খুঁজুন
advertisement
advertisement
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে বিতর্ক: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদ ছাড়ছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে পিস্তলের ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে ভিডিওর কিছু অংশে আগ্নেয়াস্ত্রের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়

পারিবারিক ঐতিহ্য, রাজপথের সংগ্রাম ও মেয়র নির্বাচনের দৌড় দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে অবস্থান তৈরি করেছিলেন ইশরাক হোসেন। প্রথম দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর আসন পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত আট মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা ছাড়তে হচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদকে। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র উঁচিয়ে চালানো সেই অভিযানের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে ডেকে নিয়ে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপরই আজ সকালে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইশরাক জানান যে তিনি দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের মাধ্যমে ১৮ বছর পর ক্ষমতায় ফেরে বিএনপি। পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার বা বাহাদুরি প্রদর্শনের বিপরীতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সংযত আচরণের বিষয়ে জনমনে গভীর প্রত্যাশা তৈরি হয়। সরকারের এই মেয়াদে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে গত মাসেই মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার জেরে দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ইশরাকের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ পেল, যা ক্ষমতাসীন দলের অন্যান্য নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী এবং অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সাংগঠনিক ভিত্তির ওপর ভর করেই রাজনীতিতে পা রাখেন তাঁর ছেলে ইশরাক। ২০১৯ সালের ৪ নভেম্বর বাবার প্রয়াণের পর তিনি পুরান ঢাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন। বিদেশে প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই ব্যবসায়ী ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হন এবং ঢাকা দক্ষিণের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে জয়ী হয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি।

এর আগেও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একাধিকবার বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে হারের পর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করে এবং নির্বাচন কমিশন গেজেট জারি করে। কিন্তু তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে শপথ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। মেয়রের দায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁর সমর্থকেরা নগর ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করলে নাগরিক সেবা মারাত্মক বিঘ্নিত হয়। সে সময় ইশরাক নিজেও সেখানে গিয়ে নিজ উদ্যোগে শপথ নিয়ে মেয়রের চেয়ারে বসার হুমকি দেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন ও ভোটাধিকার রক্ষার যুক্তি দিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মেয়রের দায়িত্ব পাননি, উল্টো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও অপরিণামদর্শিতার কারণে দলের ভেতরে-বাইরে সমালোচিত হন।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনার মুখোমুখি হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি ছিলেন। সেখানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে আপত্তি তুলে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বদলে ক্ষুব্ধ হয়ে ইশরাক বলেন, ‘আপনারা কি নিজেদের জাহির করার জন্য এসেছেন? ডকুমেন্টারি দেখানোর জন্য এসেছেন? কী করছেন আপনারা? শহীদদের জন্য কী করেছেন? শহীদদের জন্য আপনারা কিছুই করেননি।’ এতে হট্টগোল বাড়লে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেন সবাইকে শান্ত করেন। এছাড়া গত জুলাইয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে তিন বাহিনীর প্রধানদের পাশাপাশি ইশরাকও সামরিক কায়দায় স্যালুট দিয়ে ট্রলের শিকার হন। তখন ফেসবুকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি লিখেছিলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা উঠলে শ্রদ্ধায় আমার হাত স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্যালুটে উঠে যায়। আমার হাত দিয়ে আমি বীর শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট দিয়েছি। হাত আমার, সম্মান জানিয়েছি সর্বজনশ্রদ্ধেয় বীরদের। দেশ আমার গণতান্ত্রিক; আমার ইচ্ছায় আমি স্যালুট দিয়েছি। যতবার ইচ্ছা হবে, যখন ইচ্ছা হবে, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্যালুট জানাব।’

বিশ্লেষকদের মতে, গেন্ডারিয়ার মাদকবিরোধী অভিযানে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো আচরণ এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের অতিরিক্ত প্রবণতাই তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেন, ‘ইশরাকের কর্মকাণ্ড ছিল ক্ষমতার প্রদর্শন, অপরিপক্বতা, হামবড়া ভাবের একটা জ্বলন্ত উদাহরণ। তাঁর পরিণতিবোধের অভাবের কারণে সরকারের বদনাম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটা অন্যদের জন্য একটা কড়া বার্তা।’ তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকলেও মন্ত্রিত্ব হারানোর এই ঘটনা দলীয় পরিচয় বা পারিবারিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বের জবাবদিহিতার নীতিকেই তুলে ধরছে। একই সাথে গেন্ডারিয়ার ওই অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা ও সার্বিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্তের দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহলে।

advertisement
advertisement

জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণ: আহত চালককে নিয়ে নিজেই হাসপাতালে ছোটেন তারকা, তদন্তে ১৫ দল

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জুহুতে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণ: আহত চালককে নিয়ে নিজেই হাসপাতালে ছোটেন তারকা, তদন্তে ১৫ দল

অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতনামা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে মুম্বাই পুলিশ

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনার জেরে অজ্ঞাতপরিচয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলাকারীদের পাকড়াও করতে গঠন করা হয়েছে ১৫টি বিশেষ দল। পালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত সন্দেহে আন্ধেরি রেলস্টেশনের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। এদিকে লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দায় স্বীকারের একটি বার্তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা, যদিও এই গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পুলিশ এখনও নিশ্চিত করেনি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় ফুটবল ম্যাচ শেষে ফেরার পথে হামলার মুখে পড়েন টাইগার। সে সময় তাঁর গাড়ি নিশানা করে পাঁচটি গুলি চালানো হয়। অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তাঁর চালক ফেরদৌসের বাঁ হাতে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত উমেশ চবন নামের আরেক ব্যক্তির শরীরে গুলি লাগে। তবে বর্তমানে তাঁরা দুজনই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, ফুটবল খেলে বের হওয়ার পর ভক্তদের অভিবাদন জানিয়ে গাড়িতে উঠছিলেন টাইগার। হঠাৎই দুই হামলাকারী গাড়ির কাছে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে এবং তাদের আরেক সহযোগী পালানোর জন্য মোটরসাইকেল প্রস্তুত রাখে। গুলির একপর্যায়ে এক হামলাকারীর অস্ত্র অকেজো হয়ে গেলে তারা দ্রুত মোটরসাইকেলে চড়ে চম্পট দেয়। চালক ফেরদৌস রক্তাক্ত হলে পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে ওঠে। সে সময় এক নারীর ‘তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও, টাইগার’ চিৎকারের মধ্যে অভিনেতা কালবিলম্ব না করে নিজেই বিএমডব্লিউর স্টিয়ারিং ধরে চালককে নানাবতী হাসপাতালে নিয়ে যান। গাড়িটি চলে যাওয়ার পর রাস্তায় রক্তের চিহ্ন দেখা যায়।

ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলের চেসিস নম্বর ও নম্বরপ্লেটের সূত্র ধরে মালিকানা যাচাই করা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পালানোর পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। আহত চালকের জবানবন্দি গ্রহণ করেছে মুম্বাই পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ। হত্যাচেষ্টাসহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও অস্ত্র আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা হয়েছে মামলা। অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধুর নাম ব্যবহার করে বিষ্ণোই চক্রের তরফে এক পোস্টে দাবি করা হয়, টাইগারকে আগেই টেলিফোনে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তিনি তা শোনেননি। এমনকি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদেরও সেখানে নিশানা করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অনিল পণ্ডিতের নামে ছড়িয়ে পড়া এক অডিও বার্তায় ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনায় সালমানকে বিষ্ণোই সমাজের কাছে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশ্যে সালমানকে হত্যার হুমকি দেওয়া লরেন্স বিষ্ণোইয়ের চক্রের বিরুদ্ধেই ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টসের বাইরে গুলিবর্ষণ এবং একই বছরের অক্টোবরে সালমানের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা বাবা সিদ্দিকিকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার পর ইন্ডিয়া টুডেকে টাইগারের বাবা জ্যাকি শ্রফের দল জানিয়েছে যে অভিনেতা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত আছেন, যা শুনে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন মা আয়েশা শ্রফও। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশ টেলিফোনে টাইগারের সঙ্গে কথা বলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। রোববার রাতে সশরীরে অভিনেতার বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। সাক্ষাৎকালে টাইগারের হাতে ব্যান্ডেজ ও শরীরে ড্রেসিং দেখা যায়। পরে সাংবাদিকদের শিন্ডে জানান, সরাসরি গুলি না লাগলেও বারুদ এবং ভাঙা কাচের টুকরোয় সামান্য জখম হয়েছেন টাইগার এবং মা-ছেলে উভয়েই মানসিক ধাক্কায় আছেন। মুম্বাইয়ে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সন্ত্রাসের আধিপত্য বিস্তার বরদাস্ত করা হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়ে পরিবারটিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও সংস্কারকৃত ওসমানী উদ্যানের দ্বার উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাজধানীতে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও সংস্কারকৃত ওসমানী উদ্যানের দ্বার উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সোমবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন করেন

শহীদ পরিবারের স্বজনদের সাথে নিয়ে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ওসমানী উদ্যানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সকাল ১০টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো আবু সাঈদের পিতা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের পিতা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খান আনাসের মাতা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের পিতা মোহাম্মদ শফিউল আলমকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির উন্মোচন করেন। এরপর তিনি সেখানে একটি বৃক্ষরোপণ করেন এবং নবসজ্জিত উদ্যান ও তৎসংলগ্ন পাঠাগার ঘুরে দেখেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক যথাক্রমে আবদুস সালাম ও শফিকুল ইসলাম খান। জুলাই আন্দোলনের বীর শহীদদের অবদান স্মরণীয় করে রাখা এবং নগরবাসীর জন্য আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াসে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।

স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে প্রায় এক একর ভূমির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে ৯০ ফুট উচ্চতার ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’। স্থাপনাটিতে লেজার প্রযুক্তির সাহায্যে ৮৩৪ জন শহীদের নাম খোদাই করা হয়েছে এবং এর সম্মুখভাগে রাখা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক। স্মৃতিস্তম্ভের বহির্ভাগে ১৬৩ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৪ ফুট উচ্চতার এবং অভ্যন্তরে ১৭১ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ ফুট উচ্চতার রিলিফ ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যাতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট প্রতিফলিত হয়েছে।

অন্যদিকে, পুরান ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে অবস্থিত ঐতিহাসিক ২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানকে একটি সবুজ ও নিরাপদ নাগরিক বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দেওয়া হয়েছে। এই আধুনিকায়নে পুরোনো জলাধার সংস্কারের পাশাপাশি নতুন পাঁচটি জলাশয় তৈরি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান বৃক্ষরাজি অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন গাছ রোপণ ও সবুজ চত্বর সাজানো হয়েছে। পার্কে নাগরিকদের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১ কিলোমিটারের পদচারণ পথ, শরীরচর্চাকেন্দ্র, প্যাগোডা, গণশৌচাগার, গাড়ি পার্কিং ও ঘাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া উদ্যানটিতে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার রয়েছে এবং সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে তৈরি করা হয়েছে দ্রুত চলাচলের দোতলা বিশিষ্ট হাঁটার পথ।

বুটেক্সে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু ২৫ অক্টোবর, পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
বুটেক্সে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু ২৫ অক্টোবর, পরীক্ষা ৪ ডিসেম্বর

বুটেক্সে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর ভর্তি ২৫ অক্টোবর শুরু এবং ৪ ডিসেম্বর ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর (এমএসসি) শ্রেণিতে ভর্তির আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের টেক্সটাইল ও ফ্যাশন খাতের জন্য দক্ষ জনবল গড়ে তোলার প্রত্যয়ে ফুলটাইম ও পার্টটাইম এই প্রোগ্রামগুলোতে আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি অনুষদের অধীন বিভিন্ন বিভাগে উচ্চশিক্ষার এই সুযোগ রাখা হয়েছে। এমএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের আওতায় ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং, ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং টেক্সটাইল মেশিনারি ডিজাইন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স—এই সাতটি বিভাগের প্রতিটিতে আসন রয়েছে ১৫টি করে। এ ছাড়া এমএসসি ইন সাসটেইনেবিলিটি ইন টেক্সটাইলস প্রোগ্রামের আওতায় এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ১৫টি এবং এমএসসি ইন ফ্যাশন মার্চেন্ডাইজিং অ্যান্ড রিটেইলিং কোর্সের অধীনে টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের জন্য ১৫টি আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বুটেক্স কিংবা যেকোনো অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় হতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা টেকনোলজিতে বিএসসি ডিগ্রিধারীরা ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর ৪.০০ স্কেলের সিজিপিএ পদ্ধতিতে ন্যূনতম ৩.০০ বা প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে। আগ্রহীদের বুটেক্সের ভর্তিসংক্রান্ত পোর্টালে প্রবেশ করে ‘এমএসসি অ্যাডমিশন’ অপশনের মাধ্যমে পছন্দসই কোর্স নির্ধারণ করে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

নির্ধারিত দুই হাজার টাকা ফি পরিশোধ সাপেক্ষে প্রার্থীরা ২৫ অক্টোবর থেকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এরপর আগামী ৪ ডিসেম্বর ১০০ নম্বরের দেড় ঘণ্টার লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। এই পরীক্ষার সিলেবাসে ডিপার্টমেন্টাল বিষয়ের জন্য ৪০, জেনারেল টেক্সটাইল বিষয়ে ৪০ এবং ইংরেজির ওপর ২০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে।

ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে এবং এর প্রাপ্ত মেধার আলোকেই চূড়ান্ত শিক্ষার্থী তালিকা প্রস্তুত করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে জানা যাবে। এ সংক্রান্ত অতিরিক্ত প্রয়োজনে রেজিস্ট্রার দপ্তরের একাডেমিক শাখার ০১৫৫৪-৯২৬২২০ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগের জন্য বলা হয়েছে।