খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

বাজে ব্যাটিংয়েই দিন শেষ করল বাংলাদেশ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বাজে ব্যাটিংয়েই দিন শেষ করল বাংলাদেশ

বাজে ব্যাটিংয়েই দিন শেষ করল বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক: মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতার কারণে দ্রুত উইকেট হারাতে হয়েছে দলকে। ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতার কারণে খেলা ব্যাহত হলেও উইন্ডিজদের বিপক্ষে লিড পেলেও বড় সংগ্রহের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ ওভার ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান সংগ্রহ করেছে স্বাগতিকরা। উইকেটে টিকে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ১৮ রান করে অপরাজিত থাকা নাঈম হাসান ও জাকের আলী অনিক।

ম্যাচের এই পর্যায়ে এসে শেরেবাংলার উইকেট ক্রমশ স্পিনবান্ধব হয়ে উঠছে এবং বল নিচু হয়ে যাওয়ায় ব্যাটারদের জন্য কাজটা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত এই টেস্টে পতন হওয়া ২৬ উইকেটের মধ্যে কুড়িটিই দখল করেছেন দুই দলের স্পিনাররা, যা উইকেটের চরিত্র স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। এর আগে দিন শুরু করে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রান পর্যন্ত সংগ্রহ করে, ফলে বাংলাদেশ মাত্র ২৭ রানের স্বল্প লিড পায়। বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে নাঈম হাসান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেন।

স্বল্প লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই কোনো রান না করে জেইডেন সিলসের বলে আউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। এর কিছু সময় পর সাদমান ইসলাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও থিতু হতে পারেননি। দলীয় স্কোরে রান যোগ করার আগেই একে একে সাজঘরে ফেরেন সাদমান ও তৌহিদ হৃদয়। ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পেয়ে মুমিনুল হক ছিটকে যাওয়ায় কনকাশন সাব হিসেবে নামা জাকের আলী এবং নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর দলের ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব পড়ে।

মাত্র ৩৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম বিপদে, তখন বৃষ্টি ও আলো স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই চা পানের বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর খেলা শুরু হলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো অব্যাহত থাকে বাংলাদেশের। বিশেষ করে স্পিন আক্রমণের সামনে বাংলাদেশি ব্যাটারদের টেকনিক্যাল দুর্বলতা আরও একবার প্রকট হয়ে উঠেছে। উইকেটের ফায়দা নিয়ে ক্যারিবীয় বোলাররা চাপ বজায় রাখায় স্বাগতিক দলের লিড বড় করা বেশ দুরূহ হয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত নাঈম ও জাকরের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে কোনোমতে একশ রানের কোটা পার করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ দল।

ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতিতে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ দল কেমন প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। উইকেটের যে আচরণ তাতে বড় লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব না হলেও দুই শ রানের কাছাকাছি বা তার বেশি সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারলে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে আনা সম্ভব হতে পারে। তবে লো স্কোরিং এই টেস্টে জয়ের জন্য ক্যারিবীয় বোলারদের মোকাবিলা করতে ব্যাটারদের অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। শেরেবাংলার ঐতিহাসিক উইকেটে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা সব সময়ই কঠিন চ্যালেঞ্জ, আর তাই এই টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণে শেষ দুই দিনের খেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

advertisement
advertisement

রাজশাহীতে শিশু থিয়েটারের ৩৪তম বর্ষপূর্তি উৎসব

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাজশাহীতে শিশু থিয়েটারের ৩৪তম বর্ষপূর্তি উৎসব

রাজশাহীতে শিশু থিয়েটারের ৩৪তম বর্ষপূর্তি উৎসব

বিনোদন ডেস্ক: সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্প্রতি রাজশাহীতে বরেন্দ্র শিশু থিয়েটারের চৌত্রিশতম বর্ষপূর্তি উৎসব উদ্‌যাপিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই নাট্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা, আলোচনা সভা এবং নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের মাধ্যমে উৎসবটি মুখরিত হয়ে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে আসা নাট্যপ্রেমী ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা এই আনন্দ আয়োজনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। তাদের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ আলমগীর, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শহীদ ইকবাল এবং রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শিখা রানী সরকার, আন্তর্জাতিক রবীন্দ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মতিউর রহমানসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বরেন্দ্র শিশু থিয়েটারের সম্পাদক ইকবাল আলী। পরে আয়োজক কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের বক্তারা শিশু থিয়েটারের দীর্ঘ পথচলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। সংহিতা রায় ও অঙ্কনা সেনের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর শিক্ষক নিমাই চন্দ্র সরকার। বক্তারা নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতির আলোয় বড় করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উৎসবের একটি অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী রচিত দুটি নতুন গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন পর্ব। আমন্ত্রিত অতিথিরা 'বিশ্বকবি: বিশ্বের বিস্ময়' এবং 'বাংলাভাষা ও ব্যাকরণের মেলবন্ধন' নামক গ্রন্থ দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় আলোচকরা লেখকের সাহিত্যকর্মের গভীরতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার সৃজনশীল লেখনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ নায়িকা

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:০২ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ নায়িকা

নগ্ন দৃশ্যের শুটিংয়ে বহিরাগত, ক্ষুব্ধ নায়িকা

বিনোদন ডেস্ক: অস্কারজয়ী জনপ্রিয় হলিউড অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স তাঁর অভিনয় জীবনের এক অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। একটি বিশেষ দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন সেটে অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁকে দারুণভাবে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শুটিং সেট বেশ কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

জানা গেছে, ঘটনার সময় ক্যামেরা এবং সেটের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কঠোর নিয়ম থাকার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সাহসী দৃশ্যের কাজ চলার সময়ে হঠাৎ করেই সেখানে বেশ কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এই আকস্মিক পদক্ষেপে পুরো শুটিং ইউনিট কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

দৃশ্যটির সংবেদনশীলতার কারণে এমন অনাহূত উপস্থিতি অভিনেত্রীকে মানসিকভাবে বেশ বিপাকে ফেলে দিয়েছিল। জেনিফার লরেন্স এই ঘটনার পর নিজের ক্ষোভ ও অসন্তোষ কোনোভাবেই লুকিয়ে রাখেননি। তিনি প্রকাশ্যে জানান যে, অভিনয়শিল্পীদের কাজের পরিবেশ এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি, যা সেদিন মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছিল।

হলিউড অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা শিল্পীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাদার চলচ্চিত্র নির্মাণে এ ধরনের ত্রুটি শুধু শিল্পীদের অসম্মান করে না, বরং কর্মপরিবেশের শৃঙ্খলাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে শুটিং সেটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

খাগড়াছড়িতে কঠিন চীবর দান, মাসব্যাপী উৎসব শুরু

ধর্ম ডেস্ক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান উদ্যাপিত হয়েছে। এই ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার পুণ্যার্থী শহরের প্রধান বিহারগুলোতে সমবেত হন। নানা বয়সের মানুষের অংশগ্রহণে পুরো বিহার প্রাঙ্গণ এক আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আনন্দের বার্তা বয়ে আনে।

দিনের কর্মসূচি শুরু হয় সকালে পুণ্যার্থীদের পঞ্চশীল গ্রহণের মধ্য দিয়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান, সংঘদান, কল্পতরু দান এবং ভিক্ষুদের পিণ্ডদানসহ বিভিন্ন পবিত্র আচার সম্পন্ন করা হয়। দুপুরের দিকে শুরু হয় ধর্মীয় আলোচনা ও দেশনা, যেখানে বৌদ্ধ ধর্মের মূল বাণী ও অহিংসার বার্তা তুলে ধরা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে পুণ্যার্থীরা নিজেদের আত্মশুদ্ধি ও পুণ্য অর্জনের প্রার্থনা করেন।

এই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও শ্রমসাধ্য দিক হলো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা প্রস্তুত করে কাপড় বুনে ভিক্ষুদের চীবর তৈরি করা। অত্যন্ত নিখুঁত ও কঠিন এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি বিশেষ চীবর পরে ভিক্ষু সংঘের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যা এই উৎসবের মূল তাৎপর্য বহন করে। খাগড়াছড়ির য়ংড বৌদ্ধ বিহারসহ জেলার বিভিন্ন বিহারে একই নিয়মে এই আচার পালন করা হয়।

সন্ধ্যায় য়ংড বৌদ্ধ বিহারে চৌরাশি হাজার প্রদীপ প্রজ্বালন এবং আকাশছোঁয়া ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। এছাড়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসা থোয়াই মারমাসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন বিহারের অধ্যক্ষ ও কমিটির নেতৃবৃন্দ এই বর্ণিল আয়োজনে অংশ নেন। উল্লেখ্য, এই প্রধান দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে মাসব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের সূচনা হলো।