও রয়েছে নির্দিষ্টসংখ্যক আসন। প্রথাগতভাবে শিক্ষার্থীরা প্রথমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চেষ্টা করেন এবং সেখানে আসন না পেলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তবে সামগ্রিক পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এবার এই প্রথাগত ধারায় বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটতে পারে।

শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বড় ধাক্কার মুখে পড়বে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, এই সংকট সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সমানভাবে না পড়লেও মাঝারি ও নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মক শিক্ষার্থী সংকটে পড়বে। দেশের প্রথম সারির নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে কিছুটা সামলে নিতে পারলেও অপেক্ষাকৃত ছোট ও নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর্থিক ও একাডেমিক উভয় দিক থেকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

৩৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, ইউএনও বলছেন ২৪—বাকি ৯ বস্তা কোথায়

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৩৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, ইউএনও বলছেন ২৪—বাকি ৯ বস্তা কোথায়

৩৩ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, ইউএনও বলছেন ২৪—বাকি ৯ বস্তা কোথায়

জাতীয় ডেস্ক: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় দুস্থ ও জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি চাল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় জব্দের ঘটনা ঘটেছে। এই চালের পরিমাণ নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার দিন বিকেলে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুটি অটোরিকশায় করে চালগুলো গোপনে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার তৎপরতায় রানীরহাট রাস্তার মাথা এলাকায় অটোরিকশা দুটিসহ চালগুলো আটক করা হয়। অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা এই খাদ্যপণ্য এভাবে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিএনপি নেতা কাজল ও রবিউল দাবি করেছিলেন যে ওই অটোরিকশা দুটিতে মোট ৩৩ বস্তা সরকারি চাল ছিল। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে ফোনে জানানো হয় এবং তার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালগুলো জব্দ করে উপজেলা কার্যালয়ে নিয়ে নিরাপদ হেফাজতে সংরক্ষণ করা হয়। তবে চাল জব্দের প্রাথমিক দাবির সঙ্গে পরবর্তীতে হিসাবের গরমিল পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ধূম্রজাল তৈরি হয়।

এদিকে চালের প্রকৃত পরিমাণ নিয়ে শুরু হওয়া রহস্যের জট এখনো পুরোপুরি খোলা সম্ভব হয়নি। ৩৩ বস্তা চাল জব্দের দাবি করা হলেও পরবর্তীতে বিএনপির ওই দুই নেতার পক্ষ থেকে জানানো হয় সেখানে মূলত ২৪ বস্তা চাল ছিল। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন তার কার্যালয়ে ২৪ বস্তা সরকারি চাল পৌঁছানোর কথা নিশ্চিত করেছেন। চালের এই পরিমাণের অসংগতি এবং বাকি ৯ বস্তা চালের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে প্রশাসন জানিয়েছে যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান জোবায়েদ মিয়া এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে তিনি ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন না এবং দুপুরের দিকে বাড়িতে যাওয়ার পর ফোনে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। জনপ্রতিনিধির এমন বক্তব্যে ঘটনার নেপথ্য রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সরকারি চাল বিতরণের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কীভাবে তা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাইরে নেওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

হতদরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল নিয়ে এই ধরনের অনিয়মের ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয়রা। জব্দ করার পর থেকে উপজেলা কার্যালয়ে চাল পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখে বাকি ৯ বস্তার সঠিক হিসাব উদঘাটনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি চাল কোথা থেকে, কার বা কাদের নির্দেশে এবং ঠিক কোথায় পাচার করা হচ্ছিল—তা উদ্ঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।