খুঁজুন
advertisement
advertisement
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক: উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বদা বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে তাদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদান এবং সামরিক শিক্ষার প্রসারে তার দূরদর্শী ভূমিকার কথা সশ্রদ্ধচিত্তে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, গত বছর সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, সমাজে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি মনে করেন, একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিকল্প নেই। দেশের তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্বকে এই যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বর্তমান যুগের বহুমুখী নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল সামরিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হামলা, আন্তদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো এখন নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নীতিনির্ধাতকদের অধিকতর সতর্ক ও দূরদর্শী হতে হবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অপপ্রচার জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন, বিশ্লেষণক্ষম এবং উদার মানসিকতার নেতৃত্ব গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয় এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবকিছুর ওপরে স্থান দিতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহি বজায় রেখে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে অর্জিত এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে। সবশেষে, সংঘাত ও দূরত্ব পরিহার করে সংলাপ এবং শান্তির পথ অনুসরণের মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপ্রধান। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান।

advertisement
advertisement

মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ

আইন-আদালত ডেস্ক: আইনগত লড়াইয়ের পর অবশেষে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর আখতারুজ্জামানের জামিন আদেশ বহাল রেখেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর মাধ্যমে তার কারামুক্তির পথে আর কোনো আইনি বাধা রইল না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। রাষ্ট্রপক্ষের করা একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জামিন লাভ করেছিলেন এই রাজনৈতিক নেতা। তবে হাইকোর্টের দেওয়া ওই জামিন আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষ এবং এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে চ্যালেঞ্জ জানায় তারা।

সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালতে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ ও বিস্তারিত যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন।

চেম্বার আদালতের এই আদেশের ফলে হাইকোর্ট থেকে মেজর আখতারুজ্জামানের পাওয়া জামিন আদেশটি এখন সম্পূর্ণ বহাল থাকল। সার্বিক আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও জামিন সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ

২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ

শিক্ষা ডেস্ক: চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পুনর্বীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসের প্রথম দিন থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হবে। শুধু পরীক্ষাই নয়, বরং একই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ওই শিক্ষার্থীদের ফলাফলও প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার সুযোগ পাবে।

এর আগে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল ফলাফল প্রকাশিত হয়। ওই প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী সারা দেশে সামগ্রিক পাসের হার ছিল বাহান্ন দশমিক ১২ শতাংশ। এছাড়া এই পরীক্ষায় মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল একষট্টি দশমিক শূন্য সাত শতাংশ এবং সেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ঊনপঞ্চচল্লিশ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮৮৬ জন।

তবে এবারের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কৃতকার্য হতে পারেনি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে এবং ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে। ফল প্রকাশের দিনই শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ পুনর্বীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মূলত তাদের সেই ঘোষণার আলোকেই এখন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে চলতি বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর এই বিশেষ পুনর্বীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের কোনো দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করে ফলাফল প্রকাশ করা হলে শিক্ষার্থীরা দ্রুত উচ্চ শিক্ষায় প্রবেশ বা পরবর্তী প্রস্তুতি নেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবে।

১০ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক, সিদ্ধান্ত ব্যক্তিনির্ভর: টিআইবি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
১০ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক, সিদ্ধান্ত ব্যক্তিনির্ভর: টিআইবি

১০ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক, সিদ্ধান্ত ব্যক্তিনির্ভর: টিআইবি

জাতীয় ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা চরমভাবে অনুপস্থিত রয়েছে এবং বড় একটি অংশের নেতৃত্ব পরিবারকেন্দ্রিক ও ব্যক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। দেশের রাজনৈতিক সংস্করণে কাঠামোগত দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব কীভাবে জেঁকে বসেছে, তা এই বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে। দলগুলোর নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় সাধারণ নেতাকর্মীদের মতামতের চেয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির একক আধিপত্য বেশি প্রভাব বিস্তার করছে।

গবেষণাটিতে দেশের বিভিন্ন মতাদর্শের মোট বত্রিশটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালি ও গঠনতন্ত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে টিআইবি জানিয়েছে, এসব দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতাকর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা সবসময় মূল্যায়িত হয় না। এর পরিবর্তে পারিবারিক উত্তরাধিকার, আর্থিক সচ্ছলতা কিংবা শোবিজ অঙ্গনের তারকাখ্যাতি নেতৃত্বের আসনে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে কাজ করে। এর ফলে রাজনীতিতে সাধারণ ও তৃণমূল কর্মীদের প্রকৃত মূল্যায়ন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে যে, শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে দল পরিচালিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে একধরনের অগণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্ম হচ্ছে। ক্ষমতার এই কেন্দ্রীভূত রূপের কারণে দলের অভ্যন্তরে ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে একই পরিবার বা ব্যক্তির হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তরুণ ও উদীয়মান নেতৃত্ব যথাযথ বিকশিত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে সামগ্রিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

রাজনীতিতে এই ধরনের পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক নির্ভরতা দূর করতে দলগুলোর ভেতরে অভ্যন্তরীণ সংস্কার আনয়নের জোরালো তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গঠনতন্ত্রের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সব স্তরে নিয়মিত ও স্বচ্ছ কাউন্সিল আয়োজনের মাধ্যমে প্রকৃত গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরাই যদি অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চায় ব্যর্থ হয়, তবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।