খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২ কার্তিক, ১৪৩৩
advertisement

‘আমার কাছে তিনি আজীবন সুপারহিরো হয়ে থাকবেন’: দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রীর আহাজারি

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘আমার কাছে তিনি আজীবন সুপারহিরো হয়ে থাকবেন’: দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রীর আহাজারি

দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা। শুক্রবার নেত্রকোনোর দুর্গাপুরের তেলনজিয়ায়

‘আমার স্বামী আমার কাছে ছিলেন এক সুপারম্যান। অন্যরা তাঁকে কীভাবে দেখত জানি না, কিন্তু তিনি সব সময়ই আমার কাছে সুপারহিরো হয়ে থাকবেন। মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাঁর স্মৃতি আমি ভুলতে পারব না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন আনন্দিতা সাংমা। গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটার দিকে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান তাঁর স্বামী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি বেসরকারি আইপি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের ফেসবুক পেজের পরিচালক ছিলেন, যেখানে তিনি নানা অপরাধ ও অনিয়মের তথ্য এবং ভিডিও তুলে ধরতেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের সন্তান। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা আলিফ দুর্গাপুরের গারো সম্প্রদায়ের নারী আনন্দিতা সাংমাকে বিয়ে করে তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন, যদিও নিজ গ্রামেও তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকানের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় আলিফকে। চাচাশ্বশুর বিশু সাংমা বলেন, বাড়ির বাইরে বসে গল্প করার সময় বিকট শব্দ শুনে এগিয়ে গিয়ে তাঁরা আলিফকে গুলিবিদ্ধ দেখেন। তিনি জানান, দুজন গুলি ছুড়ছিল এবং আরও দুজন পাশে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিল; আশপাশের লোকজন আসার আগেই আততায়ীর দল ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। নিহতের বড় ভাই শহীদ ইসলাম ফকিরের দাবি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতা করার কারণেই তাঁর ভাইয়ের বহু শত্রু তৈরি হয়েছিল। তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি রুলি রেমা জানান, তাঁদের জামাতা অত্যন্ত অমায়িক মানুষ ছিলেন। পুরো গারো সম্প্রদায় তাঁকে ভালোবাসত এবং তিনিও তাঁদের ভীষণ আপন করে নিয়েছিলেন।

তেলনজিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চায়ের দোকানের সামনে জমে থাকা রক্ত তখনো শুকায়নি। সেখান থেকে সামান্য দূরে টিনের ঘরের সামনে দুই শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে বিলাপ করছিলেন আনন্দিতা সাংমা। তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন মা শিলা রাংসা এবং দুই ফুফু নিরালা রেমা ও রুলি রেমা। স্মৃতিকাতর আনন্দিতা বলেন, বিয়ের পর থেকে একটি রাতও আলিফ তাঁকে ছাড়া থাকতে পারতেন না এবং নিজের হাতে তাঁকে খাইয়ে দিতেন। তাঁর সহযোগিতাতেই তিনি নার্সিং সম্পন্ন করেন এবং আলিফ তাঁর চাকরির চেষ্টাও করছিলেন। আনন্দিতা জানান, ঢাকা বা সিলেটে চাকরি হলে সেখানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। এখন দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে তিনি কীভাবে বাঁচবেন, সেই শঙ্কায় ভেঙে পড়ে খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও ফাঁসি চান তিনি।

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় থাকা শিলা রাংসা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দুর্গাপুরে এর আগে সোমেশ্বরী নদীর ঘাটে মজিবুর হত্যা, দুর্গাপুর বাজারে এক পুলিশ কর্মকর্তা হত্যা এবং কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিবাসী নেতা সুব্রত সাংমা হত্যাকাণ্ডের মতো কোনো ঘটনারই বিচার হয়নি। এবার তাঁর মেয়েজামাইকে নির্মমভাবে হত্যা করায় তিনি বিচারের আশা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। স্বজনেরা আরও জানান, গত বছরের ১০ নভেম্বরও সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় আলিফকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করেছিল দুর্বৃত্তরা। সে সময় তাঁর এক সহকর্মী এগিয়ে এলে তাঁকেও অস্ত্রের মুখে ধাওয়া করা হয়। ওই ঘটনায় আলিফের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই এজাহারভুক্ত আসামি বর্তমানে জামিনে বাইরে রয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান শনিবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে আলিফের ময়নাতদন্ত শেষে কলমাকান্দার সুনই গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের শরীরে মোট ছয়টি গুলির চিহ্ন রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি বুকে (দুটি ভেদ করে চলে যায়, একটি পিঠে আটকে ছিল), একটি কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং বাকি দুটির একটি মাথার তালুর চামড়া ও অন্যটি ডান কাঁধের চামড়া ভেদ করে। ক্ষতচিহ্ন দেখে তাঁর প্রাথমিক ধারণা, খুব কাছ থেকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে এই গুলিগুলো চালানো হয়েছে।

advertisement
advertisement

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝড়: মাত্র ১৪ বলে ফিফটি হাঁকালেন ফ্রেজার–ম্যাগার্ক

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝড়: মাত্র ১৪ বলে ফিফটি হাঁকালেন ফ্রেজার–ম্যাগার্ক

জেইক ফ্রেজার–ম্যাগার্ক

২০২৩ সালের অক্টোবরে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দ্রুততম শতকের রেকর্ড ভেঙে ক্রিকেটবিশ্বে আলোড়ন তুলেছিলেন জেইক ফ্রেজার–ম্যাগার্ক। সে সময় অজি ক্রিকেটে আলোচনা শুরু হয়েছিল—তিনি কি ডেভিড ওয়ার্নারের উত্তরসূরি হবেন, নাকি লেগ স্পিনের দক্ষতার কারণে পরবর্তী শহীদ আফ্রিদি হয়ে উঠবেন? তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্সের ঘাটতিতে যেন কিছুটা হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। গত বছরের জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বশেষ মাঠে নামা এই ব্যাটার ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলেও সুযোগ পাননি। নিয়মিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেললেও সর্বশেষ আইপিএলের নিলামে ছিলেন অবিক্রীত।

তবে ফ্রেজার–ম্যাগার্ক যে ফুরিয়ে যাননি, অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ওয়ানডে কাপে তা আবারও প্রমাণ করলেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের দৃষ্টিতে ‘অসীম প্রতিভাধর’ এই ব্যাটার অ্যাডিলেডে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৩ বলে ১২২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস উপহার দেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে একাই ২২ রান ও চতুর্থ ওভারে ১৭ রান তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪ বলে ফিফটি ও ৪৯ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। যদিও ২০২৩ সালের মার্শ কাপে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে ছাড়িয়ে গড়া নিজের ২৯ বলে শতকের রেকর্ড ভাঙতে পারেননি, তবে অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির নতুন কীর্তি গড়েছেন ২৪ বছর বয়সী এই ওপেনার।

এই ইনিংসের মাধ্যমে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের ১৮ বলের ফিফটির রেকর্ড ভেঙেছেন ফ্রেজার–ম্যাগার্ক। এই সংস্করণে সব মিলিয়ে এটি যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ফিফটি, যেখানে মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে তিনি ভাঙতে পারেননি বৈভব সূর্যবংশীর ১১ বলে ফিফটির নজির। ক্যারেন রোলটন ওভালে ১০টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসের পর মাঠটিতে তাঁর দুর্দান্ত পরিসংখ্যান আরও উজ্জ্বল হলো। এই ভেন্যুতে খেলা ছয় ইনিংসে তাঁর দুটি সেঞ্চুরি ও একটি ৮৮ রানের ইনিংস রয়েছে, যেখানে গড় ৬৮.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট ২০৪.৯৭। বিপরীতে তাঁর সামগ্রিক লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ৩৭ ইনিংসে ব্যাটিং গড় ২৬.৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩২.৮৩।

শুকিয়ে যাচ্ছে চলনবিল: ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চ সম্ভাবনা কেবল ১ শতাংশ এলাকায়, গবেষণায় অশনিসংকেত

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শুকিয়ে যাচ্ছে চলনবিল: ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চ সম্ভাবনা কেবল ১ শতাংশ এলাকায়, গবেষণায় অশনিসংকেত

শরৎকালে চলনবিলের প্রকৃতি। পাবনার চাটমোহরে

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের বড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটনের স্মৃতিতে শৈশবের চলনবিল ছিল এক অথৈ সমুদ্রের মতো। আগে আশ্বিন গড়িয়ে অগ্রহায়ণ মাস পর্যন্ত সেখানে থইথই পানি থাকলেও এখন এই সময়েই চারপাশ পানিশূন্য রূপ নেয়। কমে গেছে মাছের দেখাও। দেশের অন্যতম এই বৃহৎ জলাভূমির বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির আধার মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং এর মাত্র ১ শতাংশ অঞ্চলে পানির সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’।

চলতি মাসে ‘ডিসকভার জিওসায়েন্স’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষকেরা। রাজশাহী বিভাগের নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গবেষণাটি সম্পন্ন হয়। এর আওতায় নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর, পাবনার চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া এবং সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ ও উল্লাপাড়া উপজেলা অন্তর্ভুক্ত ছিল। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, চলনবিলের মাত্র ৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সঞ্চয় খুব ভালো। বিপরীতে ৩ হাজার ৯৩৩ বর্গকিলোমিটার বা ৭৭ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা মাঝারি এবং ১ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার বা ২২ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

গবেষকেরা ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উপাত্ত, স্যাটেলাইট চিত্র ও জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত, মাটির ধরন, ভূগর্ভস্থ পানির গভীরতা ও উদ্ভিদের পরিবর্তনসহ ১৭টি উপাদান বিশ্লেষণ করেন। এতে তথ্য সংগ্রহ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা, ল্যান্ডস্যাট-৮ স্যাটেলাইট, ক্লাইমেট রিসার্চ ইউনিট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে। গবেষণা দলের সদস্য ওয়াহিদুল আলম জানান, উচ্চ সম্ভাবনাময় অংশে বর্ষায় সর্বনিম্ন ৮ মিটার ও শুকনায় ২০ মিটারে পানি মিললেও কম সম্ভাবনার স্থানে শুকনো মৌসুমে পানি পেতে ৪০ মিটার পর্যন্ত গভীরে যেতে হয়। এলাকার ৪৪ শতাংশ অংশ কাদামাটি হওয়ায় মাটির নিচে পানি প্রবেশে স্বাভাবিকভাবেই বাধা তৈরি হয়।

গবেষণার প্রধান অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহানের মতে, পদ্মা ও যমুনার প্রবাহ কমে যাওয়া এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজে অতিরিক্ত পানি তোলার কারণে চলনবিলের ভূগর্ভস্থ জলস্তর বিপজ্জনকভাবে নেমে যাচ্ছে, যা পরিবেশ বিপর্যয়ের স্পষ্ট লক্ষণ। ১৯৮৫ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সেচের আওতাভুক্ত জমি ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৭৫ হেক্টর থেকে বেড়ে ২৪ লাখ ৪৬ হাজার ৪২৮ হেক্টরে পৌঁছেছে। এছাড়া নাটোরে বিএডিসির তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র যেখানে ছিল ৩৬ হাজার ৫০৫টি, ২০২৫-২৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার ২২৯টি। বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেনও স্বীকার করেছেন যে, সেচযন্ত্রের বৃদ্ধি পানির স্তরে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

একই সাথে অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে এ অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ছিল ১ হাজার ৫৯৫ মিলিমিটার, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭০ মিলিমিটারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মতিন উদ্দিন খান উল্লেখ করেন, বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া ও ভূগর্ভস্থ পানির যথেচ্ছ ব্যবহারই সংকটের মূল কারণ। বিদ্যমান সংকট নিরসনে তিনি চলনবিল অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির বদলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির তাগিদ দেন।

ইবতেদায়ি ও দাখিল বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্রতালিকা প্রকাশ, সংশোধনের সুযোগ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত

BANGLARGORJON
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইবতেদায়ি ও দাখিল বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্রতালিকা প্রকাশ, সংশোধনের সুযোগ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ইবতেদায়ি ৫ম ও দাখিল ৮ম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্রতালিকা কেন্দ্রস্থিত মাদ্রাসার নামসহ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় থাকা কেন্দ্রের মাদ্রাসার নামে কোনো প্রকার সংশোধনের প্রয়োজন থাকলে আগামী ১৭ অক্টোবরের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে ই-মেইলে লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে পরীক্ষার নম্বর কমানো হয়েছে এবং আগামী ১ নভেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, গত এক বছরে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ কমলেও মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।